সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ সীমান্তে পুশইন সতর্ক ৫৫ বিজিবি, পাহারায় চা বাগানের শ্রমিকরাও সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও পুনর্মিলনী সিলেট কাষ্টঘরে বিশেষ অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা বড়ি ও নগদ ১ লাখ ৮৬ হাজার ২০৬টাকাসহ গ্রেফতার ১ সিলেটে মাদক আস্তানায় গ্রেফতার ২ সিলেটে পুলিশের চিরুনি অভিযান, গ্রেফতার ৯৪ সিলেট অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক- রেজা হাসান সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু,নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিসিক প্রশাসক আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার- শিক্ষামন্ত্রী লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প

হবিগঞ্জ সীমান্তে পুশইন সতর্ক ৫৫ বিজিবি, পাহারায় চা বাগানের শ্রমিকরাও

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানসংলগ্ন সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের (পুশইন) চেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৫ বিজিবি)। ঘটনার পর থেকে পুরো ১০৩ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিজিবির সদস্যদের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী চা বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও রাত জেগে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন। পাহাড়, চা বাগান, রাবার বাগান এবং দুর্গম সীমান্তপথে চলছে জোরদার টহল ও নজরদারি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে তেলিয়াপাড়া চা বাগানসংলগ্ন ৮২ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থান নেয়। স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়।

পুশইনের খবর পেয়ে ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান গভীর রাতেই সীমান্ত এলাকায় ছুটে যান। তাঁর নেতৃত্বে টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়। বিজিবির সদস্যরা পাহাড়, চা বাগান, রাবার বাগান ও দুর্গম সীমান্তপথে রাতভর টহল দিয়ে প্রতিটি প্রবেশপথ নিজেদের নজরদারির আওতায় রাখেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত টহল দল মোতায়েন, নাইট ভিশন যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্তের ওপারে রাবার বাগানে যাদের জড়ো করা হয়েছিল, রোববার ভোরের পর থেকে তাদের আর দেখা যায়নি। তবে বিজিবির ধারণা, কৌশল পরিবর্তন করে বিএসএফ অন্য কোনো সীমান্তপথ দিয়ে আবারও পুশইনের চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পাহাড়ঘেঁষা সীমান্ত এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, “শুক্রবার গভীর রাতে সীমান্তের লাইট বন্ধ করে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত তৎপরতায় সেই চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের ১০৩ কিলোমিটার এলাকায় নিশ্ছিদ্র টহল চলছে।

তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে ভারতের যেকোনো ধরনের অবৈধ তৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভাব্য সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
সীমান্তবর্তী চা বাগান ও আশপাশ গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানানো হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জ সীমান্তে পুশইন সতর্ক ৫৫ বিজিবি, পাহারায় চা বাগানের শ্রমিকরাও

আপডেট সময় : ০৩:০৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

মাধবপুর প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানসংলগ্ন সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের (পুশইন) চেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৫ বিজিবি)। ঘটনার পর থেকে পুরো ১০৩ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিজিবির সদস্যদের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী চা বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও রাত জেগে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন। পাহাড়, চা বাগান, রাবার বাগান এবং দুর্গম সীমান্তপথে চলছে জোরদার টহল ও নজরদারি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে তেলিয়াপাড়া চা বাগানসংলগ্ন ৮২ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থান নেয়। স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়।

পুশইনের খবর পেয়ে ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান গভীর রাতেই সীমান্ত এলাকায় ছুটে যান। তাঁর নেতৃত্বে টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়। বিজিবির সদস্যরা পাহাড়, চা বাগান, রাবার বাগান ও দুর্গম সীমান্তপথে রাতভর টহল দিয়ে প্রতিটি প্রবেশপথ নিজেদের নজরদারির আওতায় রাখেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত টহল দল মোতায়েন, নাইট ভিশন যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্তের ওপারে রাবার বাগানে যাদের জড়ো করা হয়েছিল, রোববার ভোরের পর থেকে তাদের আর দেখা যায়নি। তবে বিজিবির ধারণা, কৌশল পরিবর্তন করে বিএসএফ অন্য কোনো সীমান্তপথ দিয়ে আবারও পুশইনের চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পাহাড়ঘেঁষা সীমান্ত এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, “শুক্রবার গভীর রাতে সীমান্তের লাইট বন্ধ করে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত তৎপরতায় সেই চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের ১০৩ কিলোমিটার এলাকায় নিশ্ছিদ্র টহল চলছে।

তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে ভারতের যেকোনো ধরনের অবৈধ তৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভাব্য সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
সীমান্তবর্তী চা বাগান ও আশপাশ গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানানো হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।