সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শ্রমিক আন্দোলনের ছবি তুললেই হামলা, কারণ কী? ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ সিলেটে আরও একজনের প্রাণ হানি পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রে প্তা রি পরোয়ানা সিলেটে ৫ বছরে সব রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস – সিসিক প্রশাসক সিলেট জৈন্তাপুরে ৬৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, আটক ৩ সিলেট ৪১ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসকনগরীর কোনো রাস্তা কাঁচা থাকবে না

কষ্টের শেষ কোথায় ? আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়ক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫ ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

অসংখ্য খানাখন্দে ভরপুর হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়ক যেন মরনফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঘটছে দুর্ঘটনা, বিকল হচ্ছে গাড়ি। ঝুঁকি আর দুর্ভোগ এ সড়কে চলাচলকারী কয়েক হাজার মানুষের নিত্যসঙ্গী।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং ভায়া জলসুখা (শরীফ উদ্দিন) সড়কের আজমিরীগঞ্জ পৌরসদরের লালমিয়া বাজার হতে বানিয়াচং উপজেলার কুন্ডরপাড় এলাকা পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়কের এমন বেহাল দশা দীর্ঘদিনের।

এতে চরম ভোগান্তি আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সড়কটিতে চলাচল করছেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী জেলার কয়েকটি উপজেলার হাজারো মানুষ। বিশেষ করে পৌরসদরের লালমিয়া বাজার থেকে সুজনী খালের উপর নির্মিত সেতু পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের অবস্থা যেন মৃত্যুকুপে পরিনত হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচংয়ের শরীফ উদ্দিন সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি, ইজিবাইক ও মালবাহী বিভিন্ন ধরনের ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্সসহ শত শত গাড়ি চলাচল করে। ব্যস্ততম এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটছে দুর্ঘটনাও। বিকল হচ্ছে যানবাহন। কয়েক দফায় গর্তের ভাঙ্গন মেরামত করা হলেও বিগত কয়েকমাস যাবত সড়কটির বিভিন্ন অংশের খানাখন্দ বেড়ে সড়কটি এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে দরপত্র না হওয়ায় সড়কটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে জরুরি ভিত্তিতে কিছু মেরামত করা হয়েছে।   

সরজমিনে সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসদরের লালমিয়া বাজার হতে উপজেলা পরিষদ হয়ে আজমিরীগঞ্জ এম্যালগেমেটেড বীর চরন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতু পর্যন্ত খানাখন্দে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সদর ইউনিয়নের বিরাট-শিবপাশ পয়েন্ট থেকে  বিরাট উজানপাড়া, জলসুখার পাটুলীপাড়া অংশ থেকে বানিয়াচং উপজেলার কুন্ডুরপাড় এলাকা পর্যন্ত সড়কটির ২১ কিলোমিটারের বিভিন্ন অংশে বেহালদশা। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে সবধরণের পরিবহন।

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানান, প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল দশায় প্রতিনিয়তই দুর্ভোগে পোহাচ্ছি। এই কষ্টের শেষ কোথায়?

সদর ইউনিয়ন ও জলসুখা ইউনিয়নের বাসিন্দা রওশন মিয়া, মাফিজুল মিয়া ও সেন্টু মিয়াসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান, বর্তমানে সড়কটির যে বেহাল দশা তাতে রিকশা বা যেকোন পরিবহনে উঠতেই ভয় হয়। কখন কোথায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।এমনকি জরুরি মুহুর্তে কোন রোগী নিয়ে জেলা শহরে যেতে হলে অনেক সময় সড়কের এমন দশায় পরিবহন মেলানো দায় হয়ে পড়ে।

সিএনজি অটোরিকশা চালক মুসা মিয়া বলেন, এই সড়ক দিয়ে যাত্রী নিয়ে বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও জেলা সদরে যাওয়া আসা করতে হয় আমাদের। দুর্ভোগের পাশাপাশি সড়কের খানাখন্দে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয় বেশী।

হবিগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ২১ কিলোমিটার সড়কটি মেরামতের জন্য ৩২ কোটি টাকার দরপত্র আহবানের কাজ ইতিমধ্যে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে। খুব দ্রুতই কার্যাদেশ প্রদানের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে বলে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে আমাদের জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কষ্টের শেষ কোথায় ? আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়ক

আপডেট সময় : ০১:২৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

অসংখ্য খানাখন্দে ভরপুর হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়ক যেন মরনফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঘটছে দুর্ঘটনা, বিকল হচ্ছে গাড়ি। ঝুঁকি আর দুর্ভোগ এ সড়কে চলাচলকারী কয়েক হাজার মানুষের নিত্যসঙ্গী।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং ভায়া জলসুখা (শরীফ উদ্দিন) সড়কের আজমিরীগঞ্জ পৌরসদরের লালমিয়া বাজার হতে বানিয়াচং উপজেলার কুন্ডরপাড় এলাকা পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়কের এমন বেহাল দশা দীর্ঘদিনের।

এতে চরম ভোগান্তি আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সড়কটিতে চলাচল করছেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী জেলার কয়েকটি উপজেলার হাজারো মানুষ। বিশেষ করে পৌরসদরের লালমিয়া বাজার থেকে সুজনী খালের উপর নির্মিত সেতু পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের অবস্থা যেন মৃত্যুকুপে পরিনত হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচংয়ের শরীফ উদ্দিন সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি, ইজিবাইক ও মালবাহী বিভিন্ন ধরনের ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্সসহ শত শত গাড়ি চলাচল করে। ব্যস্ততম এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটছে দুর্ঘটনাও। বিকল হচ্ছে যানবাহন। কয়েক দফায় গর্তের ভাঙ্গন মেরামত করা হলেও বিগত কয়েকমাস যাবত সড়কটির বিভিন্ন অংশের খানাখন্দ বেড়ে সড়কটি এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে দরপত্র না হওয়ায় সড়কটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে জরুরি ভিত্তিতে কিছু মেরামত করা হয়েছে।   

সরজমিনে সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসদরের লালমিয়া বাজার হতে উপজেলা পরিষদ হয়ে আজমিরীগঞ্জ এম্যালগেমেটেড বীর চরন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতু পর্যন্ত খানাখন্দে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সদর ইউনিয়নের বিরাট-শিবপাশ পয়েন্ট থেকে  বিরাট উজানপাড়া, জলসুখার পাটুলীপাড়া অংশ থেকে বানিয়াচং উপজেলার কুন্ডুরপাড় এলাকা পর্যন্ত সড়কটির ২১ কিলোমিটারের বিভিন্ন অংশে বেহালদশা। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে সবধরণের পরিবহন।

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানান, প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল দশায় প্রতিনিয়তই দুর্ভোগে পোহাচ্ছি। এই কষ্টের শেষ কোথায়?

সদর ইউনিয়ন ও জলসুখা ইউনিয়নের বাসিন্দা রওশন মিয়া, মাফিজুল মিয়া ও সেন্টু মিয়াসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান, বর্তমানে সড়কটির যে বেহাল দশা তাতে রিকশা বা যেকোন পরিবহনে উঠতেই ভয় হয়। কখন কোথায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।এমনকি জরুরি মুহুর্তে কোন রোগী নিয়ে জেলা শহরে যেতে হলে অনেক সময় সড়কের এমন দশায় পরিবহন মেলানো দায় হয়ে পড়ে।

সিএনজি অটোরিকশা চালক মুসা মিয়া বলেন, এই সড়ক দিয়ে যাত্রী নিয়ে বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও জেলা সদরে যাওয়া আসা করতে হয় আমাদের। দুর্ভোগের পাশাপাশি সড়কের খানাখন্দে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয় বেশী।

হবিগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ২১ কিলোমিটার সড়কটি মেরামতের জন্য ৩২ কোটি টাকার দরপত্র আহবানের কাজ ইতিমধ্যে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে। খুব দ্রুতই কার্যাদেশ প্রদানের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে বলে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে আমাদের জানানো হয়েছে।