সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শ্রমিক আন্দোলনের ছবি তুললেই হামলা, কারণ কী? ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ সিলেটে আরও একজনের প্রাণ হানি পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রে প্তা রি পরোয়ানা সিলেটে ৫ বছরে সব রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস – সিসিক প্রশাসক সিলেট জৈন্তাপুরে ৬৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, আটক ৩ সিলেট ৪১ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসকনগরীর কোনো রাস্তা কাঁচা থাকবে না

!! সিলেটে অপরাধের কোনো তৎপরতা থাকবে না- বাণিজ্যমন্ত্রী শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুক্তাদির !!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘সিলেটে কোনো মাদকের আনাগোনা, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন। সিলেটে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সিলেট পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সিলেটের আইনশৃঙ্খলা কেমন আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা কেমন দেখতে চাই। প্রথম হলো, সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, সিলেটে আমরা কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। সিলেটে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আমরা দেখতে চাই না।’

তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমরা এ বিষয়ে এসএমপির কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে আগামী দিনে মাদক, অনলাইন জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের কোনো তৎপরতা আমরা সিলেটে দেখতে চাই না। এসএমপি কমিশনারও আইনের আওতায় থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ শুল্ক শুধু বাংলাদেশের ওপর নয়, বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি জানান, সাধারণ শুল্কের বাইরে বাংলাদেশের ওপর বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে সর্বনিম্ন হারের মধ্যে একটি।

ভারতীয় বিনিয়োগ ও স্থলবন্দর প্রসঙ্গ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সফরে আসা কয়েকজন ভারতীয় ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে দেশে বিনিয়োগ করেছেন এবং তারা বাংলাদেশ-ভারত স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাঁচামালের ব্যয় বেড়ে যায়। পাশাপাশি অবকাঠামো খাতে যৌথ বিনিয়োগের জন্য একটি টাস্কফোর্স এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে একটি ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব তারা এফবিসিসিআই নেতাদের কাছে দিয়েছেন। সরকার এসব উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

এ ছাড়া মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান তিনি। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে তাদের দেওয়া কিছু প্রস্তাব সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশের ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি। বিশ্বের অনেক দেশেই একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে, তাই এটিকে অস্বাভাবিক বলা যায় না।

তিনি রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি-রপ্তানি উভয়ই বাড়াতে হবে। ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটির মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। এ ব্যবধান কমাতে রপ্তানি সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

চাকরিজীবীদের জীবনমান ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব অর্থমন্ত্রীর। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমিয়ে মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

!! সিলেটে অপরাধের কোনো তৎপরতা থাকবে না- বাণিজ্যমন্ত্রী শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুক্তাদির !!

আপডেট সময় : ১২:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :

বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘সিলেটে কোনো মাদকের আনাগোনা, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন। সিলেটে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সিলেট পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সিলেটের আইনশৃঙ্খলা কেমন আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা কেমন দেখতে চাই। প্রথম হলো, সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, সিলেটে আমরা কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। সিলেটে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আমরা দেখতে চাই না।’

তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমরা এ বিষয়ে এসএমপির কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে আগামী দিনে মাদক, অনলাইন জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের কোনো তৎপরতা আমরা সিলেটে দেখতে চাই না। এসএমপি কমিশনারও আইনের আওতায় থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ শুল্ক শুধু বাংলাদেশের ওপর নয়, বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি জানান, সাধারণ শুল্কের বাইরে বাংলাদেশের ওপর বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে সর্বনিম্ন হারের মধ্যে একটি।

ভারতীয় বিনিয়োগ ও স্থলবন্দর প্রসঙ্গ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সফরে আসা কয়েকজন ভারতীয় ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে দেশে বিনিয়োগ করেছেন এবং তারা বাংলাদেশ-ভারত স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাঁচামালের ব্যয় বেড়ে যায়। পাশাপাশি অবকাঠামো খাতে যৌথ বিনিয়োগের জন্য একটি টাস্কফোর্স এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে একটি ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব তারা এফবিসিসিআই নেতাদের কাছে দিয়েছেন। সরকার এসব উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

এ ছাড়া মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান তিনি। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে তাদের দেওয়া কিছু প্রস্তাব সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশের ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি। বিশ্বের অনেক দেশেই একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে, তাই এটিকে অস্বাভাবিক বলা যায় না।

তিনি রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি-রপ্তানি উভয়ই বাড়াতে হবে। ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটির মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। এ ব্যবধান কমাতে রপ্তানি সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

চাকরিজীবীদের জীবনমান ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব অর্থমন্ত্রীর। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমিয়ে মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবেন।