সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

বানিয়াচংয়ে পুলিশকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, অজ্ঞাতনামা ৫/৬ হাজার আসামি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৪ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ বানিয়াচং প্রতিনিধি :

বানিয়াচংয়ে থানা ঘেরাও করে পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বানিয়াচং থানার তদন্ত ওসি আবু হানিফ বাদি হয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) পলাশ রঞ্জন দে। মামলার এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলার এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন কয়েক হাজার লোক। পর তারা সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে নতুন বাজার, বড়বাজার হয়ে বানিয়াচং থানায় রওয়ান দেয়। আন্দোলনকারীদের মিছিলটি থানার সন্নিকটে গেলে বানিয়াচং শাহী ঈদগাহ এলাকায় যাওয়া মাত্রই পুলিশ তাদের বাধা প্রদান করে।

এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৫ জন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরো ৩ জন।

বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের কয়েকটি মহল্লার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে থানার সামনে একত্রিত হন। কয়েক হাজার মানুষ বানিয়াচং থানা ঘেরাও করে। শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এক পর্যায়ে থানা ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। এ সময় থানার ভেতরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ পুলিশের ১৫ থেকে ১৬ সদস্য আটকা পড়েন।

এ সময় উত্তেজিত জনতা বানিয়াচং থানায় আগুন ধরিয়ে দিলে ভেতরে থাকা বেশ কিছু গাড়ি ভস্মীভূত হয়। এদিকে থানা ঘেরাওয়ের খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু কোনোভাবেই সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। এভাবে সময় গড়িয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত উত্তেজিত জনতা থানা ঘেরাও করে রাখেন। এরপর মধ্যরাতে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছসহ দলটির বেশ কিছু নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লোকজন তাও মানতে রাজি হয়নি।

পরে উত্তেজিত জনতা রাত ১টার দিকে সেনাবাহিনীকে প্রস্তাব দেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও বানিয়াচং ২নং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হায়দারুজ্জামান খান ধনমিয়া ও থানার এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরীকে তাদের হাতে তোলে দিতে। কিন্তু সেনাবাহিনী তাদের কথায় রাজি হয়নি। পরে সেনাবাহিনী জানায়, থানার ভেতরে ওই নেতাসহ আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী নেই। পরে জেলা বিএনপি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে লোকজন শান্ত হন। ওই দিন রাত ২টার দিকে থানার দ্বিতীয় তলায় অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে আইনশৃংখলা রাকারী বাহিনী। তাঁদের সেনাবাহিনীর গাড়িতে উঠানোর সময় এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরীকে উপস্থিত লোকজন ছিনিয়ে নিয়ে নেয়। পরে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যা করে তাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বানিয়াচংয়ে পুলিশকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, অজ্ঞাতনামা ৫/৬ হাজার আসামি

আপডেট সময় : ০২:৫২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৪

হবিগঞ্জ বানিয়াচং প্রতিনিধি :

বানিয়াচংয়ে থানা ঘেরাও করে পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বানিয়াচং থানার তদন্ত ওসি আবু হানিফ বাদি হয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) পলাশ রঞ্জন দে। মামলার এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলার এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন কয়েক হাজার লোক। পর তারা সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে নতুন বাজার, বড়বাজার হয়ে বানিয়াচং থানায় রওয়ান দেয়। আন্দোলনকারীদের মিছিলটি থানার সন্নিকটে গেলে বানিয়াচং শাহী ঈদগাহ এলাকায় যাওয়া মাত্রই পুলিশ তাদের বাধা প্রদান করে।

এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৫ জন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরো ৩ জন।

বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের কয়েকটি মহল্লার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে থানার সামনে একত্রিত হন। কয়েক হাজার মানুষ বানিয়াচং থানা ঘেরাও করে। শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এক পর্যায়ে থানা ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। এ সময় থানার ভেতরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ পুলিশের ১৫ থেকে ১৬ সদস্য আটকা পড়েন।

এ সময় উত্তেজিত জনতা বানিয়াচং থানায় আগুন ধরিয়ে দিলে ভেতরে থাকা বেশ কিছু গাড়ি ভস্মীভূত হয়। এদিকে থানা ঘেরাওয়ের খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু কোনোভাবেই সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। এভাবে সময় গড়িয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত উত্তেজিত জনতা থানা ঘেরাও করে রাখেন। এরপর মধ্যরাতে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছসহ দলটির বেশ কিছু নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লোকজন তাও মানতে রাজি হয়নি।

পরে উত্তেজিত জনতা রাত ১টার দিকে সেনাবাহিনীকে প্রস্তাব দেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও বানিয়াচং ২নং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হায়দারুজ্জামান খান ধনমিয়া ও থানার এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরীকে তাদের হাতে তোলে দিতে। কিন্তু সেনাবাহিনী তাদের কথায় রাজি হয়নি। পরে সেনাবাহিনী জানায়, থানার ভেতরে ওই নেতাসহ আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী নেই। পরে জেলা বিএনপি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে লোকজন শান্ত হন। ওই দিন রাত ২টার দিকে থানার দ্বিতীয় তলায় অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে আইনশৃংখলা রাকারী বাহিনী। তাঁদের সেনাবাহিনীর গাড়িতে উঠানোর সময় এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরীকে উপস্থিত লোকজন ছিনিয়ে নিয়ে নেয়। পরে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যা করে তাকে।