সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে চাইলে ভিসা আবেদন বাতিল ঢাকা-দিল্লি পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ মে দিবসের র‌্যালি ও আলোচনায় সিসিক প্রশাসক শ্রমিকদের সকল সমস্যার সমাধান হবে সিলেট চাঁদনীঘাটে প্রকল্প উদ্বোধন করলেন- প্রধানমন্ত্রী সিলেটের বাসিয়া নদী পূণঃখনন, নদীর দুই তীরে লাগানো হবে অর্ধলক্ষ গাছ বিএনপি সরকার কৃষকবান্ধব সরকার, সবসময় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে- প্রধানমন্ত্রী সিলেটের শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে বললেন দেশকে একদিন তোমরাই নেতৃত্ব দিবে- প্রধানমন্ত্রী সিলেট ভারতীয় পণ্য ও গ্রেফতার দুই সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেপ্তার ৮৪ সিলেটে গত ২৪ ঘন্টায় হামে ১ শিশুর মৃত্যু

হবিগঞ্জ-১ আসনে লাঙ্গল ও ঈগলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪ ১৪২ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ রাজনীতি সচেতন এলাকা হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জের-১ আসন (নবীগঞ্জ  ও বাহুবল)। নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ১৯৯৬ সাল থেকে টানা তিনবার এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী। ২০১০ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনে এই আসনে এমপি হয়ে চমক দেখান বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া। কিন্তু ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। তখন জাতীয় পার্টি হবিগঞ্জ জেলার তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডা. রেজা কিবরিয়াকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন দেওয়ান ফরিদ গাজীর ছেলে গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মনোনয়নবঞ্চিত হন। মনোনয়ন দেওয়া হয় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীকে। এরপর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মুশফিক হুসেন চৌধুরী। পরে আসন সমঝোতায় দেশের ২৬ আসনের মধ্যে সিলেট বিভাগের একমাত্র আসন হবিগঞ্জ-১ আসন জাপাকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। ছেড়ে দেওয়া আসনে লাঙ্গল পেয়েছেন  সাবেক এমপি  জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন সাবেক সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। এ আসনে এ দুইজনের পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ইসলামি ঐক্যজোট বাংলাদেশের মোস্তাক আহমেদ ফারহানী মিনার প্রতিকে ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মো: নুরুল হক (গামছা) প্রতিক। তবে মূল আলোচনায় সিলেটের একমাত্র জোট প্রার্থী লাঙ্গলের এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু  ও  সত্বন্ত্র প্রার্থী সাবেক সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী ঈগল। আওয়ামী লীগের একাংশ অন্তরালে কেয়ার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। এর ফলে জমে উঠেছে নির্বাচন। স্থানীয় ভোটাররাও বলছেন লাঙ্গল ও ঈগলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

এদিকে মুনিম চৌধুরী বাবুর জয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। এ ছাড়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহেদ (ট্রাক প্রতীক) নির্বাচন থেকে শেষ মুহূর্তে  সরে দাঁড়িয়েছেন।জাতীয় পার্টি প্রার্থী এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু বলেন, এ আসন লাঙ্গলের রাজনীতির উর্বর ভূমি। এ এলাকার মানুষ কখনও ভুল করে না। এলাকার মানুষ কয়েক বার লাঙ্গল প্রার্থীকে  এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক রয়েছে, কিন্তু ব্যক্তির কোনো ভোট ব্যাংক নেই। দলের ও জোটের নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন। বিগত সময়ে আমি এলাকার সাংসদ হিসাবে নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছি। আশা করি লাঙ্গলের  বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী  বললেন, আমার পিতা কমান্ডেন্ট  মানিক চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি প্রার্থী হয়েছি। এবার স্বতন্ত্র হলেও আমি আওয়ামী লীগেরই প্রার্থী। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আমার সঙ্গেই আছেন। এমন কোনো কাজ করিনি যে, মানুষ আস্থা হারাবে। নির্বাচনে আমাদেরই জয় হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জ-১ আসনে লাঙ্গল ও ঈগলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

আপডেট সময় : ০২:৩৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ রাজনীতি সচেতন এলাকা হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জের-১ আসন (নবীগঞ্জ  ও বাহুবল)। নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ১৯৯৬ সাল থেকে টানা তিনবার এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী। ২০১০ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনে এই আসনে এমপি হয়ে চমক দেখান বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া। কিন্তু ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। তখন জাতীয় পার্টি হবিগঞ্জ জেলার তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডা. রেজা কিবরিয়াকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন দেওয়ান ফরিদ গাজীর ছেলে গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মনোনয়নবঞ্চিত হন। মনোনয়ন দেওয়া হয় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীকে। এরপর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মুশফিক হুসেন চৌধুরী। পরে আসন সমঝোতায় দেশের ২৬ আসনের মধ্যে সিলেট বিভাগের একমাত্র আসন হবিগঞ্জ-১ আসন জাপাকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। ছেড়ে দেওয়া আসনে লাঙ্গল পেয়েছেন  সাবেক এমপি  জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন সাবেক সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। এ আসনে এ দুইজনের পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ইসলামি ঐক্যজোট বাংলাদেশের মোস্তাক আহমেদ ফারহানী মিনার প্রতিকে ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মো: নুরুল হক (গামছা) প্রতিক। তবে মূল আলোচনায় সিলেটের একমাত্র জোট প্রার্থী লাঙ্গলের এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু  ও  সত্বন্ত্র প্রার্থী সাবেক সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী ঈগল। আওয়ামী লীগের একাংশ অন্তরালে কেয়ার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। এর ফলে জমে উঠেছে নির্বাচন। স্থানীয় ভোটাররাও বলছেন লাঙ্গল ও ঈগলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

এদিকে মুনিম চৌধুরী বাবুর জয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। এ ছাড়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহেদ (ট্রাক প্রতীক) নির্বাচন থেকে শেষ মুহূর্তে  সরে দাঁড়িয়েছেন।জাতীয় পার্টি প্রার্থী এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু বলেন, এ আসন লাঙ্গলের রাজনীতির উর্বর ভূমি। এ এলাকার মানুষ কখনও ভুল করে না। এলাকার মানুষ কয়েক বার লাঙ্গল প্রার্থীকে  এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক রয়েছে, কিন্তু ব্যক্তির কোনো ভোট ব্যাংক নেই। দলের ও জোটের নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন। বিগত সময়ে আমি এলাকার সাংসদ হিসাবে নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছি। আশা করি লাঙ্গলের  বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী  বললেন, আমার পিতা কমান্ডেন্ট  মানিক চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি প্রার্থী হয়েছি। এবার স্বতন্ত্র হলেও আমি আওয়ামী লীগেরই প্রার্থী। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আমার সঙ্গেই আছেন। এমন কোনো কাজ করিনি যে, মানুষ আস্থা হারাবে। নির্বাচনে আমাদেরই জয় হবে।