সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান নতুন চুল গজাতে ৪ ভেষজের ব্যবহার ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশে ১১ মৃত্যু, হাইকোর্টে রিট ফিফার নতুন নিয়মে আর্জেন্টিনাসহ সুবিধা পাচ্ছে যারা মেসির দুটি কীর্তিকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি সাত মাসে সাড়ে ৫ কোটি গাছ লাগাবে সরকার বাহুবলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন হবিগঞ্জ শহরে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগ জনজীবন মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এমপি ফয়সলের প্রচেষ্টায় ১০০ শয্যায় উন্নীত সিলেটসহ ৪ বিভাগে বন্যার পূর্বাভাস বন্ধ পাটকলে ১০৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ

হবিগঞ্জ শহরে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগ জনজীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

ভারী বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বরে রয়েছে বৃষ্টির পানি। শহরের প্রায় সব অলিগলিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে পৌর এলাকার জনজীবন।

গতকাল শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে শহরের ফৌজদারী কোর্টের আইনজীবী সহকারি সমিতি, মোক্তার লাইব্রেরী, পুরাতন পৌরসভা সড়ক, পুরাতন আইনজীবী সমিতি ভবন, অনন্তপুর, মোহনপুর, শায়েস্তানগর, নোয়াহাটি, গার্নিংপার্ক, ঘাটিয়া, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। এতে করে যান চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাব, ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা বাড়ছে। শুধু বাসাবাড়িই নয়, জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমও প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্কুলের শ্রেণিকক্ষ পানিতে ডুবে থাকায় নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নির্বিচারে খাল ও জলাধার দখল এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবই এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। শুকনো মৌসুমে পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। আবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ড্রেন নির্মাণেও তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বর্ষা মৌসুম এলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তখন শুরু হয় পৌর কর্তৃপক্ষের দৌড়ঝাঁপ।

ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের ভাষ্য, পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের হিস্যা পৌর বাসিন্দাদের কাছ থেকে কড়ায়গণ্ডায় বুঝে নেয়; বিনিময়ে তারা নাগরিক সেবা পান না।

শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা জুয়েল চৌধুরী বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে সমস্যাটি সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম এলেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। দ্রুত শহরের ড্রেনগুলো সংস্কার, খাল পুনর্খনন এবং দখলমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা এমএ আর শায়েল বলেন, ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কারে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। কখনও কখনও নামমাত্র পরিষ্কার করা হয়; যা ভারী বৃষ্টির পানি অপসারণে যথেষ্ট নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জ শহরে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগ জনজীবন

আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

ভারী বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বরে রয়েছে বৃষ্টির পানি। শহরের প্রায় সব অলিগলিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে পৌর এলাকার জনজীবন।

গতকাল শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে শহরের ফৌজদারী কোর্টের আইনজীবী সহকারি সমিতি, মোক্তার লাইব্রেরী, পুরাতন পৌরসভা সড়ক, পুরাতন আইনজীবী সমিতি ভবন, অনন্তপুর, মোহনপুর, শায়েস্তানগর, নোয়াহাটি, গার্নিংপার্ক, ঘাটিয়া, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। এতে করে যান চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাব, ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা বাড়ছে। শুধু বাসাবাড়িই নয়, জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমও প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্কুলের শ্রেণিকক্ষ পানিতে ডুবে থাকায় নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নির্বিচারে খাল ও জলাধার দখল এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবই এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। শুকনো মৌসুমে পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। আবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ড্রেন নির্মাণেও তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বর্ষা মৌসুম এলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তখন শুরু হয় পৌর কর্তৃপক্ষের দৌড়ঝাঁপ।

ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের ভাষ্য, পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের হিস্যা পৌর বাসিন্দাদের কাছ থেকে কড়ায়গণ্ডায় বুঝে নেয়; বিনিময়ে তারা নাগরিক সেবা পান না।

শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা জুয়েল চৌধুরী বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে সমস্যাটি সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম এলেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। দ্রুত শহরের ড্রেনগুলো সংস্কার, খাল পুনর্খনন এবং দখলমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা এমএ আর শায়েল বলেন, ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কারে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। কখনও কখনও নামমাত্র পরিষ্কার করা হয়; যা ভারী বৃষ্টির পানি অপসারণে যথেষ্ট নয়।