সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান নাতি-নাতনিদের সঙ্গ বাড়াতে পারে আয়ু, মানতে হবে যেসব শর্ত শনিবার থেকে সব বাসে জিপিএস বাধ্যতামূলক ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক হয়েছে কিনা, যা জানা গেল এমএসএফের প্রতিবেদন জুলাইয়ে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা সিলেটে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ ফোরামের আলোচনা সভা সম্পন্ন ‘ইউথহাব সিলেট’র উদ্যোগে অসহায়দের মধ্যে খাবার বিতরণ এসপিএসের তৃতীয় জাতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আত্ম প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন ‘‌জাতীয় অতিথি ও প্রশাসনের অংশগ্রহণে রথযাত্রা মহামিলনমেলায় পরিণত’ সরকারে ৫ মাসেই তারেক রহমান, দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন- সিলেটে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

এমএসএফের প্রতিবেদন জুলাইয়ে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

জুনের তুলনায় জুলাইয়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা কমেছে। তবে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। একই সময়ে অনলাইন জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও মাদক ব্যবসায় পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জুলাই ২০২৬-এর নারী, শিশু, মাদক ও অনলাইন জুয়াসংক্রান্ত সহিংসতার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) এমএসএফ প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে জুন ও জুলাইয়ের বিভিন্ন ঘটনার তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩২০টি ঘটনার বিপরীতে জুলাইয়ে এ সংখ্যা কমে ৩০৬-এ নেমেছে। জুনে ৬৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে ৯০-এ পৌঁছেছে। একইভাবে আত্মহত্যার ঘটনা ১৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮টি। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনাও ২১ থেকে বেড়ে ২২টি হয়েছে।

অন্যদিকে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৬ থেকে ৭টিতে, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ৫ থেকে ৩টিতে, শারীরিক নির্যাতন ৫৬ থেকে ৪২টিতে এবং হত্যার ঘটনা ৭৬ থেকে ৫২টিতে নেমে এসেছে। অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা সামান্য বেড়ে ১২ থেকে ১৩টি হয়েছে। আর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা দুই মাসেই একটি করে ঘটেছে।

এমএসএফ বলছে, মোট ঘটনার সংখ্যা কমলেও সহিংসতার ধরন আরও জটিল ও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার উচ্চ হার নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুলাইয়ে তিনটি ফৌজদারি অপরাধ স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ধর্ষণচেষ্টার এবং একটি ধর্ষণের ঘটনা ছিল।

এমএসএফের মতে, এ ধরনের গুরুতর অপরাধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। অনলাইন জুয়াসংক্রান্ত ঘটনায় জুলাইয়ে কোনো নিহত বা আহতের তথ্য না থাকলেও ১০ জনকে আটক করা হয়েছে, যেখানে জুনে কোনো আটক ছিল না। 

এমএসএফের মতে, এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়। তবে অনলাইন জুয়ার বিস্তার তরুণ সমাজের মধ্যে অর্থনৈতিক শোষণ, পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এমএসএফের প্রতিবেদন জুলাইয়ে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

জুনের তুলনায় জুলাইয়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা কমেছে। তবে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। একই সময়ে অনলাইন জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও মাদক ব্যবসায় পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জুলাই ২০২৬-এর নারী, শিশু, মাদক ও অনলাইন জুয়াসংক্রান্ত সহিংসতার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) এমএসএফ প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে জুন ও জুলাইয়ের বিভিন্ন ঘটনার তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩২০টি ঘটনার বিপরীতে জুলাইয়ে এ সংখ্যা কমে ৩০৬-এ নেমেছে। জুনে ৬৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে ৯০-এ পৌঁছেছে। একইভাবে আত্মহত্যার ঘটনা ১৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮টি। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনাও ২১ থেকে বেড়ে ২২টি হয়েছে।

অন্যদিকে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৬ থেকে ৭টিতে, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ৫ থেকে ৩টিতে, শারীরিক নির্যাতন ৫৬ থেকে ৪২টিতে এবং হত্যার ঘটনা ৭৬ থেকে ৫২টিতে নেমে এসেছে। অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা সামান্য বেড়ে ১২ থেকে ১৩টি হয়েছে। আর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা দুই মাসেই একটি করে ঘটেছে।

এমএসএফ বলছে, মোট ঘটনার সংখ্যা কমলেও সহিংসতার ধরন আরও জটিল ও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার উচ্চ হার নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুলাইয়ে তিনটি ফৌজদারি অপরাধ স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ধর্ষণচেষ্টার এবং একটি ধর্ষণের ঘটনা ছিল।

এমএসএফের মতে, এ ধরনের গুরুতর অপরাধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। অনলাইন জুয়াসংক্রান্ত ঘটনায় জুলাইয়ে কোনো নিহত বা আহতের তথ্য না থাকলেও ১০ জনকে আটক করা হয়েছে, যেখানে জুনে কোনো আটক ছিল না। 

এমএসএফের মতে, এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়। তবে অনলাইন জুয়ার বিস্তার তরুণ সমাজের মধ্যে অর্থনৈতিক শোষণ, পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।