সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

বড় বিপদের আগাম সংকেত ‘মিনি-স্ট্রোক’ বুঝবেন যেসব লক্ষণে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

হঠাৎ করে শরীরের একপাশ দুর্বল লাগা বা কথা জড়িয়ে যাওয়াকে আমরা অনেক সময় সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করি। কিন্তু চিকিৎসকরা একে বলছেন ‘ওয়ার্নিং স্ট্রোক’ বা ‘মিনি-স্ট্রোক’। যা মূলত বড় কোনো স্ট্রোকের আগাম সতর্কতা। লক্ষণগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে মিলিয়ে গেলেও এটি হতে পারে প্রাণঘাতী, তাই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

আসলে ‘মিনি-স্ট্রোক’ কী?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ)। যখন মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটে, তখনই এটি দেখা দেয়। ব্রিটিশ চিকিৎসকদের মতে, এটি আসলে ‘মস্তিষ্কের হার্ট অ্যাটাক’। যদি উপসর্গগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেরে যায় তবেই তাকে টিআইএ বলা হয়, নয়তো এটি স্থায়ী স্ট্রোকে রূপ নিতে পারে।

দ্রুত চেনার উপায়: ‘BE FAST’ সূত্র

স্ট্রোকের লক্ষণগুলো সহজে মনে রাখার জন্য বিশেষজ্ঞরা ‘BE FAST’ ফর্মুলা ব্যবহারের পরামর্শ দেন:

B (Balance): হঠাৎ শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।

E (Eyes): ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা।

F (Face): হাসতে গেলে মুখের একপাশ ঝুলে যাওয়া।

A (Arms): হাত উপরে তুলতে গেলে এক হাত পড়ে যাওয়া বা অবশ ভাব।

S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্ট করে বলতে না পারা।

T (Time): লক্ষণ দেখামাত্র সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া।

অন্যান্য উপসর্গ

প্রধান লক্ষণগুলোর বাইরেও হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া কিংবা হঠাৎ করে বিভ্রান্তিতে ভোগা মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, সাধারণত ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সিদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি থাকলেও তরুণরা সম্পূর্ণ নিরাপদ নন। অনেকের হৃদপিণ্ডে জন্মগত ছিদ্র থাকতে পারে যা ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন রক্ত জমাট বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা পরবর্তীকালে স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে।

চিকিৎসকদের কড়া সতর্কবার্তা

ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা সতর্ক করে বলছে, মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে মিলিয়ে যায় বলে অনেকেই একে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই ক্ষণস্থায়ী সমস্যাটিই আসলে শরীরকে জানান দিচ্ছে যে বড় কোনো বিপদ আসছে। তাই লক্ষণ সেরে গেলেও দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।

মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে একটি বড় ধরনের স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া থেকে আপনাকে বাঁচাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বড় বিপদের আগাম সংকেত ‘মিনি-স্ট্রোক’ বুঝবেন যেসব লক্ষণে

আপডেট সময় : ০২:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

হঠাৎ করে শরীরের একপাশ দুর্বল লাগা বা কথা জড়িয়ে যাওয়াকে আমরা অনেক সময় সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করি। কিন্তু চিকিৎসকরা একে বলছেন ‘ওয়ার্নিং স্ট্রোক’ বা ‘মিনি-স্ট্রোক’। যা মূলত বড় কোনো স্ট্রোকের আগাম সতর্কতা। লক্ষণগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে মিলিয়ে গেলেও এটি হতে পারে প্রাণঘাতী, তাই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

আসলে ‘মিনি-স্ট্রোক’ কী?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ)। যখন মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটে, তখনই এটি দেখা দেয়। ব্রিটিশ চিকিৎসকদের মতে, এটি আসলে ‘মস্তিষ্কের হার্ট অ্যাটাক’। যদি উপসর্গগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেরে যায় তবেই তাকে টিআইএ বলা হয়, নয়তো এটি স্থায়ী স্ট্রোকে রূপ নিতে পারে।

দ্রুত চেনার উপায়: ‘BE FAST’ সূত্র

স্ট্রোকের লক্ষণগুলো সহজে মনে রাখার জন্য বিশেষজ্ঞরা ‘BE FAST’ ফর্মুলা ব্যবহারের পরামর্শ দেন:

B (Balance): হঠাৎ শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।

E (Eyes): ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা।

F (Face): হাসতে গেলে মুখের একপাশ ঝুলে যাওয়া।

A (Arms): হাত উপরে তুলতে গেলে এক হাত পড়ে যাওয়া বা অবশ ভাব।

S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্ট করে বলতে না পারা।

T (Time): লক্ষণ দেখামাত্র সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া।

অন্যান্য উপসর্গ

প্রধান লক্ষণগুলোর বাইরেও হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া কিংবা হঠাৎ করে বিভ্রান্তিতে ভোগা মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, সাধারণত ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সিদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি থাকলেও তরুণরা সম্পূর্ণ নিরাপদ নন। অনেকের হৃদপিণ্ডে জন্মগত ছিদ্র থাকতে পারে যা ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন রক্ত জমাট বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা পরবর্তীকালে স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে।

চিকিৎসকদের কড়া সতর্কবার্তা

ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা সতর্ক করে বলছে, মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে মিলিয়ে যায় বলে অনেকেই একে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই ক্ষণস্থায়ী সমস্যাটিই আসলে শরীরকে জানান দিচ্ছে যে বড় কোনো বিপদ আসছে। তাই লক্ষণ সেরে গেলেও দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।

মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে একটি বড় ধরনের স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া থেকে আপনাকে বাঁচাতে।