সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শ্রমিক আন্দোলনের ছবি তুললেই হামলা, কারণ কী? ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ সিলেটে আরও একজনের প্রাণ হানি পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রে প্তা রি পরোয়ানা সিলেটে ৫ বছরে সব রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস – সিসিক প্রশাসক সিলেট জৈন্তাপুরে ৬৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, আটক ৩ সিলেট ৪১ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসকনগরীর কোনো রাস্তা কাঁচা থাকবে না

হবিগঞ্জ জেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের গার্ড সবুর রহস্যজনক মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম ভাদৈ জেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের ছাদ থেকে পড়ে সবুর আলী (৩৫) নামে এক নাইট গার্ডের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জেলা সাবরেজিস্টার অফিসে দুর্নীতি চলছে।

অনেক সময় সাবরেজিস্ট্রার অফিস থেকে নথি গায়েবেরও অভিযোগ আছে। এছাড়া প্রতি দলিলে রেজিস্ট্রারি করতে শতকরা ১% করে সাবরেজিস্ট্রারকে কমিশন দিয়ে দলিল করতে হয়। নতুবা বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে দলিল ফেরত দেয়া হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাবরেজিস্ট্রার অফিসে কোন্দল হয়। হয়তোবা এরই জেরে সবুর আলী বলি হতে পারে বলে সহকর্মীরা মনে করছেন। মৃত সবুর আলী সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের আউশপাড়া গ্রামের মৃত সাজেদ আলীর পুত্র। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে মাটিতে উপুর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে অপর নাইটগার্ড চিৎকার শুরু করে। তখন কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন খেলারত শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবুর আলী মারা যায়।

এরপর থেকেই নাইট গার্ড ইউসুফ আলী পালিয়ে যায়। তবে নিহত নাইটগার্ড সবুর আলীর একটি হাত ও একটি পা ভাঙ্গা ছিল। কপালেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর থানার ওসি আলমগীর কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায়, অনেক কাগজপত্র তছনছ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজের রুমের জানালা ভাঙ্গা। এটি নাকি দীর্ঘদিন ধরেই এমন অবস্থায় রয়েছে।

ওসি জানান, যদি সে ছাদ থেকে পড়ে মারা যেতো তবে মুখ-হাত ও মাথা তেতলানো থাকতো। নিশ্চয়ই অন্যকোনোভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পলাতক ইউসুফকে ধরতে পারলেই রহস্য উন্মোচন হবে। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের জিম্মায় লাশ হস্তান্তর করেছে। তবে তার স্ত্রীর দাবি, ইউসুফই তার স্বামীকে রহস্যজনক কারণে হত্যা করেছে। রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জ জেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের গার্ড সবুর রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম ভাদৈ জেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের ছাদ থেকে পড়ে সবুর আলী (৩৫) নামে এক নাইট গার্ডের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জেলা সাবরেজিস্টার অফিসে দুর্নীতি চলছে।

অনেক সময় সাবরেজিস্ট্রার অফিস থেকে নথি গায়েবেরও অভিযোগ আছে। এছাড়া প্রতি দলিলে রেজিস্ট্রারি করতে শতকরা ১% করে সাবরেজিস্ট্রারকে কমিশন দিয়ে দলিল করতে হয়। নতুবা বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে দলিল ফেরত দেয়া হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাবরেজিস্ট্রার অফিসে কোন্দল হয়। হয়তোবা এরই জেরে সবুর আলী বলি হতে পারে বলে সহকর্মীরা মনে করছেন। মৃত সবুর আলী সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের আউশপাড়া গ্রামের মৃত সাজেদ আলীর পুত্র। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে মাটিতে উপুর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে অপর নাইটগার্ড চিৎকার শুরু করে। তখন কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন খেলারত শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবুর আলী মারা যায়।

এরপর থেকেই নাইট গার্ড ইউসুফ আলী পালিয়ে যায়। তবে নিহত নাইটগার্ড সবুর আলীর একটি হাত ও একটি পা ভাঙ্গা ছিল। কপালেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর থানার ওসি আলমগীর কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায়, অনেক কাগজপত্র তছনছ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজের রুমের জানালা ভাঙ্গা। এটি নাকি দীর্ঘদিন ধরেই এমন অবস্থায় রয়েছে।

ওসি জানান, যদি সে ছাদ থেকে পড়ে মারা যেতো তবে মুখ-হাত ও মাথা তেতলানো থাকতো। নিশ্চয়ই অন্যকোনোভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পলাতক ইউসুফকে ধরতে পারলেই রহস্য উন্মোচন হবে। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের জিম্মায় লাশ হস্তান্তর করেছে। তবে তার স্ত্রীর দাবি, ইউসুফই তার স্বামীকে রহস্যজনক কারণে হত্যা করেছে। রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।