সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দলের সাক্ষাৎ সিলেট নগরীতে সড়ক ও জনপথ সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পর্যায়ক্রমে এ গ্রেডে উন্নীত করা হবে- এমপি মুক্তাদির জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা মহোৎসবের আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে- ডা. শফিকুর রহমান সিলেটে বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি হোটেলকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা সিলেটের সেফওয়ে সিলগালা, স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোক সতর্কবার্তা সিলেট র‌্যাবের অভিযানে পুলিশের টিয়ারগ্যাস গ্রেনেড উদ্ধার চীন রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ সিলেট মহানগরীর বাদামবাগিচা এলাকা পরিদর্শনে (সিসিক)কাইয়ুম চৌধুরী সিলেটে নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ সারোয়ার

জগন্নাথপুরে গ্রামীণ সড়কগুলোর কোন সংস্কার নেই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ জগন্নাথপুর প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়কগুলো সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ থমকে আছে। সম্প্রতি দুই দফা বন্যায় বিপর্যস্ত এসব সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকাবাসী ও প্রবাসী বিত্তবানদের অর্থায়নে মেরামত কাজ করে চলাফেরার কিছুটা উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ১৮ জুন থেকে এ উপজেলায় প্রথম দফা বন্যা দেখা দেয়। পরে আবার ১ জুলাই থেকে নদ—নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। প্রায় এক মাস যাবৎ পানির নিচে থাকা গ্রামীণ সড়কগুলো পুরোদমে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এলাকাবাসী। এদিকে, গত চার মাস যাবৎ কেশবপুর-এরালিয়া ভায়া রসুলগঞ্জ সড়কে এবং গত ২০ আগস্ট থেকে জগন্নাথপুর শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীন এই উপজেলার জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কে ৬ কিলোমিটার, কলকলিয়া-তেলিকোনা-চণ্ডীডর সড়কে ৫ কিলোমিটার, চিলাউড়া-হলিদপুর সড়কে ৫ কিলোমিটার, কেশবপুর-এরালিয়া ভায়া রসুলগঞ্জ সড়কে ১০ কিলোমিটার, শিবগঞ্জ-রানীগঞ্জ সড়কে ২ কিলোমিটার ও মজিদপুর-এরালিয়া সড়কের ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল গর্ত ও খানাখন্দ রয়েছে। সর্বমোট এ উপজেলার প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে। তবে এসব সড়ক সচল রাখতে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ও প্রবাসীদের অর্থায়নে সামাজিক সংগঠনগুলো এই দায়িত্ব পালন করছে।

ঘোষগাঁও জাগ্রত যুব সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিকরুল আলম বলেন, জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের ঘোষগাঁও এলাকায় বন্যার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দফা সংস্কার কাজ করানো হয়েছে। বতর্মানেও মেরামতের কাজ চলছে। ইসমাইলচক গ্রামের সাইফুল ইসলাম জাবেদ বলেন, রানীগঞ্জ-স্বজনশ্রী সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশে প্রবাসীদের অর্থায়নে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। ফলে এখন যানবাহন চলাচল করছে।

এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা নাগরিক ফোরামের সদস্য রুমানুল হক রুমেন বলেন, ২০২২ সালের স্মরণকালের বন্যার পর থেকে গত দুই বছরে এ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কোনো সড়কে কাজ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে উপজেলার সবকয়টি সড়ক বেহাল। চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন উপজেলাবাসী। স্থানীয়দের উদ্যোগে মেরামত না হলে যান চলাচল বন্ধ থাকত। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোতে দ্রুত কাজ শুরুর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন বলেন, দুই দফা বন্যায় উপজেলার ৯০০ কিলোমিটার সড়কপথের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার অংশ ধরা হয়েছে। ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি। যার আনুমানিক ক্ষতি ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর সংস্কারে ৪১ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। আশা করছি ট্রেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জগন্নাথপুরে গ্রামীণ সড়কগুলোর কোন সংস্কার নেই

আপডেট সময় : ০১:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

সুনামগঞ্জ জগন্নাথপুর প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়কগুলো সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ থমকে আছে। সম্প্রতি দুই দফা বন্যায় বিপর্যস্ত এসব সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকাবাসী ও প্রবাসী বিত্তবানদের অর্থায়নে মেরামত কাজ করে চলাফেরার কিছুটা উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ১৮ জুন থেকে এ উপজেলায় প্রথম দফা বন্যা দেখা দেয়। পরে আবার ১ জুলাই থেকে নদ—নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। প্রায় এক মাস যাবৎ পানির নিচে থাকা গ্রামীণ সড়কগুলো পুরোদমে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এলাকাবাসী। এদিকে, গত চার মাস যাবৎ কেশবপুর-এরালিয়া ভায়া রসুলগঞ্জ সড়কে এবং গত ২০ আগস্ট থেকে জগন্নাথপুর শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীন এই উপজেলার জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কে ৬ কিলোমিটার, কলকলিয়া-তেলিকোনা-চণ্ডীডর সড়কে ৫ কিলোমিটার, চিলাউড়া-হলিদপুর সড়কে ৫ কিলোমিটার, কেশবপুর-এরালিয়া ভায়া রসুলগঞ্জ সড়কে ১০ কিলোমিটার, শিবগঞ্জ-রানীগঞ্জ সড়কে ২ কিলোমিটার ও মজিদপুর-এরালিয়া সড়কের ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল গর্ত ও খানাখন্দ রয়েছে। সর্বমোট এ উপজেলার প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে। তবে এসব সড়ক সচল রাখতে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ও প্রবাসীদের অর্থায়নে সামাজিক সংগঠনগুলো এই দায়িত্ব পালন করছে।

ঘোষগাঁও জাগ্রত যুব সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিকরুল আলম বলেন, জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের ঘোষগাঁও এলাকায় বন্যার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দফা সংস্কার কাজ করানো হয়েছে। বতর্মানেও মেরামতের কাজ চলছে। ইসমাইলচক গ্রামের সাইফুল ইসলাম জাবেদ বলেন, রানীগঞ্জ-স্বজনশ্রী সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশে প্রবাসীদের অর্থায়নে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। ফলে এখন যানবাহন চলাচল করছে।

এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা নাগরিক ফোরামের সদস্য রুমানুল হক রুমেন বলেন, ২০২২ সালের স্মরণকালের বন্যার পর থেকে গত দুই বছরে এ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কোনো সড়কে কাজ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে উপজেলার সবকয়টি সড়ক বেহাল। চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন উপজেলাবাসী। স্থানীয়দের উদ্যোগে মেরামত না হলে যান চলাচল বন্ধ থাকত। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোতে দ্রুত কাজ শুরুর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন বলেন, দুই দফা বন্যায় উপজেলার ৯০০ কিলোমিটার সড়কপথের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার অংশ ধরা হয়েছে। ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি। যার আনুমানিক ক্ষতি ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর সংস্কারে ৪১ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। আশা করছি ট্রেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত কাজ শুরু হবে।