সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আত্ম প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আত্ম প্রকাশ,সুনামগঞ্জ জেলার যাতায়াত ব্যবস্থা মূলত সড়ক ও নৌ পথের উপর নির্ভরশীলল। ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে সড়ক পথের যোগাযোগ থাকলেও জেলার অনেক উপজেলার সাথে সড়ক পথের যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই।
গত ২৯জুলাই২৬ ইং তারিখে প্রেস ক্লাব সিলেটে সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আত্ম প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত। নবগঠিত সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে তারেক আল মঈন আহ্বায়ক লিখিত বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে হচ্ছে বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম অন্যতম প্রধান নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক রাষ্ট্রিয় মালিকানায় একটি গণমাধ্যম পরিবহন সংস্থা। তদানিন্তন পূর্ব বাংলায় বৃটিশ শাসন আমলে ১৮৬২ সালের ১৫ই নভেম্বরে এর যাত্রা শুরু হয়। এদিন দর্পনা হইতে কুষ্টিয়া পর্যন্ত ৫৩.১১ কিঃ মিঃ রেল পথ চালু করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তা সম্প্রসারন লাভ করে। ১৯৭১ইং সালের দেশ স্বাধীনের পর এর নাম রাখা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
ভৌগলিক বিবেচনায় সিলেট সুনামগঞ্জ বৃহত্তর সিলেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সিলেট, সুনামগঞ্জ একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এ গুলো জেলার শ্রেণী অনুসারে “এ” শ্রেণীভূক্ত জেলা।
সুনামগঞ্জ জেলা সিলেট বিভাগের উত্তর পূর্বাঞ্চলের ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেষে হাওর বাওর পরিবেষ্টিত একটি নীচু জলাভূমি এলাকা। এ জেলার পূর্বে সিলেট জেলা, পশ্চিমে-নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ, দক্ষিনে হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলা অবস্থিত।
এ জেলার মোট আয়তন ৩,৭৪৭.১৮ বর্গ কিঃ মিঃ। জনসংখ্যা ২০২২ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী ২৬,৯৫,৪৯৫ জনক (ছাব্বিশ লক্ষ পচানব্বই হাজার চারশত পচানব্বই) এ জেলায় ১২টি উপজেলা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলার যাতায়াত ব্যবস্থা মূলত সড়ক ও নৌ পথের উপর নির্ভরশীলল। ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে সড়ক পথের যোগাযোগ থাকলেও জেলার অনেক উপজেলার সাথে সড়ক পথের যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই।
জেলার অভ্যন্তরীন যোগাযোগের ক্ষেত্রে কয়েকটি উপজেলার সড়ক পথে জেলা সদরের যোগাযোগ থাকলেও (যেমনঃ-জামাল গঞ্জ দিরাই, তাহিরপুর) অন্যান্য দূর্গম উপজেলা শাল্লা, মধ্যনগর, ধর্মপাশা, দোয়ারা বাজার যোগাযোগের ক্ষেত্রে নৌ পথই একমাত্র ভরসা। যানবাহন হিসাবে নৌকা, ট্রলার, লঞ্চ ও স্পীড বোড ব্যবহৃত হয়, তাও বর্ষাকালে। হেমন্ত কালে পায়ে হেটে, মোটর সাইকেলে বা ইজিবাইকে যাতায়াত করতে হয়। এসব যানবাহনে বর্ষাকালে ও হেমন্ত কালে যাতায়াত ব্যয় বহুল ও সময় সাপেক্ষ।
সিলেট হতে মোহনগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১৪৯ কিলোমিটার। সড়ক পথের সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও ঐ জায়গা গাড়ি দিয়ে পাড়ি দিতে অনুমান ৫ঘন্টা ৩০ মিঃ সময় লাগে। তা ছাড়া সুনামগঞ্জ থেকে মোহন গঞ্জের দূরত্ব ১০৮ কিলোমিটার। নদী পথে ঐ দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগবে অনুমান ৮-১০ ঘন্টা। সুনামগঞ্জ হাওর বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় দূর্গম উপজেলা থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগে ১৫-১৮ঘন্টা।
সুনামগঞ্জ জেলা অপরুপ হাওর, নদী, পাহাড়ের পাদদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত, এখানে দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওর, টেকেরঘাটের চুনাপাথর খনি নীলাদ্রী, শহীদ সিরাজ লেক, শিমুল বাগান, বারিক টিলা ইত্যাদি। যা পর্যটকরা দেখতে এসে যাতায়াত ব্যবস্থার কারনে তাদের ভীষন দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
সুনামগঞ্জ জেলায় রেলপথ নাই বললেই চলে। ১৯৫৬ সালে নির্মিত প্রায় ৩৫ কিঃ মিঃ সিলেট ছাতক রেললাইন থাকলেও সেখানের আহমদাবাদ রেল ষ্টেশনটি ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে সিলেটের সাথে ছাতকের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
সাশ্রয়ী মূল্যে পন্য ও কাচামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলওয়ে বিরাট ভুমিকা পালন করে। যা দেশের অর্থনৈতিক ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ আরাম দায়ক ভ্রমনের জন্য ইহা একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।

উপস্থিত বক্তরা বলেন এমতা অবস্থায় জেলার পর্যটন খাত প্রসার, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীন যাতায়াতের ক্ষেত্রে ও দূর্গরী অঞ্চলের উপজেলার জনসাধারণ নিরাপদ আরামদায়ক, সাশ্রয়ী এবং কম সময়ের যাতায়াতের জন্য সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথের বিস্তৃতি প্রয়োজন। আমরা সরকারের কাছে সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবী করছি এবং এ দাবী পূরনের লক্ষ্যে আমরা সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ নামে আত্মপ্রকাশ করছি।
নবগঠিত সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদে উপস্থিত ছিলেন – প্রধান উপদেষ্ঠা বীরমুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমদ,প্রধান পৃষ্টপোষক- বিশিষ্ট সমাজ সেবক-আশিক চৌধুরী, সদস্য বিশিষ্ট কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা, আহ্বায়ক- তারেক আল-মঈন, যুগ্ম আহ্বায়ক- আবাব মিয়া (সদস্য সচিব), যুগ্ম আহ্বায়ক- আমিরুজ্জামন চৌধুরী হুমায়ুন, আনোয়ার চৌধুরী। সদস্য- মোঃ সাদিকুর রহমান, মোঃ ছইয়ল মিয়া (সুহেল), বাবর মিয়া, কায়ছার আহমদ, এডভোকেট আব্দুল মজিদ, এডভোকেট কাজী সেবা, এডভোকেট আবু তালেব, অলক রায়, মোঃ জসিম উদ্দিন, মুজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, এ হোসেন, জমির উদ্দিন।
অন্যান্য উপদেষ্ঠাগণের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এম, এ, ওয়াদুদ জি এব (অবঃ) জনতা ব্যাংক, এম, এ, মান্নান (লন্ডন প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবী), রফিকুল ইসলাম সাবেক চেয়ারম্যান-চিলাউড়া ইউ/পি, জগন্নাথপুর, ডাঃ জামাল উদ্দিন, ভিউ নিউজ ৭১.কমের সম্পাদক ও প্রকাশক এবং ডেইলি বিজনেস মিরর, স্টেইট, জাতীয দৈনিক আলোর বার্তার সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ নুরুল আমীন খাঁন প্রমূখ।























