সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান ‎শিশু ফাহিমা হত্যা ‎ঘাতক জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবিতে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সিলেট বিভাগের মানববন্ধন দৈনিক ঘোষণার ২০২৬ বর্ষেসেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদক শ্রেষ্ঠ ও সংগঠক সাদিক হোসেন এপলু। যেসব অভ্যাস মেনে চললে কিডনি নিয়ে কখনোই ভাবতে হবে না হবিগঞ্জে ডিজিটাল জামিননামা কার্যক্রম নিয়ে আইনজীবী সহকারীদের প্রশিক্ষণ হবিগঞ্জ মাধবপুরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত পোল্ট্রি খামারিরা হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজারে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযান সিলেট ওসমানী হাসপাতালের পাঁচ তলা থেকে পড়ে রোগীর আত্মহত্যা ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মনোনয়ন গ্রহণ থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সাথে থাই প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ সিলেটে এসএসসিতে শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ফেল ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ

হবিগঞ্জ মাধবপুরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত পোল্ট্রি খামারিরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি :

মাধবপুর উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন পোল্ট্রি খামারিরা। খামার মালিকদের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে ও রাতে মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে খামারে থাকা মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রচন্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ফ্যান, কুলিং সিস্টেম ও পানির সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে খামারের ভেতরে তাপমাত্রা বেড়ে মুরগিগুলো অস্থির হয়ে পড়ছে। অনেক খামারিকে বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের খামারি আশফাক হক বলেন, “আমার খামারে প্রায় ৩ হাজার ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। দিনে-রাতে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে মুরগিগুলো হাঁপিয়ে ওঠে। কয়েকটি মুরগি মারা গেছে। প্রতিদিনই ক্ষতির মুখে পড়ছি।” লোডশেডিং এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জেনারেটর চালিয়ে খামার সচল রাখতে হচ্ছে। ডিজেলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, মূলধন রক্ষা করাই কঠিন হয়ে গেছে।

অপর খামারি নাজমু হক বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে পানির মোটর বন্ধ থাকায় মুরগিরা ঠিকমতো পানি পায় না। এ অবস্থায় খামার পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। “ব্যাংক ঋণ নিয়ে খামার করেছি। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে অনেক খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন সরকার জানান, মাধবপুরে ১১ টি ইউনিয়নে শতাধিক পোল্ট্রি খামার রয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে খামারি পড়েছে মারাত্মক অসুবিধায়।

এ বিষয়ে মাধবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম (অপারেশন) ইউসুফ আলী বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ কম পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময় লোড ম্যানেজমেন্ট করতে হচ্ছে। এছাড়া কিছু এলাকায় রণাবেণ কাজও চলছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

খামারিরা বলছেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পোল্ট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারগুলো মারাত্মক সংকটে পড়বে এবং এর প্রভাব বাজারে মুরগি ও ডিমের সরবরাহেও পড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জ মাধবপুরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত পোল্ট্রি খামারিরা

আপডেট সময় : ০১:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

মাধবপুর প্রতিনিধি :

মাধবপুর উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন পোল্ট্রি খামারিরা। খামার মালিকদের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে ও রাতে মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে খামারে থাকা মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রচন্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ফ্যান, কুলিং সিস্টেম ও পানির সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে খামারের ভেতরে তাপমাত্রা বেড়ে মুরগিগুলো অস্থির হয়ে পড়ছে। অনেক খামারিকে বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের খামারি আশফাক হক বলেন, “আমার খামারে প্রায় ৩ হাজার ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। দিনে-রাতে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে মুরগিগুলো হাঁপিয়ে ওঠে। কয়েকটি মুরগি মারা গেছে। প্রতিদিনই ক্ষতির মুখে পড়ছি।” লোডশেডিং এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জেনারেটর চালিয়ে খামার সচল রাখতে হচ্ছে। ডিজেলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, মূলধন রক্ষা করাই কঠিন হয়ে গেছে।

অপর খামারি নাজমু হক বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে পানির মোটর বন্ধ থাকায় মুরগিরা ঠিকমতো পানি পায় না। এ অবস্থায় খামার পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। “ব্যাংক ঋণ নিয়ে খামার করেছি। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে অনেক খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন সরকার জানান, মাধবপুরে ১১ টি ইউনিয়নে শতাধিক পোল্ট্রি খামার রয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে খামারি পড়েছে মারাত্মক অসুবিধায়।

এ বিষয়ে মাধবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম (অপারেশন) ইউসুফ আলী বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ কম পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময় লোড ম্যানেজমেন্ট করতে হচ্ছে। এছাড়া কিছু এলাকায় রণাবেণ কাজও চলছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

খামারিরা বলছেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পোল্ট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারগুলো মারাত্মক সংকটে পড়বে এবং এর প্রভাব বাজারে মুরগি ও ডিমের সরবরাহেও পড়তে পারে।