সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান নারী হকি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সমাপনী অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক সিলেট গোয়াইনঘাটে অভিযানে ৪ লিস্টার মেশিন ধ্বংস, জরিমানা দেড় লাখ সিলেট শ্রীমঙ্গলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা সিলেট আইনশৃঙ্খলা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৬১ সিলেট উপশহরে ৪নম্বর রোডের ২৯ নম্বর বাসা থেকে পাঁচ তরুণীসহ আটক ৬ সিলেটে জব্দ হল গরু মহিষসহ ভারতীয় পণ্য সিলেটে বনবিভাগে গাছ কাটার মহোৎসব সিলেট সুনামগঞ্জের ছাতকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সিলেটে জালালাবাদ গ্যাস কার্যালয়ে দুদকের অভিযান বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে পরিশোধকরা যাবে সিসিকের হোল্ডিং কর

সিলেটে বনবিভাগে গাছ কাটার মহোৎসব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের উভয় পাশে ছিল সারি সারি গাছ। নগরের টিলাগড় হচ্ছে মহাসড়কটির প্রবেশদ্বার। দুই লেনের এই মহাসড়কটি উন্নিত হবে চার লেনে। তবে টিলাগড় নয়, সুরমা গেইট থেকে শুরু হবে চার লেনের কাজ। সিলেট-ঢাকা ছয় লেন মহাসড়কটি সুরমা গেইটে এসে যুক্ত হবে তামাবিল মহাসড়কে। 


তাই চার লেন প্রকল্পের বাইরে থাকছে মহাসড়কটির টিলাগড়-সুরমা গেইট অংশ। কিন্তু সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দোহাই দিয়ে ওই অংশের হাজারের উপরে গাছ কেটে ফেলেছে বনবিভাগ। অথচ সওজ বলছে, ওই অংশটি তাদের প্রকল্পের মধ্যেই নেই। বনবিভাগ কেন এই অংশের গাছ কাটছে তা তাদের বোধগম্য নয়। 


সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের টিলাগড় থেকে সুরমা গেইট পর্যন্ত অংশের উভয় পাশে সারি সারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সড়কের উভয় পাশে ফেলে রাখা হয়েছে কাটা গাছের টুকরো। গাছের বড় অংশ সড়কের পাশে রেখে ছোট অংশ ও ডালপালা ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মহাসড়কের উভয় পাশজুড়ে চলছে বনবিভাগের গাছ কাটার এই মহোৎসব। স্থানীয়রা জানান, উভয়পাশের এই গাছগুলোই ছিল সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সৌন্দর্য্য। এছাড়া ছায়াবৃক্ষ হিসেবেও গাছগুলো অবদান রাখছিল। কিন্তু বিনা প্রয়োজনে বনবিভাগ গাছগুলো কেটে ফেলায় অবাক স্থানীয় লোকজন। 


গাছ কাটার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার আয়নাল হক জানান, সুরমা গেইট পর্যন্ত ইতোমধ্যে তিনি ৭শ’র অধিক গাছ কেটে ফেলেছেন। গাছ কাটার কাজ চলমান রয়েছে। বনবিভাগের নির্দেশেই তিনি গাছগুলো কাটছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়কটি দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এসে শহরমূখী না হয়ে ডানে মোড় নিয়ে পীর হবিবুর রহমান চত্বর-শাহপরাণ সেতু হয়ে সুরমা গেইট এলাকায় গিয়ে তামাবিল সড়কে যুক্ত হবে। এরপর মহাসড়কটি চারলেন হয়ে তামাবিল স্থলবন্দর যাবে। তাই বর্তমান দুই লেনের তামাবিল মহাসড়কটির চার লেনের কাজ শুরু হবে সুরমা গেইট এলাকা থেকে। কিন্তু এই প্রকল্পের অজুহাত দেখিয়ে সিলেট বন বিভাগ টিলাগড়-সুরমা গেইট পর্যন্ত অংশের প্রায় এক হাজার গাছ কেটে ফেলছে। বনবিভাগের কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে এই অংশের গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। 


গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিলেটের পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে শুধু বৃক্ষ নিধন করতে দেখা যায়, কখনো সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিতে দেখি না। উছিলা পেলেই তারা বৃক্ষ নিধনের উৎসবে মেতে ওঠেন। সিলেট-তামাবিল সড়কে অবাধে গাছ কাটা এরই ধারাবাহিকতা। বনবিভাগ মুলত উন্নয়নের নামে প্রতারণা করেই গাছগুলো কাটছে। 


এ প্রসঙ্গে সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, সওজের আবেদনের প্রেক্ষিতে মহাসড়কের উভয় পাশের গাছ কাটা হচ্ছে। তাই প্রকল্পের বাইরের ছোট অংশের গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। গাছগুলো সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। 


তবে বনবিভাগের দাবি অস্বীকার করে সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, টিলাগড় থেকে সুরমা গেইট পর্যন্ত অংশ চার লেন প্রকল্পের বাইরে। এই অংশের গাছ কাটার কোন প্রয়োজন ছিল না। বনবিভাগকে এই অংশের গাছ কাটার কোন আবেদনও করা হয়নি। তারা কেন কাটছে তা বোধগম্য নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে বনবিভাগে গাছ কাটার মহোৎসব

আপডেট সময় : ০১:১৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের উভয় পাশে ছিল সারি সারি গাছ। নগরের টিলাগড় হচ্ছে মহাসড়কটির প্রবেশদ্বার। দুই লেনের এই মহাসড়কটি উন্নিত হবে চার লেনে। তবে টিলাগড় নয়, সুরমা গেইট থেকে শুরু হবে চার লেনের কাজ। সিলেট-ঢাকা ছয় লেন মহাসড়কটি সুরমা গেইটে এসে যুক্ত হবে তামাবিল মহাসড়কে। 


তাই চার লেন প্রকল্পের বাইরে থাকছে মহাসড়কটির টিলাগড়-সুরমা গেইট অংশ। কিন্তু সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দোহাই দিয়ে ওই অংশের হাজারের উপরে গাছ কেটে ফেলেছে বনবিভাগ। অথচ সওজ বলছে, ওই অংশটি তাদের প্রকল্পের মধ্যেই নেই। বনবিভাগ কেন এই অংশের গাছ কাটছে তা তাদের বোধগম্য নয়। 


সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের টিলাগড় থেকে সুরমা গেইট পর্যন্ত অংশের উভয় পাশে সারি সারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সড়কের উভয় পাশে ফেলে রাখা হয়েছে কাটা গাছের টুকরো। গাছের বড় অংশ সড়কের পাশে রেখে ছোট অংশ ও ডালপালা ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মহাসড়কের উভয় পাশজুড়ে চলছে বনবিভাগের গাছ কাটার এই মহোৎসব। স্থানীয়রা জানান, উভয়পাশের এই গাছগুলোই ছিল সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সৌন্দর্য্য। এছাড়া ছায়াবৃক্ষ হিসেবেও গাছগুলো অবদান রাখছিল। কিন্তু বিনা প্রয়োজনে বনবিভাগ গাছগুলো কেটে ফেলায় অবাক স্থানীয় লোকজন। 


গাছ কাটার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার আয়নাল হক জানান, সুরমা গেইট পর্যন্ত ইতোমধ্যে তিনি ৭শ’র অধিক গাছ কেটে ফেলেছেন। গাছ কাটার কাজ চলমান রয়েছে। বনবিভাগের নির্দেশেই তিনি গাছগুলো কাটছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়কটি দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এসে শহরমূখী না হয়ে ডানে মোড় নিয়ে পীর হবিবুর রহমান চত্বর-শাহপরাণ সেতু হয়ে সুরমা গেইট এলাকায় গিয়ে তামাবিল সড়কে যুক্ত হবে। এরপর মহাসড়কটি চারলেন হয়ে তামাবিল স্থলবন্দর যাবে। তাই বর্তমান দুই লেনের তামাবিল মহাসড়কটির চার লেনের কাজ শুরু হবে সুরমা গেইট এলাকা থেকে। কিন্তু এই প্রকল্পের অজুহাত দেখিয়ে সিলেট বন বিভাগ টিলাগড়-সুরমা গেইট পর্যন্ত অংশের প্রায় এক হাজার গাছ কেটে ফেলছে। বনবিভাগের কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে এই অংশের গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। 


গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিলেটের পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে শুধু বৃক্ষ নিধন করতে দেখা যায়, কখনো সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিতে দেখি না। উছিলা পেলেই তারা বৃক্ষ নিধনের উৎসবে মেতে ওঠেন। সিলেট-তামাবিল সড়কে অবাধে গাছ কাটা এরই ধারাবাহিকতা। বনবিভাগ মুলত উন্নয়নের নামে প্রতারণা করেই গাছগুলো কাটছে। 


এ প্রসঙ্গে সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, সওজের আবেদনের প্রেক্ষিতে মহাসড়কের উভয় পাশের গাছ কাটা হচ্ছে। তাই প্রকল্পের বাইরের ছোট অংশের গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। গাছগুলো সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। 


তবে বনবিভাগের দাবি অস্বীকার করে সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, টিলাগড় থেকে সুরমা গেইট পর্যন্ত অংশ চার লেন প্রকল্পের বাইরে। এই অংশের গাছ কাটার কোন প্রয়োজন ছিল না। বনবিভাগকে এই অংশের গাছ কাটার কোন আবেদনও করা হয়নি। তারা কেন কাটছে তা বোধগম্য নয়।