সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪

হবিগঞ্জ মাধবপুর বাজারে স্থায়ী যানজট রাস্তা দোকান-অটোর দখল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ৭১ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি :

মাধবপুর পৌরবাজারে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবিরাম যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারছে না। কয়েকদিনের মধ্যে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসে সবকিছু। ফলে এই বাজারের যানজট এখন যেন এক অনন্ত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন ফুলপট্টি রোড থেকে বিউটি হোটেল, সোনালী ব্যাংক হয়ে কাঁচাবাজার পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। ফুটপাত ও রাস্তার পাশে দখল করে বসেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান ও হকার। রাস্তার মাঝখানে সারি সারি টমটম, অটোরিকশা ও ভ্যানগাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় সড়ক প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ক্রেতা, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ এমনকি রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্সও আটকে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধ দোকানদারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। এ কারণেই উচ্ছেদ অভিযান স্থায়ীভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

সাবেক কাউন্সিলর শেখ জহিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মাধবপুর বাজার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। ফলে ছোট যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে। সবাই বাজারে ঢুকে জটলা সৃষ্টি করছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল্লাহ বলেন, যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ চলছে। বাজার এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান বলেন, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, বিকল্প স্থান নির্ধারণ ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেই বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে। শুধু প্রশাসন নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

অন্যদিকে স্থানীয়রা জানান, সরকারের পরিবর্তন হলেও মাধবপুর পৌরবাজারের দৃশ্য অপরিবর্তিত। অভিযান চালানো হয়, কিছুদিনের জন্য স্বস্তি আসে, তারপর আবার আগের মতো দখলদারিত্ব ও বিশৃঙ্খলা ফিরে আসে। তাদের দাবি, দখল সিন্ডিকেট ভেঙে নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং বাজারের স্থায়ী ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক জাহিদ বিন কাসেম বলেন, দিনের বেলায় যেন কোনো যানবাহন বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফুটপাত দখলকারীদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজনে জরিমানা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমরা চাই বাজারটিকে স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে।

সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান বলেন, আমি মেয়র থাকাকালে পৌরসভার জনবল দিয়ে বাজারে শৃঙ্খলা রাখার চেষ্টা করেছি। তখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন সবাই নিজস্ব নিয়মে চলছে, কেউ কারও কথা শুনতে চায় না। তাই প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের একসঙ্গে কাজ করলেই এই সমস্যা সমাধান সম্ভব।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রশাসন ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি চালালে মাধবপুর পৌরবাজারের বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ, পরিচ্ছন্ন ও চলাচলযোগ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জ মাধবপুর বাজারে স্থায়ী যানজট রাস্তা দোকান-অটোর দখল

আপডেট সময় : ০২:২০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

মাধবপুর প্রতিনিধি :

মাধবপুর পৌরবাজারে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবিরাম যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারছে না। কয়েকদিনের মধ্যে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসে সবকিছু। ফলে এই বাজারের যানজট এখন যেন এক অনন্ত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন ফুলপট্টি রোড থেকে বিউটি হোটেল, সোনালী ব্যাংক হয়ে কাঁচাবাজার পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। ফুটপাত ও রাস্তার পাশে দখল করে বসেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান ও হকার। রাস্তার মাঝখানে সারি সারি টমটম, অটোরিকশা ও ভ্যানগাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় সড়ক প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ক্রেতা, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ এমনকি রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্সও আটকে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধ দোকানদারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। এ কারণেই উচ্ছেদ অভিযান স্থায়ীভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

সাবেক কাউন্সিলর শেখ জহিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মাধবপুর বাজার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। ফলে ছোট যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে। সবাই বাজারে ঢুকে জটলা সৃষ্টি করছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল্লাহ বলেন, যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ চলছে। বাজার এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান বলেন, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, বিকল্প স্থান নির্ধারণ ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেই বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে। শুধু প্রশাসন নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

অন্যদিকে স্থানীয়রা জানান, সরকারের পরিবর্তন হলেও মাধবপুর পৌরবাজারের দৃশ্য অপরিবর্তিত। অভিযান চালানো হয়, কিছুদিনের জন্য স্বস্তি আসে, তারপর আবার আগের মতো দখলদারিত্ব ও বিশৃঙ্খলা ফিরে আসে। তাদের দাবি, দখল সিন্ডিকেট ভেঙে নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং বাজারের স্থায়ী ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক জাহিদ বিন কাসেম বলেন, দিনের বেলায় যেন কোনো যানবাহন বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফুটপাত দখলকারীদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজনে জরিমানা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমরা চাই বাজারটিকে স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে।

সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান বলেন, আমি মেয়র থাকাকালে পৌরসভার জনবল দিয়ে বাজারে শৃঙ্খলা রাখার চেষ্টা করেছি। তখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন সবাই নিজস্ব নিয়মে চলছে, কেউ কারও কথা শুনতে চায় না। তাই প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের একসঙ্গে কাজ করলেই এই সমস্যা সমাধান সম্ভব।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রশাসন ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি চালালে মাধবপুর পৌরবাজারের বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ, পরিচ্ছন্ন ও চলাচলযোগ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।