সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

হবিগঞ্জে শংকরপাশা শাহী মসজিদ সুলতানী আমলের অপূর্ব স্থাপত্য নিদর্শন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪ ১৮২ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ থেকে মুক্তার হোসেন মোরাদ: বাংলাদেশে সুলতানী আমলের অপূর্ব স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর অন্যতম হবিগঞ্জ জেলার উচাইল গ্রামের শংকরপাশা শাহী মসজিদ। জেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের উচাইল গ্রামে ৬ একর বিস্তৃত ভূমিতে একটি টিলার উপর এই মসজিদ অবস্থিত।
হযরত শাহজালাল (রঃ) এর সিলেট বিজয়ের পর তার যে ১২ জন সহকর্মীকে তরফ অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রেরণ করেন,তাদের অন্যতম ছিলেন শাহ মজলিশ আমীন (রঃ)। তিনিই এখানে প্রথম মসজিদ স্থাপন করেন।

পরবর্তীতে মুসলিম বাংলার স্বনামধন্য শাসনকর্তা সুলতান আলাউদ্দিন হোসাইন শাহের (১৪৯৩-১৫১৯) আমলে এই মসজিদের সুদৃশ্য ইমারতটি নির্মাণ করা হয়। ইমারতটি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি করে। বারান্দা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। মূল ভবনের উপর একটি বড় গম্বুজ এবং বারান্দার উপর অপেক্ষাকৃত ছোট তিনটি গম্বুজ রয়েছে। দরজা জানালার সংখ্যা মোট ১৪টি । জানালাগুলো অনেকটাই দরজা আকৃতির। তিন দিকের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৫ ফুট। পশ্চিম দিকের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় দ্বিগুণ। সামনের প্রাচীরের কার্নিশ ও উপরের ছাদ নির্মিত হয়েছে বাঁকানো ভাবে। প্রধান কক্ষের চারকোণে আর বারান্দার দুই কোণে মোট ৬টি কারুকার্য শোভিত স্তম্ভ রয়েছে।

সুলতানী আমলের স্থাপত্যরীতি পূর্ণাঙ্গ রূপেই প্রকাশ পেয়েছে এই ইমারতে। ইমারতে উন্নতমানের পোড়া ইট কেটে প্রলেপবিহীন দেয়ালে সেটে শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যে সুষমামন্ডিত কারুকার্য সহজেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দেয়ালের বাইরের দিকে ইটের উপর বিভিন্ন নক্সা এবং অলংকরণ, শীলালিপি কালের চক্রে বিনষ্ট হয়ে গেছে। স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে অনন্য এই মসজিদ ভবনের রক্তিম রং সকলকে বিমোহিত করে।

মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে শাহ মজলিশ আমীন (রঃ) এর মাজার। পাশেই বড় দীঘি। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন মানত নিয়ে এখানে হাজির হয়। যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ এর অভাবে দীর্ঘ দিনের এই প্রাচীন মসজিদের সৌন্দর্য্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডভোকেট শামীম আহমেদ জানান, ইদানিং সরকারি অনুদান ও স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় মসজিদের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিকল্পে উন্নয়ন কাজ চলছে। এই ঐতিহাসিক মসজিদ এলাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করণ ও একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ করা আশু প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জে শংকরপাশা শাহী মসজিদ সুলতানী আমলের অপূর্ব স্থাপত্য নিদর্শন

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪

হবিগঞ্জ থেকে মুক্তার হোসেন মোরাদ: বাংলাদেশে সুলতানী আমলের অপূর্ব স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর অন্যতম হবিগঞ্জ জেলার উচাইল গ্রামের শংকরপাশা শাহী মসজিদ। জেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের উচাইল গ্রামে ৬ একর বিস্তৃত ভূমিতে একটি টিলার উপর এই মসজিদ অবস্থিত।
হযরত শাহজালাল (রঃ) এর সিলেট বিজয়ের পর তার যে ১২ জন সহকর্মীকে তরফ অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রেরণ করেন,তাদের অন্যতম ছিলেন শাহ মজলিশ আমীন (রঃ)। তিনিই এখানে প্রথম মসজিদ স্থাপন করেন।

পরবর্তীতে মুসলিম বাংলার স্বনামধন্য শাসনকর্তা সুলতান আলাউদ্দিন হোসাইন শাহের (১৪৯৩-১৫১৯) আমলে এই মসজিদের সুদৃশ্য ইমারতটি নির্মাণ করা হয়। ইমারতটি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি করে। বারান্দা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। মূল ভবনের উপর একটি বড় গম্বুজ এবং বারান্দার উপর অপেক্ষাকৃত ছোট তিনটি গম্বুজ রয়েছে। দরজা জানালার সংখ্যা মোট ১৪টি । জানালাগুলো অনেকটাই দরজা আকৃতির। তিন দিকের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৫ ফুট। পশ্চিম দিকের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় দ্বিগুণ। সামনের প্রাচীরের কার্নিশ ও উপরের ছাদ নির্মিত হয়েছে বাঁকানো ভাবে। প্রধান কক্ষের চারকোণে আর বারান্দার দুই কোণে মোট ৬টি কারুকার্য শোভিত স্তম্ভ রয়েছে।

সুলতানী আমলের স্থাপত্যরীতি পূর্ণাঙ্গ রূপেই প্রকাশ পেয়েছে এই ইমারতে। ইমারতে উন্নতমানের পোড়া ইট কেটে প্রলেপবিহীন দেয়ালে সেটে শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যে সুষমামন্ডিত কারুকার্য সহজেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দেয়ালের বাইরের দিকে ইটের উপর বিভিন্ন নক্সা এবং অলংকরণ, শীলালিপি কালের চক্রে বিনষ্ট হয়ে গেছে। স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে অনন্য এই মসজিদ ভবনের রক্তিম রং সকলকে বিমোহিত করে।

মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে শাহ মজলিশ আমীন (রঃ) এর মাজার। পাশেই বড় দীঘি। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন মানত নিয়ে এখানে হাজির হয়। যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ এর অভাবে দীর্ঘ দিনের এই প্রাচীন মসজিদের সৌন্দর্য্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডভোকেট শামীম আহমেদ জানান, ইদানিং সরকারি অনুদান ও স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় মসজিদের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিকল্পে উন্নয়ন কাজ চলছে। এই ঐতিহাসিক মসজিদ এলাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করণ ও একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ করা আশু প্রয়োজন বলে জানান তিনি।