সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

ভাষা সৈনিক সাবেক এমপি চৌধুরী আব্দুল হাই আর নেই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫ ১০৬ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম পথিকৃৎ, ভাষা সৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ন্যাপ নেতা আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই সাহেব আর নেই ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

হবিগঞ্জ কিডনি ফাউন্ডেশন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস. এম. ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী জানান, আমেরিকা থেকে মরহুমের পরিবার কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই ১১ মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আমেরিকার নিউইয়র্কস্থ নর্থ সোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

তার পরিবারের ইচ্ছায় জানাযার নামাজ শেষে আমেরিকার নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাইতে অবস্থিত মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হবে। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাতের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের নিকট দোয়া কামনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই ১৯৩৯ সালের ২১ মার্চ হবিগঞ্জ শহর সংলগ্ন বহুলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা চৌধুরী আব্দুল গণি এবং মাতা আছিয়া খাতুন চৌধুরী। বহুলা প্রাইমারি স্কুলেই তাঁর লেখাপড়ায় হাতেখড়ি ঘটে। সেখানে বৃত্তিসহ উত্তীর্ণ হয়ে হবিগঞ্জ শহরে তৎকালীন হবিগঞ্জ এমই স্কুলে (বর্তমান হবিগঞ্জ হাইস্কুল এন্ড কলেজ) তিনি ভর্তি হয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পুনরায় বৃত্তি প্রাপ্ত হন।

পরে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে মেট্রিক পরীক্ষায় বৃত্তি সহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে বৃন্দাবন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইএ এবং ১৯৫৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করে হবিগঞ্জ বারে আইনপেশায় ব্রতী হন। ১৯৬৬ সালে তাঁকে মুন্সেফ পদে মনোনয়ন করা হলেও তিনি মুক্ত জীবন ও প্রগতিশীল রাজনীতির টানে সরকারি চাকুরির প্রস্তাব অগ্রাহ্য করেন।

এর আগে ১৯৬৩ সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং ঐ বছরেই ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপের) হবিগঞ্জ মহকুমা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে ন্যাপ ভেঙে গেলে তিনি মোজাফফর ন্যাপে যোগদান করেন। সেই থেকে তিনি মোজাফফর ন্যাপের রাজনীতিতে অবিচল ছিলেন। ১৯৬৯ এর গণ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং ১৯৭০ এর নির্বাচনে ন্যাপের প্রার্থী হিসেবে প্রদেশিক পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের হবিগঞ্জ মহকুমা কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করতে গিয়ে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে ধৃত হয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।

৮০’র দশকে তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে সফর করেন। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা ন্যাপের সভাপতি হিসেবে টানা দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হবিগঞ্জ নাগরিক কমিটির, হবিগঞ্জ কিডনি ফাউন্ডেশন বাস্তবায়ন কমিটি, দুর্নীতি দমন কমিটি, মানবাধিকার সংস্থা সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ও প্রাজ্ঞ আইনজীবী চৌধুরী আব্দুল হাই এর মৃত্যুতে হবিগঞ্জের সর্ব মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভাষা সৈনিক সাবেক এমপি চৌধুরী আব্দুল হাই আর নেই

আপডেট সময় : ০৩:২৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম পথিকৃৎ, ভাষা সৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ন্যাপ নেতা আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই সাহেব আর নেই ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

হবিগঞ্জ কিডনি ফাউন্ডেশন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস. এম. ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী জানান, আমেরিকা থেকে মরহুমের পরিবার কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই ১১ মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আমেরিকার নিউইয়র্কস্থ নর্থ সোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

তার পরিবারের ইচ্ছায় জানাযার নামাজ শেষে আমেরিকার নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাইতে অবস্থিত মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হবে। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাতের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের নিকট দোয়া কামনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই ১৯৩৯ সালের ২১ মার্চ হবিগঞ্জ শহর সংলগ্ন বহুলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা চৌধুরী আব্দুল গণি এবং মাতা আছিয়া খাতুন চৌধুরী। বহুলা প্রাইমারি স্কুলেই তাঁর লেখাপড়ায় হাতেখড়ি ঘটে। সেখানে বৃত্তিসহ উত্তীর্ণ হয়ে হবিগঞ্জ শহরে তৎকালীন হবিগঞ্জ এমই স্কুলে (বর্তমান হবিগঞ্জ হাইস্কুল এন্ড কলেজ) তিনি ভর্তি হয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পুনরায় বৃত্তি প্রাপ্ত হন।

পরে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে মেট্রিক পরীক্ষায় বৃত্তি সহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে বৃন্দাবন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইএ এবং ১৯৫৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করে হবিগঞ্জ বারে আইনপেশায় ব্রতী হন। ১৯৬৬ সালে তাঁকে মুন্সেফ পদে মনোনয়ন করা হলেও তিনি মুক্ত জীবন ও প্রগতিশীল রাজনীতির টানে সরকারি চাকুরির প্রস্তাব অগ্রাহ্য করেন।

এর আগে ১৯৬৩ সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং ঐ বছরেই ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপের) হবিগঞ্জ মহকুমা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে ন্যাপ ভেঙে গেলে তিনি মোজাফফর ন্যাপে যোগদান করেন। সেই থেকে তিনি মোজাফফর ন্যাপের রাজনীতিতে অবিচল ছিলেন। ১৯৬৯ এর গণ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং ১৯৭০ এর নির্বাচনে ন্যাপের প্রার্থী হিসেবে প্রদেশিক পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের হবিগঞ্জ মহকুমা কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করতে গিয়ে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে ধৃত হয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।

৮০’র দশকে তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে সফর করেন। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা ন্যাপের সভাপতি হিসেবে টানা দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হবিগঞ্জ নাগরিক কমিটির, হবিগঞ্জ কিডনি ফাউন্ডেশন বাস্তবায়ন কমিটি, দুর্নীতি দমন কমিটি, মানবাধিকার সংস্থা সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ও প্রাজ্ঞ আইনজীবী চৌধুরী আব্দুল হাই এর মৃত্যুতে হবিগঞ্জের সর্ব মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।