সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট জৈন্তাপুরে নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ সিলেটে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন নবনিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ কর্মকর্তা সিলেটের ৩ কর্মকর্তা বদলি, একই সঙ্গে পদায়ন নয়াবাজার মণিপুরী পাড়ায় মতবিনিময় সভায় সিসিক প্রশাসক সিলেট ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল স্পিকার মুস্তাক আহমদের সাক্ষাৎ সিলেট শ্রমিক ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিলের অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন,, এমন প্রধানমন্ত্রীই চায় জনগণ কক্সবাজারে রিসোর্টে ১০ পর্যটকের মৃত্যু

সিলেট জৈন্তাপুরে নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নদীর পাড় কেটে বালু সরবরাহ এবং নৌকাপ্রতি দুই হাজার টাকা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামসংলগ্ন নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। প্রতিদিন বালুভর্তি নৌকা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হলেও প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না । ফলে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

এ ঘটনায় রূপচেং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল জৈন্তাপুর মডেল থানায়  লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সত্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। তবে বালু উত্তোলনের বৈধতা, জমির মালিকানা এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামসংলগ্ন বড়গাং নদীর পাড়ে রুপা মিয়ার নেতৃত্বে বালুবাহী নৌকা থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিটি নৌকা থেকে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয় । এ অর্থ আদায়ের বৈধতা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ।

অভিযোগ রয়েছে, নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি, ফসলি জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা নিজেদের জমি ও বসতবাড়ি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ করেন , প্রভাবশালীদের  ছত্রচ্ছায়ায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারা জানান প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন ও অর্থ আদায় করা হচ্ছে ।

বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা ও প্রাপ্য হিস্যা নিয়েও বিরোধের কথা জানিয়েছেন অভিযোগকারী আব্দুল জলিল ও আলম। তাঁদের দাবি, নদীর পাড় কেটে যেসব জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেসব জমির মূল মালিক ছিলেন তাঁদের দাদা কালা রাজা মজুমদার।

আব্দুল জলিল ও আলমের অভিযোগ, উত্তরাধিকার সূত্রে সংশ্লিষ্ট জমির একটি অংশ রুপা মিয়া ইতিপূর্বে বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ৫৩ লাখ টাকায় সাবলিজ দিয়েছেন। বাকি অংশ থেকে তিনি ও তাঁর লোকজন নৌকাপ্রতি দুই হাজার টাকা করে আদায় করছেন বলেও দাবি তাঁদের।

এ বিষয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি বৈধ হলে কালা রাজা মজুমদারের উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁরা কেন তাঁদের প্রাপ্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হবেন? আর বালু উত্তোলন অবৈধ হলে প্রশাসন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না?

তবে জমির মালিকানা, সাবলিজের শর্ত, বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং অর্থ আদায়ের বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুপা মিয়া ও সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ীদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা জরুরি।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জৈন্তাপুর মডেল থানা-পুলিশ। এ বিষয়ে থানার এসআই শওকত মাসুদ ভূইয়া বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সঠিক। তবে সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলোর মালিকানা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। কেউ জায়গাগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন বলে দাবি করছেন, আবার কেউ সেগুলো সরকারি বলে উল্লেখ করছেন। এ অবস্থায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।

পুলিশের এই বক্তব্যে নদীর পাড় কাটার অভিযোগের বিষয়ে ঘটনাস্থলভিত্তিক পর্যবেক্ষণের তথ্য পাওয়া গেলেও নৌকাপ্রতি অর্থ আদায়, কথিত সিন্ডিকেটের ভূমিকা এবং জমির মালিকানা নিয়ে ওঠা বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কারা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে, তাঁদের তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট জৈন্তাপুরে নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নদীর পাড় কেটে বালু সরবরাহ এবং নৌকাপ্রতি দুই হাজার টাকা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামসংলগ্ন নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। প্রতিদিন বালুভর্তি নৌকা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হলেও প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না । ফলে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

এ ঘটনায় রূপচেং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল জৈন্তাপুর মডেল থানায়  লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সত্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। তবে বালু উত্তোলনের বৈধতা, জমির মালিকানা এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামসংলগ্ন বড়গাং নদীর পাড়ে রুপা মিয়ার নেতৃত্বে বালুবাহী নৌকা থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিটি নৌকা থেকে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয় । এ অর্থ আদায়ের বৈধতা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ।

অভিযোগ রয়েছে, নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি, ফসলি জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা নিজেদের জমি ও বসতবাড়ি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ করেন , প্রভাবশালীদের  ছত্রচ্ছায়ায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারা জানান প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন ও অর্থ আদায় করা হচ্ছে ।

বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা ও প্রাপ্য হিস্যা নিয়েও বিরোধের কথা জানিয়েছেন অভিযোগকারী আব্দুল জলিল ও আলম। তাঁদের দাবি, নদীর পাড় কেটে যেসব জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেসব জমির মূল মালিক ছিলেন তাঁদের দাদা কালা রাজা মজুমদার।

আব্দুল জলিল ও আলমের অভিযোগ, উত্তরাধিকার সূত্রে সংশ্লিষ্ট জমির একটি অংশ রুপা মিয়া ইতিপূর্বে বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ৫৩ লাখ টাকায় সাবলিজ দিয়েছেন। বাকি অংশ থেকে তিনি ও তাঁর লোকজন নৌকাপ্রতি দুই হাজার টাকা করে আদায় করছেন বলেও দাবি তাঁদের।

এ বিষয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি বৈধ হলে কালা রাজা মজুমদারের উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁরা কেন তাঁদের প্রাপ্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হবেন? আর বালু উত্তোলন অবৈধ হলে প্রশাসন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না?

তবে জমির মালিকানা, সাবলিজের শর্ত, বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং অর্থ আদায়ের বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুপা মিয়া ও সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ীদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা জরুরি।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জৈন্তাপুর মডেল থানা-পুলিশ। এ বিষয়ে থানার এসআই শওকত মাসুদ ভূইয়া বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সঠিক। তবে সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলোর মালিকানা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। কেউ জায়গাগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন বলে দাবি করছেন, আবার কেউ সেগুলো সরকারি বলে উল্লেখ করছেন। এ অবস্থায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।

পুলিশের এই বক্তব্যে নদীর পাড় কাটার অভিযোগের বিষয়ে ঘটনাস্থলভিত্তিক পর্যবেক্ষণের তথ্য পাওয়া গেলেও নৌকাপ্রতি অর্থ আদায়, কথিত সিন্ডিকেটের ভূমিকা এবং জমির মালিকানা নিয়ে ওঠা বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কারা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে, তাঁদের তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।