সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শ্রমিক আন্দোলনের ছবি তুললেই হামলা, কারণ কী? ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ সিলেটে আরও একজনের প্রাণ হানি পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রে প্তা রি পরোয়ানা সিলেটে ৫ বছরে সব রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস – সিসিক প্রশাসক সিলেট জৈন্তাপুরে ৬৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, আটক ৩ সিলেট ৪১ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসকনগরীর কোনো রাস্তা কাঁচা থাকবে না

মাধবপুরের পাবলিক লাইব্রেরি৫ বছর ধরে বন্ধ, বঞ্চিত পাঠকরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি :

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পাবলিক লাইব্রেরির বই পাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পাঠকরা। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মূল্যবান এসব বইপত্র নষ্টও হচ্ছে। 

২০১৮ সালে মাধবপুরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। হবিগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান মুরাদ এটি উদ্বোধন করেন। অল্প কিছু বই নিয়ে লাইব্রেরিটি যাত্রা শুরু করলেও পরে শাহ রিয়াদ তুষার নামের স্থানীয় এক সমাজসেবক দুই দফায় লাইব্রেরিতে প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের দেশি-বিদেশি লেখকদের লেখা মানসম্মত বই প্রদান করেন। একই সাথে লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ার সুবিধার্থে রিডিং টেবিল ও বসার জন্য বেশকিছু চেয়ারও দেন তিনি। শুরুতে লাইব্রেরিটি পাঠকদের পদচারণায় বেশ জমজমাট থাকলেও ধীরে ধীরে এটির কার্যক্রম স্থিমিত হয়ে পড়ে। আর ২০২০ সালে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। 

প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা ও অন্যদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে সদস্য ফি নিয়ে লাইব্রেরিটির কার্যক্রম শুরু হয়। তখন রাতারাতি এটির সদস্য সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে যায়। তখন আরও কিছু বই কেনা হয় লাইব্রেরির জন্য। বইয়ের সংখ্যাও তখন ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে এর ধারাবাহিকতায় মাধবপুর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরিটিও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর আজ পর্যন্ত এ লাইব্রেরিটি পুনরায় চালু করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে লাইব্রেরিটিতে থাকা মূল্যবান বইপত্রগুলোর কি পরিণতি হয়েছে তা জানে না কেউ। বর্তমানে ধুলোবালি আর আবর্জনায় একাকার পাবলিক লাইব্রেরিটি বেহাল হয়ে পড়ে আছে। 

উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে শুরুর দিকে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা হাসান আলী। অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, লাইব্রেরিয়ানের জন্য ৩ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ করেছিল কর্তৃপক্ষ। কয়েক মাস সম্মানীর টাকা দেওয়া হলেও পরে তহবিল না থাকায় সেই সম্মানী প্রদানও বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায়ও মির্জা হাসান লাইব্রেরিটির দায়িত্ব পালন করে গেছেন। 

মির্জা হাসান বলেন, ‘মূলত লাইব্রেরির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যেই এটির সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে মাধবপুরে যোগদান করেছি। উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাধবপুরের পাবলিক লাইব্রেরি৫ বছর ধরে বন্ধ, বঞ্চিত পাঠকরা

আপডেট সময় : ০৯:২৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৪

মাধবপুর প্রতিনিধি :

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পাবলিক লাইব্রেরির বই পাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পাঠকরা। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মূল্যবান এসব বইপত্র নষ্টও হচ্ছে। 

২০১৮ সালে মাধবপুরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। হবিগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান মুরাদ এটি উদ্বোধন করেন। অল্প কিছু বই নিয়ে লাইব্রেরিটি যাত্রা শুরু করলেও পরে শাহ রিয়াদ তুষার নামের স্থানীয় এক সমাজসেবক দুই দফায় লাইব্রেরিতে প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের দেশি-বিদেশি লেখকদের লেখা মানসম্মত বই প্রদান করেন। একই সাথে লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ার সুবিধার্থে রিডিং টেবিল ও বসার জন্য বেশকিছু চেয়ারও দেন তিনি। শুরুতে লাইব্রেরিটি পাঠকদের পদচারণায় বেশ জমজমাট থাকলেও ধীরে ধীরে এটির কার্যক্রম স্থিমিত হয়ে পড়ে। আর ২০২০ সালে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। 

প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা ও অন্যদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে সদস্য ফি নিয়ে লাইব্রেরিটির কার্যক্রম শুরু হয়। তখন রাতারাতি এটির সদস্য সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে যায়। তখন আরও কিছু বই কেনা হয় লাইব্রেরির জন্য। বইয়ের সংখ্যাও তখন ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে এর ধারাবাহিকতায় মাধবপুর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরিটিও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর আজ পর্যন্ত এ লাইব্রেরিটি পুনরায় চালু করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে লাইব্রেরিটিতে থাকা মূল্যবান বইপত্রগুলোর কি পরিণতি হয়েছে তা জানে না কেউ। বর্তমানে ধুলোবালি আর আবর্জনায় একাকার পাবলিক লাইব্রেরিটি বেহাল হয়ে পড়ে আছে। 

উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে শুরুর দিকে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা হাসান আলী। অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, লাইব্রেরিয়ানের জন্য ৩ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ করেছিল কর্তৃপক্ষ। কয়েক মাস সম্মানীর টাকা দেওয়া হলেও পরে তহবিল না থাকায় সেই সম্মানী প্রদানও বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায়ও মির্জা হাসান লাইব্রেরিটির দায়িত্ব পালন করে গেছেন। 

মির্জা হাসান বলেন, ‘মূলত লাইব্রেরির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যেই এটির সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে মাধবপুরে যোগদান করেছি। উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।