সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান বাউল বশিরউদ্দিন স্মরণ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক সিলেটে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকার শীর্ষে জাফলং,পর্যটনকেন্দ্র থেকে অবাধে পাথরলুট ও পরিবেশ ধ্বংসের কারণে প্রকৃতির বিনাশ- সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারগানের অনাকাঙ্ক্ষিত ফায়ারে ক্লিনার আহত সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে পাখি তাড়াতে গুলি, আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী অসময়ে মেলা আয়োজন করলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে’- মন্ত্রী আরিফুল হক সিলেটে আটক ২৭ যানবাহন, মামলা ২১ সিলেট জকিগঞ্জ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ,আটক ২ সাক্ষরতার হার ও শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী  কোনো চক্রান্তই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারবে না: খন্দকার মুক্তাদির লালাখাল চা বাগানে গীতা কোর্সের শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

সিলেটে পেঁয়াজের দাম ২১০ থেকে ২৪০

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭৫ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন:

সিলেটে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০০ ছাড়িয়েছে।  গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পেঁয়াজের দাম পাইকারি দরে  ১০০টাকা কেজি বিক্রি হলেও শনিবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ২০০। এ ছাড়া খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ২১০ থেকে ২৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যটি। 

অভিযোগ রয়েছে,বাজার মনিটরিংয়ে অভাবে পেঁয়াজের দামে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।দোকানিরা বলছেন,গতকাল ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া পরেই সিলেটের পেঁয়াজের বাজারে এর প্রভাব পরে দ্রুতই। 

জানা যায়, ভারত সরকার শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) দেওয়া এক আদেশে, ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। মূলত দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ভারত সরকার আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৮০০ ডলারে বেঁধে দিয়ে গত ২৮ অক্টোবর আদেশ জারি করেছিল ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, যা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে সে সময় জানানো হয়েছিল। সেই মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোয় আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রতি টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ৮০০ ডলারে বহাল থাকছে বলে জানায় ভারত সরকার। ওই সিদ্ধান্তের পর থেকেই সিলেটে বাজারে এর প্রভাব পড়ে।

সিলেটের ক্রেতারা বলছেন, খুচরা দোকানে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে; এতে কেজিতে ৫০ টাকা বাড়ানো হয় । এমন অবস্থায় প্রধান পাইকারি আড়ত নগরীর কালীঘাটে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে শনিবার সকাল থেকে কালীঘাট আড়তে পেঁয়াজের দাম ১৮০ থেকে ২০০টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হয়। নগরে সকাল থেকে খুচরা দোকানগুলোতে পেঁয়াজের দামও অস্বাভাবকি অবস্থায় চলে গেছে। খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন ২১০ থেকে ২৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় যাদের মজুত ছিল সেই বিক্রেতারা ১ থেকে ২ কেজির বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না। 

এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ক্রেতারা। পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক দাম শুনে তাদের কেউ কেউ হচ্ছেন হতভম্ব। ক্রেতাদের মনে প্রশ্ন জাগছে, এক রাতেই কি কালীঘাটে পেঁয়াজ শেষ হয়ে গেলো! ব্যবসায়ীরা ভারতের সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষকে বিপাকে ফেলছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।সকালের দিকে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে রীতিমত অবাক হয়েছেন নগরীর বাসিন্দা আলফাজ আলী। তিনি বলেন, ‘এক রাতেই কিভাবে ৬০ থেকে ৮০ থেকে বেড়ে যায়। দোকানিরা  মুজত রেখে ১ থেকে ২ কেজি বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না। কিন্তু দাম যখন আরও বাড়বে তারা বিক্রি শুরু করবেন। এতে আড়তদার ও দোকানিরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তারা এসব করছেন।’ সেজন্য প্রশাসনের কাছে তিনি বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতের খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৬০ রুপির মধ্যে। এদিকে বাংলাদেশের স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ বছরের অধিকাংশ সময়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখে। তবে মৌসুমের শেষ দিকে এসে দাম বেড়ে গেলে আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করে সরকার। চলতি বছরর জুন মাসেও পেঁয়াজের দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি ৩৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায় উঠে গেলে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে পেঁয়াজের দাম ২১০ থেকে ২৪০

আপডেট সময় : ১১:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন:

সিলেটে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০০ ছাড়িয়েছে।  গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পেঁয়াজের দাম পাইকারি দরে  ১০০টাকা কেজি বিক্রি হলেও শনিবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ২০০। এ ছাড়া খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ২১০ থেকে ২৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যটি। 

অভিযোগ রয়েছে,বাজার মনিটরিংয়ে অভাবে পেঁয়াজের দামে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।দোকানিরা বলছেন,গতকাল ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া পরেই সিলেটের পেঁয়াজের বাজারে এর প্রভাব পরে দ্রুতই। 

জানা যায়, ভারত সরকার শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) দেওয়া এক আদেশে, ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। মূলত দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ভারত সরকার আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৮০০ ডলারে বেঁধে দিয়ে গত ২৮ অক্টোবর আদেশ জারি করেছিল ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, যা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে সে সময় জানানো হয়েছিল। সেই মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোয় আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রতি টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ৮০০ ডলারে বহাল থাকছে বলে জানায় ভারত সরকার। ওই সিদ্ধান্তের পর থেকেই সিলেটে বাজারে এর প্রভাব পড়ে।

সিলেটের ক্রেতারা বলছেন, খুচরা দোকানে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে; এতে কেজিতে ৫০ টাকা বাড়ানো হয় । এমন অবস্থায় প্রধান পাইকারি আড়ত নগরীর কালীঘাটে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে শনিবার সকাল থেকে কালীঘাট আড়তে পেঁয়াজের দাম ১৮০ থেকে ২০০টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হয়। নগরে সকাল থেকে খুচরা দোকানগুলোতে পেঁয়াজের দামও অস্বাভাবকি অবস্থায় চলে গেছে। খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন ২১০ থেকে ২৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় যাদের মজুত ছিল সেই বিক্রেতারা ১ থেকে ২ কেজির বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না। 

এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ক্রেতারা। পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক দাম শুনে তাদের কেউ কেউ হচ্ছেন হতভম্ব। ক্রেতাদের মনে প্রশ্ন জাগছে, এক রাতেই কি কালীঘাটে পেঁয়াজ শেষ হয়ে গেলো! ব্যবসায়ীরা ভারতের সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষকে বিপাকে ফেলছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।সকালের দিকে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে রীতিমত অবাক হয়েছেন নগরীর বাসিন্দা আলফাজ আলী। তিনি বলেন, ‘এক রাতেই কিভাবে ৬০ থেকে ৮০ থেকে বেড়ে যায়। দোকানিরা  মুজত রেখে ১ থেকে ২ কেজি বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না। কিন্তু দাম যখন আরও বাড়বে তারা বিক্রি শুরু করবেন। এতে আড়তদার ও দোকানিরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তারা এসব করছেন।’ সেজন্য প্রশাসনের কাছে তিনি বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতের খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৬০ রুপির মধ্যে। এদিকে বাংলাদেশের স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ বছরের অধিকাংশ সময়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখে। তবে মৌসুমের শেষ দিকে এসে দাম বেড়ে গেলে আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করে সরকার। চলতি বছরর জুন মাসেও পেঁয়াজের দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি ৩৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায় উঠে গেলে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়।