সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

পুলিশে চাকরি পেয়ে মহাখুশি ৭২ তরুণ-তরুণী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক :

কোনো ধরণের তদবির ছাড়া মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশে নিয়োগ পেয়ে মহাখুশি সুনামগঞ্জ জেলার ১২ থানার ৭২ জন তরুণ-তরুণী। নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী কৃষক, শ্রমজীবীসহ হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। পুলিশে চাকরি পেয়ে পরিবারের হাল ধরতে পেরে আবেগে আপ্লুত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত কনস্টেবল বরণ অনুষ্ঠানে পুলিশ বিভাগ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই তরুণ তরুণীরা।

এক প্রেসবিফিংয়ে জেলা পুলিশ জানিয়েছেন, চলতি বছরের সেপ্টম্বরে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) মোট ২৫১০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রাথমিক কাগজপত্র যাচাই ও মাঠ পরীক্ষার মাধ্যমে ৫৭৪ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ ২০৩ জন প্রার্থী মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এরমধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন ৭২ জন তরুণ-তরুণী। এরমধ্যে ৬৬ জন পুরুষ সদস্য ও ৬ জন নারী সদস্য রয়েছেন।

নিয়োগ পাওয়া শাল্লা উপজেলার বন্যা রাণী দাশ বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক। তাঁর আয় দিয়ে আমাদের সংসার চলে। আমি মাত্র ১২০ টাকা খরচ করে নিয়োগ পেয়েছি। আমার পরিবার অনেক খুশি। আমি চাই আমি আমার পরিবার দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে।

জামলাগঞ্জ উপজেলার স্বর্মিলা বলেন, আমার বাবা একজন কাঠ মিস্তি। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের মানুষ করেছেন। অভাব অনটনের মধ্যেও আমাদের পড়া শোনা ছাড়ননি। পুলিশের আসার আগে অনেকেই বলতো পুলিশে নিয়োগ পেতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ লাগে। কিন্তু আমি মাত্র ১২০ টাকায় যোগ্যতা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছি।

সাইফুল ইসলাম নামের আরেক নিয়োগপ্রাপ্ত তরুণ বলেন, আমার বাবা একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। পুলিশে চাকরি করা ছিল আমার ও আমার বাবার জন্যে স্বপ্নের। আজ সেই স্বপ্ন পুরুন হয়েছে। আমি পুলিশ বিভাগের প্রতি চির কৃতজ্ঞ।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার সকল ধাপ যোগ্যতা ও মেধা ভিত্তিক সঠিক নিয়মে সম্পন্ন করা হয়েছে। সমাজের নানা স্তরের মানুষ, বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেধাবী সন্তানেরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছেন। এ নিয়োগ তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পুলিশে চাকরি পেয়ে মহাখুশি ৭২ তরুণ-তরুণী

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪

সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক :

কোনো ধরণের তদবির ছাড়া মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশে নিয়োগ পেয়ে মহাখুশি সুনামগঞ্জ জেলার ১২ থানার ৭২ জন তরুণ-তরুণী। নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী কৃষক, শ্রমজীবীসহ হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। পুলিশে চাকরি পেয়ে পরিবারের হাল ধরতে পেরে আবেগে আপ্লুত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত কনস্টেবল বরণ অনুষ্ঠানে পুলিশ বিভাগ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই তরুণ তরুণীরা।

এক প্রেসবিফিংয়ে জেলা পুলিশ জানিয়েছেন, চলতি বছরের সেপ্টম্বরে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) মোট ২৫১০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রাথমিক কাগজপত্র যাচাই ও মাঠ পরীক্ষার মাধ্যমে ৫৭৪ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ ২০৩ জন প্রার্থী মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এরমধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন ৭২ জন তরুণ-তরুণী। এরমধ্যে ৬৬ জন পুরুষ সদস্য ও ৬ জন নারী সদস্য রয়েছেন।

নিয়োগ পাওয়া শাল্লা উপজেলার বন্যা রাণী দাশ বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক। তাঁর আয় দিয়ে আমাদের সংসার চলে। আমি মাত্র ১২০ টাকা খরচ করে নিয়োগ পেয়েছি। আমার পরিবার অনেক খুশি। আমি চাই আমি আমার পরিবার দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে।

জামলাগঞ্জ উপজেলার স্বর্মিলা বলেন, আমার বাবা একজন কাঠ মিস্তি। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের মানুষ করেছেন। অভাব অনটনের মধ্যেও আমাদের পড়া শোনা ছাড়ননি। পুলিশের আসার আগে অনেকেই বলতো পুলিশে নিয়োগ পেতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ লাগে। কিন্তু আমি মাত্র ১২০ টাকায় যোগ্যতা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছি।

সাইফুল ইসলাম নামের আরেক নিয়োগপ্রাপ্ত তরুণ বলেন, আমার বাবা একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। পুলিশে চাকরি করা ছিল আমার ও আমার বাবার জন্যে স্বপ্নের। আজ সেই স্বপ্ন পুরুন হয়েছে। আমি পুলিশ বিভাগের প্রতি চির কৃতজ্ঞ।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার সকল ধাপ যোগ্যতা ও মেধা ভিত্তিক সঠিক নিয়মে সম্পন্ন করা হয়েছে। সমাজের নানা স্তরের মানুষ, বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেধাবী সন্তানেরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছেন। এ নিয়োগ তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।