সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

কাল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ ১২৫ বার পড়া হয়েছে

তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন ওসমানী

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

১০ এপ্রিল এখানে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্র পাঠ করার কথা ছিল * প্রকৃত ইতিহাস প্রকাশ হওয়ার আশঙ্কায় ইতিহাস বিকৃত করে আ.লীগ

ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস কাল (৪ এপ্রিল)। ১৯৭১ সালের এ দিনে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগান বাংলোতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে এখানে দুদফায় বৈঠক করেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক তৎকালীন কর্নেল এমএজি ওসমানী। প্রথম বৈঠকেই তিনি নিজের পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন। এখান থেকেই ১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রটিও পাঠ করার কথা ছিল। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগিনা ভারতে অবস্থানরত শেখ মণিসহ কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার বাগড়ায় তা আর হয়নি। ঐতিহাসিক এ স্থানটি এখনো চরম অবহেলায় পড়ে আছে। দিনে দিনে বিকৃত করা হয়েছে এর ইতিহাসও। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগের বানোয়াট কাহিনি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়ই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে বলে মনে করেন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষকরা।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল এমএজি ওসমানীর শিষ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী গোলাম মোর্তজা বলেন, ওসমানীর সভাপতিত্বে ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগান বাংলোতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর কেএম শফিউল্লাহসহ দেশবরেণ্য সেনা কর্মকর্তারা মুক্তিযুদ্ধ শুরুর লক্ষ্যে বৈঠকে বসেন। এখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ৩টি ব্রিগেডে ভাগ করা হয়। কর্নেল ওসমানী সভা শেষে নিজের পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন। কাজী গোলাম মোর্তজা বলেন, বিগত দিনে মুক্তিযুদ্ধের এই ইতিহাস হাইজ্যাক করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা ইতিহাস বিকৃত করেছে। তেলিয়াপাড়াই মূলত মুজিবনগর নামকরণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এতে ওসমানী সামনে চলে আসবেন বিধায় তা হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার কারণে মুখ দেখাতে পারি না।

ওসমানীর এ শিষ্য বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত কবির উদ্দিন নিজেকে ক্যাপ্টেন বলেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে তেলিয়াপাড়া নিয়ে বিগত দিনগুলোয় ভুয়া ইতিহাস ছড়িয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম বিকৃত ইতিহাস ছেপেছে। আর ইতিহাস বিকৃতির পুরস্কার হিসাবে তিনি কোটি কোটি টাকা লুটপাট করার সুযোগ পেয়েছেন। সেই টাকায় অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তিনি একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

কাজী গোলাম মোর্তজা বলেন, আমি ওসমানীর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই মূলত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিই। আমি তার সরাসরি শিষ্য হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। তার চড় খেয়েছি, ট্রেনিংয়ে ভুল করে তার মার খেয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কাল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস

আপডেট সময় : ০৫:১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন ওসমানী

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

১০ এপ্রিল এখানে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্র পাঠ করার কথা ছিল * প্রকৃত ইতিহাস প্রকাশ হওয়ার আশঙ্কায় ইতিহাস বিকৃত করে আ.লীগ

ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস কাল (৪ এপ্রিল)। ১৯৭১ সালের এ দিনে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগান বাংলোতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে এখানে দুদফায় বৈঠক করেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক তৎকালীন কর্নেল এমএজি ওসমানী। প্রথম বৈঠকেই তিনি নিজের পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন। এখান থেকেই ১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রটিও পাঠ করার কথা ছিল। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগিনা ভারতে অবস্থানরত শেখ মণিসহ কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার বাগড়ায় তা আর হয়নি। ঐতিহাসিক এ স্থানটি এখনো চরম অবহেলায় পড়ে আছে। দিনে দিনে বিকৃত করা হয়েছে এর ইতিহাসও। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগের বানোয়াট কাহিনি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়ই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে বলে মনে করেন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষকরা।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল এমএজি ওসমানীর শিষ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী গোলাম মোর্তজা বলেন, ওসমানীর সভাপতিত্বে ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগান বাংলোতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর কেএম শফিউল্লাহসহ দেশবরেণ্য সেনা কর্মকর্তারা মুক্তিযুদ্ধ শুরুর লক্ষ্যে বৈঠকে বসেন। এখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ৩টি ব্রিগেডে ভাগ করা হয়। কর্নেল ওসমানী সভা শেষে নিজের পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন। কাজী গোলাম মোর্তজা বলেন, বিগত দিনে মুক্তিযুদ্ধের এই ইতিহাস হাইজ্যাক করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা ইতিহাস বিকৃত করেছে। তেলিয়াপাড়াই মূলত মুজিবনগর নামকরণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এতে ওসমানী সামনে চলে আসবেন বিধায় তা হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার কারণে মুখ দেখাতে পারি না।

ওসমানীর এ শিষ্য বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত কবির উদ্দিন নিজেকে ক্যাপ্টেন বলেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে তেলিয়াপাড়া নিয়ে বিগত দিনগুলোয় ভুয়া ইতিহাস ছড়িয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম বিকৃত ইতিহাস ছেপেছে। আর ইতিহাস বিকৃতির পুরস্কার হিসাবে তিনি কোটি কোটি টাকা লুটপাট করার সুযোগ পেয়েছেন। সেই টাকায় অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তিনি একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

কাজী গোলাম মোর্তজা বলেন, আমি ওসমানীর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই মূলত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিই। আমি তার সরাসরি শিষ্য হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। তার চড় খেয়েছি, ট্রেনিংয়ে ভুল করে তার মার খেয়েছি।