সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসকনগরীর কোনো রাস্তা কাঁচা থাকবে না বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমন্বয় সভায় সিসিক প্রশাসক দ্বিতীয় পদ্মা সেতুসহ তিন মেগা প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সব অবৈধ ক্লিনিক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চালু করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলেটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবৈধ রাসায়নিক ব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠানের মালিককে অর্থদণ্ড ও এক বছরের কারাদণ্ড আইন কমিশনের সেমিনারে অংশ নিলেন এমইউ’র প্রফেসর আশরাফুর রহমান সিলেটে গ্যাস বন্ধের খবর, যা বলছে পেট্রোবাংলা ট্রাফিক আইন মানবো, নিরাপদ সিলেট গড়বো সিলেটে মতবিনিময় সভায় রুহুল কবির রিজভী সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে: সিলেটে রুহুল কবির রিজভী

নাতি-নাতনিদের সঙ্গ বাড়াতে পারে আয়ু, মানতে হবে যেসব শর্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ১১৫ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

নাতি-নাতনিদের লালন-পালনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রবীণদের দীর্ঘায়ু অর্জনে সাহায্য করতে পারে। বিজ্ঞানে একে বলা হয় গ্র্যান্ডমাদার হাইপোথিসিস বা দাদি-নানি তত্ত্ব। 

বিবর্তনীয় এই তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রাচীনকালে বয়স্ক নারীরা নাতি-নাতনিদের বড় করতে ও খাবার জোগাতে সাহায্য করতেন, যা তাদের কন্যাদের আরও সন্তান নেওয়ার সুযোগ করে দিত। ফলে যত্নশীল ও দীর্ঘজীবী নারীদের জিন নতুন প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

প্রবীণদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটানো কেবল আনন্দই দেয় না, বরং মানসিক স্বাস্থ্য ও আয়ু বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নাতি-নাতনিদের নানা সমস্যা সমাধান বা খেলাধুলায় জড়িয়ে থাকলে প্রবীণদের আত্মবিশ্বাস ও শারীরিক সচলতা বাড়ে, বিষণ্ণতা কমে এবং স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে। বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলে আয়ু গড়ে সাড়ে সাত বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ ছাড়া নিজের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়ে জীবনের স্পষ্ট উদ্দেশ্য খুঁজে পেলে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। সন্তান লালন-পালনে আংশিক বা পরিমিত সাহায্য করা দাদা-দাদি বা নানা-নানিদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে বলে গবেষণায় ওঠে এসেছে। 

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, নাতি-নাতনিদের পেছনে ঠিক কতটা সময় ও শ্রম দেওয়া হচ্ছে, সেটির একটি সঠিক মাত্রা থাকা প্রয়োজন। বয়স্ক ব্যক্তিরা যদি পুরোপুরি অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে প্রতিদিনের সব লালন-পালনের ভার একাই কাঁধে তুলে নেন, তবে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, নিঃসঙ্গতা ও আর্থিক সংকটের কারণে বিপরীত প্রভাব পড়তে পারে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

সঠিক মাত্রায় ও সুন্দর পরিবেশে এই ভূমিকা পালন করতে পারলে তা যেকোনো ওষুধ বা জীবনযাত্রার কৃত্রিম কৌশলের চেয়েও কার্যকরভাবে আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। আর এই সম্পর্কের জন্য রক্তের টানই শেষ কথা নয়, যত্ন ও ভালোবাসাই হলো এর আসল চাবিকাঠি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নাতি-নাতনিদের সঙ্গ বাড়াতে পারে আয়ু, মানতে হবে যেসব শর্ত

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

নাতি-নাতনিদের লালন-পালনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রবীণদের দীর্ঘায়ু অর্জনে সাহায্য করতে পারে। বিজ্ঞানে একে বলা হয় গ্র্যান্ডমাদার হাইপোথিসিস বা দাদি-নানি তত্ত্ব। 

বিবর্তনীয় এই তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রাচীনকালে বয়স্ক নারীরা নাতি-নাতনিদের বড় করতে ও খাবার জোগাতে সাহায্য করতেন, যা তাদের কন্যাদের আরও সন্তান নেওয়ার সুযোগ করে দিত। ফলে যত্নশীল ও দীর্ঘজীবী নারীদের জিন নতুন প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

প্রবীণদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটানো কেবল আনন্দই দেয় না, বরং মানসিক স্বাস্থ্য ও আয়ু বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নাতি-নাতনিদের নানা সমস্যা সমাধান বা খেলাধুলায় জড়িয়ে থাকলে প্রবীণদের আত্মবিশ্বাস ও শারীরিক সচলতা বাড়ে, বিষণ্ণতা কমে এবং স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে। বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলে আয়ু গড়ে সাড়ে সাত বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ ছাড়া নিজের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়ে জীবনের স্পষ্ট উদ্দেশ্য খুঁজে পেলে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। সন্তান লালন-পালনে আংশিক বা পরিমিত সাহায্য করা দাদা-দাদি বা নানা-নানিদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে বলে গবেষণায় ওঠে এসেছে। 

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, নাতি-নাতনিদের পেছনে ঠিক কতটা সময় ও শ্রম দেওয়া হচ্ছে, সেটির একটি সঠিক মাত্রা থাকা প্রয়োজন। বয়স্ক ব্যক্তিরা যদি পুরোপুরি অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে প্রতিদিনের সব লালন-পালনের ভার একাই কাঁধে তুলে নেন, তবে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, নিঃসঙ্গতা ও আর্থিক সংকটের কারণে বিপরীত প্রভাব পড়তে পারে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

সঠিক মাত্রায় ও সুন্দর পরিবেশে এই ভূমিকা পালন করতে পারলে তা যেকোনো ওষুধ বা জীবনযাত্রার কৃত্রিম কৌশলের চেয়েও কার্যকরভাবে আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। আর এই সম্পর্কের জন্য রক্তের টানই শেষ কথা নয়, যত্ন ও ভালোবাসাই হলো এর আসল চাবিকাঠি।