সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪

হবিগঞ্জে চারটি আসনেই নির্বাচিত বিএনপি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮১ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জের চারটি আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি। জেলার চার প্রার্থীই নিরঙ্কুশ ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। দলটি ইতিহাসে এই প্রথম জেলায় সবকটি সংসদীয় আসনে বিজয়ী হলো।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ৯টি উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ঘোষিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল): এই আসনে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (রিকশা প্রতীক) পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট। 

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট। ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ বদরুর রেজা (চেয়ার প্রতীক) পেয়েছেন ৫ হাজার ২৭২ এবং বাসদের কাজী তোফায়েল আহমেদ (মোটরগাড়ি) পেয়েছেন ৬৪৪ ভোট।

৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ ভোটারের এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৭৭টি, যা মোট ভোটারের ৪৬.০৮ শতাংশ।

হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ): এই আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমীর আব্দুল বাছিত আজাদ (দেওয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৬২ ভোট।

অন্যদের মধ্যে আফছার আহমেদ (ফুটবল) পেয়েছেন ১ হাজার ৮৪৩ ভোট, লোকমান আহমদ তালুকদার (মই) ৪৪৮ এবং আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী (লাঙ্গল) ৯৪১ ভোট।

৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৯ ভোটারের এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯৭৫টি, যা মোট ভোটের ৫০.৯১ শতাংশ।

হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ): বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলের কাজী মহসিন আহমেদ (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৬৮ ভোট।

ইসলামিক ফ্রন্টের এসএম সরওয়ার (মোমবাতি) পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৩৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল (হাতপাখা) পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৪৩ ভোট। জাতীয় পার্টির আব্দুল মুমিন চৌধুরী (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ এবং বাসদের শাহীনুর রহমান (ছড়ি) পেয়েছেন ১৩২ ভোট।

৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২ ভোটারের এই আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪টি, যা ৫১.১২ শতাংশ।

হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর): জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শিল্পপতি এসএম ফয়সল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের (দেওয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪৪৬ ভোট। 

অন্যদের মধ্যে মো. গিয়াস উদ্দিন (মোমবাতি) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট; মো. মুজিবুর রহমান (মই) ৩২৯; মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল) ৪৮৪; মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন (ছড়ি) ৪৮৪; শাহ মো. আল আমিন (হারিকেন) ৫৩৬; মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) ৬৫২; এবং সালেহ আহমদ সাজন (ফুটবল) পেয়েছেন ৬১৯ ভোট।

৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১ ভোটারের এ আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৯৭টি, যা ৫৬.১০ শতাংশ।

হবিগঞ্জের চারটি আসনেই বিএনপির এই নিরঙ্কুশ জয়কে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ হিসেবে দেখছেন। জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন ফলাফল এর আগে দেখা যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জে চারটি আসনেই নির্বাচিত বিএনপি

আপডেট সময় : ০৯:১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জের চারটি আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি। জেলার চার প্রার্থীই নিরঙ্কুশ ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। দলটি ইতিহাসে এই প্রথম জেলায় সবকটি সংসদীয় আসনে বিজয়ী হলো।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ৯টি উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ঘোষিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল): এই আসনে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (রিকশা প্রতীক) পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট। 

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট। ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ বদরুর রেজা (চেয়ার প্রতীক) পেয়েছেন ৫ হাজার ২৭২ এবং বাসদের কাজী তোফায়েল আহমেদ (মোটরগাড়ি) পেয়েছেন ৬৪৪ ভোট।

৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ ভোটারের এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৭৭টি, যা মোট ভোটারের ৪৬.০৮ শতাংশ।

হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ): এই আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমীর আব্দুল বাছিত আজাদ (দেওয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৬২ ভোট।

অন্যদের মধ্যে আফছার আহমেদ (ফুটবল) পেয়েছেন ১ হাজার ৮৪৩ ভোট, লোকমান আহমদ তালুকদার (মই) ৪৪৮ এবং আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী (লাঙ্গল) ৯৪১ ভোট।

৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৯ ভোটারের এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯৭৫টি, যা মোট ভোটের ৫০.৯১ শতাংশ।

হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ): বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলের কাজী মহসিন আহমেদ (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৬৮ ভোট।

ইসলামিক ফ্রন্টের এসএম সরওয়ার (মোমবাতি) পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৩৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল (হাতপাখা) পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৪৩ ভোট। জাতীয় পার্টির আব্দুল মুমিন চৌধুরী (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ এবং বাসদের শাহীনুর রহমান (ছড়ি) পেয়েছেন ১৩২ ভোট।

৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২ ভোটারের এই আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪টি, যা ৫১.১২ শতাংশ।

হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর): জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শিল্পপতি এসএম ফয়সল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের (দেওয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪৪৬ ভোট। 

অন্যদের মধ্যে মো. গিয়াস উদ্দিন (মোমবাতি) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট; মো. মুজিবুর রহমান (মই) ৩২৯; মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল) ৪৮৪; মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন (ছড়ি) ৪৮৪; শাহ মো. আল আমিন (হারিকেন) ৫৩৬; মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) ৬৫২; এবং সালেহ আহমদ সাজন (ফুটবল) পেয়েছেন ৬১৯ ভোট।

৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১ ভোটারের এ আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৯৭টি, যা ৫৬.১০ শতাংশ।

হবিগঞ্জের চারটি আসনেই বিএনপির এই নিরঙ্কুশ জয়কে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ হিসেবে দেখছেন। জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন ফলাফল এর আগে দেখা যায়নি।