সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসকঐতিহ্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর কুলাউড়া উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে কুলাউড়া গোগালী ছড়া বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত সিলেট ভারতীয় মসলার চালান উদ্ধার সিলেটের পীরমহল্লা থেকে অস্ত্রসহ আটক ১ সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১, ভর্তি ৪৩ সিলেটের ডিসিসহ তিন কর্মকর্তাকে হাইকোর্টের শোকজ সিলেট জেলা ডিবি ও জকিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২ কদমতলীতে পরিবহন শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ: সিসিক প্রশাসকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত এসএমপি ট্রাফিক বিভাগের অভিযানে অবৈধ ভারতীয় কম্বল উদ্ধার সিলেটে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস- ২০২৬ উদযাপিত

হবিগঞ্জ নবীগঞ্জের দিনারপুরে পাহাড় কাটার ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭০ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :

নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি পরগণা দিনারপুরে পাহাড় কাটার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মাসুক আলী।

হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর শ্রী হরিপদ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে পাহাড় কাটায় জড়িত গজনাইপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের মৃত গেদু মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৫০), বনগাঁও গ্রামের মৃত নওয়াব উল্লার ছেলে আব্দুর নূর (৫০), সোনা মিয়া (৬০), আব্দূল গফুর (৪৮) কে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। নবীগঞ্জের পাহাড় কাটা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংবাদে উল্লেখ করা হয়- নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া, গজনাইপুর ও পানিউমদা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দিনারপুর পরগনা। এটি উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামে একটি পরিবেশবাদী সংগঠন দিনারপুর এলাকার টিলা ও পাহাড় না কাটার জন্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। এ ব্যাপারে হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা দিয়ে রুল জারি করেন। রুল শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায়ে নবীগঞ্জের দিনারপুরে পাহাড় ও টিলা কাটা রোধে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তাকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট এ ছাড়া তৎকালীন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে পাহাড় ও টিলা সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বছরের অধিকাংশ সময়জুড়ে দিনারপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কেটে মাটির রমরমা ব্যবসা করছে একটি অসাধু চক্র।

সম্প্রতি ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যত ভূমিকা না থাকায় ও দেশের চলমান অস্থিরতার সুযোগে বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে গজনাইপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের একটি বৃহৎ পাহাড় কাটা শুরু হয়। ওই গ্রামের গেদু মিয়ার ছেলে রাজু মিয়ার তত্বাবধানে স্থানীয় সঙ্ঘবদ্ধ চক্র এই পাহাড় থেকে এক্সভেটর (ভেকু) মেশিন সাহায্যে মাটি কাটছে। পরে ট্রাকভর্তি করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বনগাঁও গ্রামে। ভরাট করা হচ্ছে সোনা মিয়া ও নূর মিয়া গংদের মালিকানাধীন জায়গা। পাহাড় কাটার ফলে আশপাশের বাড়ি-ঘর ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে থেমে থেমে পাহাড় কাটা হলেও এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলছেন পরিবেশবিদেরা। অন্যদিকে প্রশাসনের নজর এড়াতে সরকারি ছুটিরদিনকে বেছে নেয় পাহাড়খেকোরা। ছুটিরদিনে রাতভর কাটা হয় পাহাড়।

স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উদাসীনতা ও দায়িত্ব নিয়ে ঠেলাঠেলিতে এমন কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর । তবে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানিয়েছেন পরিবেশবিদেরা। সংবাদ প্রকাশের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিসহ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর শ্রী হরিপদ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অভিযুক্ত চারজনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জ নবীগঞ্জের দিনারপুরে পাহাড় কাটার ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা

আপডেট সময় : ০৫:১৭:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

হবিগঞ্জ নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :

নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি পরগণা দিনারপুরে পাহাড় কাটার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মাসুক আলী।

হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর শ্রী হরিপদ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে পাহাড় কাটায় জড়িত গজনাইপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের মৃত গেদু মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৫০), বনগাঁও গ্রামের মৃত নওয়াব উল্লার ছেলে আব্দুর নূর (৫০), সোনা মিয়া (৬০), আব্দূল গফুর (৪৮) কে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। নবীগঞ্জের পাহাড় কাটা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংবাদে উল্লেখ করা হয়- নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া, গজনাইপুর ও পানিউমদা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দিনারপুর পরগনা। এটি উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামে একটি পরিবেশবাদী সংগঠন দিনারপুর এলাকার টিলা ও পাহাড় না কাটার জন্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। এ ব্যাপারে হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা দিয়ে রুল জারি করেন। রুল শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায়ে নবীগঞ্জের দিনারপুরে পাহাড় ও টিলা কাটা রোধে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তাকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট এ ছাড়া তৎকালীন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে পাহাড় ও টিলা সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বছরের অধিকাংশ সময়জুড়ে দিনারপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কেটে মাটির রমরমা ব্যবসা করছে একটি অসাধু চক্র।

সম্প্রতি ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যত ভূমিকা না থাকায় ও দেশের চলমান অস্থিরতার সুযোগে বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে গজনাইপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের একটি বৃহৎ পাহাড় কাটা শুরু হয়। ওই গ্রামের গেদু মিয়ার ছেলে রাজু মিয়ার তত্বাবধানে স্থানীয় সঙ্ঘবদ্ধ চক্র এই পাহাড় থেকে এক্সভেটর (ভেকু) মেশিন সাহায্যে মাটি কাটছে। পরে ট্রাকভর্তি করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বনগাঁও গ্রামে। ভরাট করা হচ্ছে সোনা মিয়া ও নূর মিয়া গংদের মালিকানাধীন জায়গা। পাহাড় কাটার ফলে আশপাশের বাড়ি-ঘর ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে থেমে থেমে পাহাড় কাটা হলেও এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলছেন পরিবেশবিদেরা। অন্যদিকে প্রশাসনের নজর এড়াতে সরকারি ছুটিরদিনকে বেছে নেয় পাহাড়খেকোরা। ছুটিরদিনে রাতভর কাটা হয় পাহাড়।

স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উদাসীনতা ও দায়িত্ব নিয়ে ঠেলাঠেলিতে এমন কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর । তবে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানিয়েছেন পরিবেশবিদেরা। সংবাদ প্রকাশের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিসহ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর শ্রী হরিপদ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অভিযুক্ত চারজনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।