ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ দেখলেন সিসিক প্রশাসক হবিগঞ্জ জমিজমা বিরোধে সংঘর্ষ- মাধবপুরে বৃদ্ধ নিহত, আহত অন্তত ৩০ সিলেটে সুরঞ্জিত সেনের বিস্ফোরক মামলায় হাজিরা দিলেন আরিফ, গউছ, বাবর সিলেটে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি, অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের ৮টি মহানগরীর মধ্যে নিরাপত্তা ও কম অপরাধপ্রবণ নগরীর তালিকায় সেরা সিলেট সিলেটের জাফলং পাথরখেকোদের গ্রাসে বিলীন হচ্ছে জাফলং রাজবাড়ী সিলেট সীমান্ত থেকে নারী ও শিশুসহ ৯ জন আটক সুনামগঞ্জ,হবিগঞ্জ বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ- কালনী নদীর ভাঙ্গনে নি:স্ব শতাধিক পরিবার, আতঙ্কে অসংখ্য মানুষ সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চলছে ম্যানুয়ালি, বৈদ্যুতিক গোলোযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ড জেলা পরিষদের প্রশাসকের সাথে ওলামা দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

জেনে নিন ইফতারে যেসব খাবার শরীর চাঙা রাখে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

ইফতারের সময় প্রতিটি রোজাদারের জন্য একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সারাদিন পেট খালি থাকার পরও হঠাৎ করে খাবার গ্রহণ করায় আমাদের শরীর এক ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। তাই ইফতারের সময় আপনি সঠিক খাবার খাচ্ছেন কিনা, তার ওপরই নির্ভর করে আপনি পুরো মাসজুড়ে কতটা সুস্থ এবং কতটা কর্মক্ষম থাকছেন। 

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা বলছেন, ইফতারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত— শরীরের হারিয়ে যাওয়া শক্তি পুনরুদ্ধার করা এবং পানিশূন্যতা রোধ করা। ইফতারের শুরুতে ঐতিহ্যগতভাবেই আমরা খেজুর খেয়ে থাকি। এটি কেবল সুন্নাহ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে চমৎকার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। 

খেজুর হলো— শক্তির এক অনন্য উৎস এবং এটি পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ, যা শরীরের পেশি ও স্নায়ুগুলোকে সচল রাখতে জাদুর মতো কাজ করে থাকে। কারণ খেজুরে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে, বিধায় পরিমিত পরিমাণে এটি গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ। খেজুরের পাশাপাশি প্রচুর পানি ও ফলের রস পান করা উচিত, যাতে সারাদিনের পানিশূন্যতা নিমেষেই দূর করা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া শরীরের ক্ষয়পূরণে প্রোটিনের বিকল্প নেই। প্রতিদিনের ইফতারে চর্বিহীন মাংস, চামড়াবিহীন মুরগি, মাছ, ডিম কিংবা ডাল অন্তর্ভুক্ত করুন। এ ছাড়া খাবারটি কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে স্টিমিং, গ্রিলিং কিংবা বেকিং পদ্ধতি বেছে নিন। সেই সঙ্গে ভাজাভুজি খেতে মন চাইলে সাধারণ তেলের পরিবর্তে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ তেল খুব সামান্য পরিমাণে ব্যবহার করে শ্যালো ফ্রাই করতে পারেন। এটি আপনার হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করবে। 

আবার ইফতারে দ্রুত হজম হয়ে যায় এমন চিনিযুক্ত খাবারের চেয়ে জটিল কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাবার বেশি উপকারী। সাদা ভাতের পরিবর্তে বাদামি চাল, আটা বা লাল আটার রুটি এবং আস্ত শস্যের নুডলস আপনার শরীরকে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগাতে সাহায্য করবে। এগুলো ধীরে ধীরে রক্তে চিনি সরবরাহ করে। ফলে ইফতারের পর ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাব আসে না। ফাইবার সমৃদ্ধ এ খাবারগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকর, যা রমজানে অনেকেরই সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

এ বিষয়ে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ইফতারে প্রতিদিন অন্তত দুবার শাকসবজি এবং ফল রাখা জরুরি। আপনার ইফতারের থালাটি যদি ফল ও শাকসবজির রঙে রঙিন হয়, তবে বুঝবেন আপনি সঠিক পুষ্টি পাচ্ছেন। শাকসবজি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করে, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে তরমুজ, শসা কিংবা পেঁপের মতো পানীয় ফলগুলো এ সময়ে শরীরের পানির চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভাজাপোড়া খাবারের ভিড়ে সামান্য সালাদ আপনার পাকস্থলীকে আরাম দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জেনে নিন ইফতারে যেসব খাবার শরীর চাঙা রাখে

আপডেট সময় : ০১:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক

ইফতারের সময় প্রতিটি রোজাদারের জন্য একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সারাদিন পেট খালি থাকার পরও হঠাৎ করে খাবার গ্রহণ করায় আমাদের শরীর এক ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। তাই ইফতারের সময় আপনি সঠিক খাবার খাচ্ছেন কিনা, তার ওপরই নির্ভর করে আপনি পুরো মাসজুড়ে কতটা সুস্থ এবং কতটা কর্মক্ষম থাকছেন। 

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা বলছেন, ইফতারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত— শরীরের হারিয়ে যাওয়া শক্তি পুনরুদ্ধার করা এবং পানিশূন্যতা রোধ করা। ইফতারের শুরুতে ঐতিহ্যগতভাবেই আমরা খেজুর খেয়ে থাকি। এটি কেবল সুন্নাহ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে চমৎকার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। 

খেজুর হলো— শক্তির এক অনন্য উৎস এবং এটি পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ, যা শরীরের পেশি ও স্নায়ুগুলোকে সচল রাখতে জাদুর মতো কাজ করে থাকে। কারণ খেজুরে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে, বিধায় পরিমিত পরিমাণে এটি গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ। খেজুরের পাশাপাশি প্রচুর পানি ও ফলের রস পান করা উচিত, যাতে সারাদিনের পানিশূন্যতা নিমেষেই দূর করা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া শরীরের ক্ষয়পূরণে প্রোটিনের বিকল্প নেই। প্রতিদিনের ইফতারে চর্বিহীন মাংস, চামড়াবিহীন মুরগি, মাছ, ডিম কিংবা ডাল অন্তর্ভুক্ত করুন। এ ছাড়া খাবারটি কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে স্টিমিং, গ্রিলিং কিংবা বেকিং পদ্ধতি বেছে নিন। সেই সঙ্গে ভাজাভুজি খেতে মন চাইলে সাধারণ তেলের পরিবর্তে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ তেল খুব সামান্য পরিমাণে ব্যবহার করে শ্যালো ফ্রাই করতে পারেন। এটি আপনার হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করবে। 

আবার ইফতারে দ্রুত হজম হয়ে যায় এমন চিনিযুক্ত খাবারের চেয়ে জটিল কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাবার বেশি উপকারী। সাদা ভাতের পরিবর্তে বাদামি চাল, আটা বা লাল আটার রুটি এবং আস্ত শস্যের নুডলস আপনার শরীরকে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগাতে সাহায্য করবে। এগুলো ধীরে ধীরে রক্তে চিনি সরবরাহ করে। ফলে ইফতারের পর ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাব আসে না। ফাইবার সমৃদ্ধ এ খাবারগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকর, যা রমজানে অনেকেরই সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

এ বিষয়ে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ইফতারে প্রতিদিন অন্তত দুবার শাকসবজি এবং ফল রাখা জরুরি। আপনার ইফতারের থালাটি যদি ফল ও শাকসবজির রঙে রঙিন হয়, তবে বুঝবেন আপনি সঠিক পুষ্টি পাচ্ছেন। শাকসবজি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করে, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে তরমুজ, শসা কিংবা পেঁপের মতো পানীয় ফলগুলো এ সময়ে শরীরের পানির চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভাজাপোড়া খাবারের ভিড়ে সামান্য সালাদ আপনার পাকস্থলীকে আরাম দিতে পারে।