যেসব অভ্যাস মেনে চললে কিডনি নিয়ে কখনোই ভাবতে হবে না
- আপডেট সময় : ০২:০৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
লাইফস্টাইল ডেস্ক :
আমাদের মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো— কিডনি। আপনার শরীর থেকে বর্জ্য ও দূষিত পদার্থ ফিল্টার করে বের করে দেওয়া, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা এবং রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করার মতো বহু জটিল কাজ নিখুঁতভাবে করে থাকে এই জোড়া অঙ্গটি। তবে বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাবের কারণে খুব অল্প বয়সেই অনেকে ‘ক্রনিক কিডনি ডিজিস’-এর মতো মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর কিডনির রোগকে প্রায়শই ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়।
কারণ কিডনির কার্যক্ষমতা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাইরে থেকে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তাই বয়স বাড়ার পর সতর্ক না হয়ে, অল্প বয়স থেকেই সচেতন হওয়া এবং সুস্থ জীবনধারা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। কিডনি সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে অল্প বয়স থেকে কোন কোন নিয়ম মেনে চলা উচিত, তার একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা তুলে ধরা হলো—
১. কিডনি রোগপ্রতিরোধে অল্প বয়স থেকেই যা করণীয়
ক. পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস তৈরি করা
কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হচ্ছে— প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে কিডনি খুব সহজে রক্ত থেকে সোডিয়াম, ইউরিয়াসহ অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে পারে। এতে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও থাকে না।
খ. ব্যথানাশক ওষুধ কিংবা পেইনকিলার এড়ানো
সামান্য মাথাব্যথা, শরীর, হাত-পা ব্যথা কিংবা জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অনায়াসে পেইনকিলার যেমন— আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক খাওয়ার মারাত্মক কুঅভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। অল্প বয়স থেকে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যথানাশক ওষুধ খেলে তা সরাসরি কিডনির ফিল্টার টিস্যু ধ্বংস করে দেয়।
গ. রক্তচাপ ও রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা
উচ্চ রক্তচাপ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস হলো— কিডনি বিকল হওয়ার দুটি প্রধান কারণ। রক্তের শর্করা ও রক্তচাপ বেশি থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অল্প বয়স থেকেই বছরে অন্তত একবার সুগার ও প্রেশার মেপে দেখা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা ভীষণ জরুরি।
ঘ. কাঁচা লবণ ও লবণাক্ত খাবার কমানো
খাবারে অতিরিক্ত লবণ (সোডিয়াম) খেলে তা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে থাকে। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিপস, সসেজ, চানাচুর এবং পাতে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
ঙ. অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ধূমপান বর্জন
ধূমপান ও তামাক সেবন আপনসার কিডনিতে রক্তপ্রবাহের গতি কমিয়ে দেয়। ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত মদপান কিডনির ছাঁকন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে আপনার শরীরে মারাত্মক টক্সিন জমাতে সাহায্য করে।
চ. সুষম আহার ও সুস্থ ওজন বজায় রাখা
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত প্রসেসড প্রোটিন, রিফাইন্ড চিনি ও কোল্ড ড্রিংকস এড়িয়ে চলুন। পুষ্টিকর শাকসবজি, ফলমূল এবং সহজে হজম হওয়া খাবার খান। আপনার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, যা পরোক্ষভাবে কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে।
ছ. দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সাঁতার কাটা, জগিং করা, সাইকেল চালানো কিংবা দ্রুত হাঁটার মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম করুন। ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২. কখন কিডনি পরীক্ষা করানো জরুরি জেনে নিন
যদি আপনার পরিবারে আগে থেকে কারও কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের রোগী থাকে, তবে ২৫-৩০ বছর বয়সের পর থেকেই বছরে অন্তত একবার রক্তের ‘সিরম ক্রিয়েটিনিন’ এবং প্রস্রাবের ‘অ্যালবুমিন’ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ কিডনি একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। তাই ভবিষ্যতের জটিলতা ও ডায়ালাইসিসের মতো কষ্টদায়ক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে অল্প বয়স থেকেই সহজ ও স্বাস্থ্যকর নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত।



























