সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে হামের উপসর্গে প্রাণ গেল তিন শিশুর সিলেটে শুভ উপনয়ন-সংস্কার অনুষ্ঠান ১৯ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান; যুবক আটক সিসিকের প্রশাসককে স্মারক উপহার দিল ইউএস বাংলা  সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলারপ্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি

চুনারুঘাটে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাটি কাটার মহোৎসব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫০ বার পড়া হয়েছে

শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি :

চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে উবাহাটা ইউনিয়নে হাতুরাকান্দি এলাকায় রাতভর কৃষি জমির মাটি কাটার চলছে মহোৎসব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নে যাওয়ার প্রবেশ পথে হাতুরাকান্দি এলাকায় পরিবেশ আইন অমান্য করে প্রতিদিন রাতভর কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে সরবরাহ করে বিক্রি করছে উপজেলাসহ পার্শবর্তী উপজেলা শায়েস্তাগঞ্জ, বাহুবল ও মাধবপুর উপজেলায় ইঁট ভাটা, হাট বাজারে দোকানপাঠ, বাসা- বাড়ি ও শিল্প কারখানায়।

ফলে কৃষি জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি কাটা দন্ডনীয় অপরাধ। কৃষিবিদদের মতে, জমির উপরিভাগের চার থেকে ছয় ইঞ্চি গভীর মাটিতেই মূল পুষ্টি গুণ থাকে। মাটির এই স্তর কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। এ জন্য অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করেও কাঙ্খিত ফলন পাওয়া যাবে না। এতে সারের পেছনে কৃষকের অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। জেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, সাধারণত ক্লিয়ার (৩৬) শতক জমিতে প্রায় ৩৫ কেজি ইউরিয়া সার দিতে হয়। কিন্তু টপ সয়েল কেটে নেওয়া জমিতে এর দ্বিগুণ সার দিতে হয়। ফলনও স্বাভাবিকের চেয়ে কম হবে। এ ভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নে হাতুরাকান্দি এলাকায় রাতভর ফসলি জমি থেকে এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ভূমি দস্যুরা। তাদের পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি রয়েছে বলে এলাকায় চলছে নানা সমালোচনা।

উবাহাটা ইউনিয়নের এক অটোরিকশা চালক মোঃ কামাল মিয়া বলেন, ড্রাম ট্রাক, ডায়ানা ট্রাক, পাওয়ার ট্রলি, ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বহনের ফলে পথচারী গ্রামীণ সড়কসহ চুনারুঘাট হতে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রীজ পাকা সড়ক গুলো অনেক ক্ষতি হচ্ছে। অত্র ইউনিয়নের সচেতন লোকজন নিষেধ করলেও ভূমি দস্যুরা এসব কথা কর্ণপাত করে না। চলতি ইট উৎপাদন মৌসুমে সরবরাহ করা হচ্ছে এই মাটি, ইঁট ভাটা, শিল্প কারখানা, হাট-বাজার, দোকান-পাট ও বাসাবাড়ি বিট বরাট চলছে। স্থানীয় এলাকার নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কোন একজন উপজেলা প্রশাসনকে মুঠোফোনে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ঘটলেও দেখার কেউ নেই।

এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালীদের হুমকি ধামকি ভয় দেখিয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। দুই ফসলি কৃষি জমি ও বিভিন্ন তরিতরকারি ফসল উৎপাদন হলেও জমির মালিকের নানা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মাটি কেটে নিচ্ছে ভূমি দস্যুরা। পত্রিকা লিখে লাভ কি? প্রশাসন চাইলে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা বন্ধ করতে পারে। কিন্তু তারা এ গুলো বন্ধ করতে ইচ্ছুক নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুবিন মিয়া বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। উক্ত এলাকা থেকে মুঠোফোনে কথা হয়। এলাকার কোনো লিখিত অভিযোগ না দিলেও আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কৃষি জমি মাটি কাটা ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চুনারুঘাটে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাটি কাটার মহোৎসব

আপডেট সময় : ১২:৫২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪

শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি :

চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে উবাহাটা ইউনিয়নে হাতুরাকান্দি এলাকায় রাতভর কৃষি জমির মাটি কাটার চলছে মহোৎসব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নে যাওয়ার প্রবেশ পথে হাতুরাকান্দি এলাকায় পরিবেশ আইন অমান্য করে প্রতিদিন রাতভর কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে সরবরাহ করে বিক্রি করছে উপজেলাসহ পার্শবর্তী উপজেলা শায়েস্তাগঞ্জ, বাহুবল ও মাধবপুর উপজেলায় ইঁট ভাটা, হাট বাজারে দোকানপাঠ, বাসা- বাড়ি ও শিল্প কারখানায়।

ফলে কৃষি জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি কাটা দন্ডনীয় অপরাধ। কৃষিবিদদের মতে, জমির উপরিভাগের চার থেকে ছয় ইঞ্চি গভীর মাটিতেই মূল পুষ্টি গুণ থাকে। মাটির এই স্তর কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। এ জন্য অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করেও কাঙ্খিত ফলন পাওয়া যাবে না। এতে সারের পেছনে কৃষকের অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। জেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, সাধারণত ক্লিয়ার (৩৬) শতক জমিতে প্রায় ৩৫ কেজি ইউরিয়া সার দিতে হয়। কিন্তু টপ সয়েল কেটে নেওয়া জমিতে এর দ্বিগুণ সার দিতে হয়। ফলনও স্বাভাবিকের চেয়ে কম হবে। এ ভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নে হাতুরাকান্দি এলাকায় রাতভর ফসলি জমি থেকে এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ভূমি দস্যুরা। তাদের পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি রয়েছে বলে এলাকায় চলছে নানা সমালোচনা।

উবাহাটা ইউনিয়নের এক অটোরিকশা চালক মোঃ কামাল মিয়া বলেন, ড্রাম ট্রাক, ডায়ানা ট্রাক, পাওয়ার ট্রলি, ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বহনের ফলে পথচারী গ্রামীণ সড়কসহ চুনারুঘাট হতে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রীজ পাকা সড়ক গুলো অনেক ক্ষতি হচ্ছে। অত্র ইউনিয়নের সচেতন লোকজন নিষেধ করলেও ভূমি দস্যুরা এসব কথা কর্ণপাত করে না। চলতি ইট উৎপাদন মৌসুমে সরবরাহ করা হচ্ছে এই মাটি, ইঁট ভাটা, শিল্প কারখানা, হাট-বাজার, দোকান-পাট ও বাসাবাড়ি বিট বরাট চলছে। স্থানীয় এলাকার নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কোন একজন উপজেলা প্রশাসনকে মুঠোফোনে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ঘটলেও দেখার কেউ নেই।

এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালীদের হুমকি ধামকি ভয় দেখিয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। দুই ফসলি কৃষি জমি ও বিভিন্ন তরিতরকারি ফসল উৎপাদন হলেও জমির মালিকের নানা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মাটি কেটে নিচ্ছে ভূমি দস্যুরা। পত্রিকা লিখে লাভ কি? প্রশাসন চাইলে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা বন্ধ করতে পারে। কিন্তু তারা এ গুলো বন্ধ করতে ইচ্ছুক নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুবিন মিয়া বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। উক্ত এলাকা থেকে মুঠোফোনে কথা হয়। এলাকার কোনো লিখিত অভিযোগ না দিলেও আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কৃষি জমি মাটি কাটা ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে।