সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সমাবেশে বাণিজ্যমন্ত্রী ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে বালুচর-ইকোপার্ক সড়ক সিলেটে আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী শাবিতে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় সিসিক প্রশাসক শ্রমিক আন্দোলনের ছবি তুললেই হামলা, কারণ কী? ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ সিলেটে আরও একজনের প্রাণ হানি পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রে প্তা রি পরোয়ানা

সিলেট নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে সিলগালা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৭৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন নগরীর কোনো হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ মিললে সেটি সঙ্গে সঙ্গে সিলগালা করে দেওয়া হবে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তার সেই ঘোষণাই এখন শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, কথার পরেই এসেছে দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। সন্ধ্যা নামলেই অনেক হোটেল রূপ নিত গোপন আস্তানায়, যেখানে তরুণ-তরুণীদের অবাধ যাতায়াত আর অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত গভীর রাত পর্যন্ত। অভিযোগ ছিল, এই ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছিল দালালচক্র, যাদের ছায়ায় কিছু হোটেল মালিকও ছিলেন জড়িত। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও বাস্তব পদক্ষেপ ছিল না। কিন্তু এবার ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর তালতলা এলাকার হোটেল বিলাসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজন নারী-পুরুষকে আটক করে। এর মধ্যে ছিলেন একজন নারী ও চারজন পুরুষ। অভিযোগ তারা সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। অভিযানের পরই হোটেলটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেয় সিলেট মহানগর পুলিশ।

এর আগে ১৩ অক্টোবর দক্ষিণ সুরমার সিলেট রেস্ট হাউস সিলগালা করা হয় একই অভিযোগে। আর সর্বশেষ এক সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে নগরীর আরও দুটি  হোটেল গ্রান্ড সাওদা হোটেল এবং আল সাদী হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই অভিযানে মোট ১২ জন নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়।

এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নগরীর সব হোটেল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট করে সতর্কবার্তা দেন— “যে হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ পাওয়া যাবে, সেটি সিলগালা করা হবে। কেউ রেহাই পাবে না।”

এই ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় পুলিশি অভিযান। গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি পোশাকধারী সদস্যরাও নিয়মিত মাঠে নামছেন। অভিযোগ উঠলেই অভিযান চলছে, এবং সত্যতা মিললেই হোটেল বন্ধ।

তবে পুলিশি অভিযানের এই ধারাবাহিকতা শুধু আইন প্রয়োগ নয় সামাজিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, এমন অভিযান নিয়মিত থাকলে সিলেট আবারও তার নৈতিক মর্যাদা ফিরে পাবে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) ও মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেট মহানগরীতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড রোধে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। গত সপ্তাহে নগরীর বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারটি হোটেল সিলগালা করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা চাই নগরবাসী নিরাপদ এবং নৈতিকভাবে সুরক্ষিত পরিবেশে থাকতে পারে। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে যাতে হোটেলগুলোতে অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করা যায়।’

বছরের পর বছর ধরে নগরীর মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, কাজলশাহ, আম্বরখানা ও তালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল তথাকথিত গোপন ‘মধুচক্র’। এখন সেই চক্রের ওপর পড়েছে পুলিশের কঠোর নজর। প্রতিটি অভিযানে দেখা যাচ্ছে, কমিশনারের কথার বাস্তব রূপ অভিযোগ পেলেই অভিযান, প্রমাণ মিললেই সিলগালা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে সিলগালা

আপডেট সময় : ০১:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন নগরীর কোনো হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ মিললে সেটি সঙ্গে সঙ্গে সিলগালা করে দেওয়া হবে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তার সেই ঘোষণাই এখন শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, কথার পরেই এসেছে দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। সন্ধ্যা নামলেই অনেক হোটেল রূপ নিত গোপন আস্তানায়, যেখানে তরুণ-তরুণীদের অবাধ যাতায়াত আর অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত গভীর রাত পর্যন্ত। অভিযোগ ছিল, এই ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছিল দালালচক্র, যাদের ছায়ায় কিছু হোটেল মালিকও ছিলেন জড়িত। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও বাস্তব পদক্ষেপ ছিল না। কিন্তু এবার ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর তালতলা এলাকার হোটেল বিলাসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজন নারী-পুরুষকে আটক করে। এর মধ্যে ছিলেন একজন নারী ও চারজন পুরুষ। অভিযোগ তারা সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। অভিযানের পরই হোটেলটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেয় সিলেট মহানগর পুলিশ।

এর আগে ১৩ অক্টোবর দক্ষিণ সুরমার সিলেট রেস্ট হাউস সিলগালা করা হয় একই অভিযোগে। আর সর্বশেষ এক সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে নগরীর আরও দুটি  হোটেল গ্রান্ড সাওদা হোটেল এবং আল সাদী হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই অভিযানে মোট ১২ জন নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়।

এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নগরীর সব হোটেল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট করে সতর্কবার্তা দেন— “যে হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ পাওয়া যাবে, সেটি সিলগালা করা হবে। কেউ রেহাই পাবে না।”

এই ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় পুলিশি অভিযান। গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি পোশাকধারী সদস্যরাও নিয়মিত মাঠে নামছেন। অভিযোগ উঠলেই অভিযান চলছে, এবং সত্যতা মিললেই হোটেল বন্ধ।

তবে পুলিশি অভিযানের এই ধারাবাহিকতা শুধু আইন প্রয়োগ নয় সামাজিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, এমন অভিযান নিয়মিত থাকলে সিলেট আবারও তার নৈতিক মর্যাদা ফিরে পাবে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) ও মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেট মহানগরীতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড রোধে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। গত সপ্তাহে নগরীর বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারটি হোটেল সিলগালা করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা চাই নগরবাসী নিরাপদ এবং নৈতিকভাবে সুরক্ষিত পরিবেশে থাকতে পারে। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে যাতে হোটেলগুলোতে অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করা যায়।’

বছরের পর বছর ধরে নগরীর মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, কাজলশাহ, আম্বরখানা ও তালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল তথাকথিত গোপন ‘মধুচক্র’। এখন সেই চক্রের ওপর পড়েছে পুলিশের কঠোর নজর। প্রতিটি অভিযানে দেখা যাচ্ছে, কমিশনারের কথার বাস্তব রূপ অভিযোগ পেলেই অভিযান, প্রমাণ মিললেই সিলগালা।