সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান নাতি-নাতনিদের সঙ্গ বাড়াতে পারে আয়ু, মানতে হবে যেসব শর্ত শনিবার থেকে সব বাসে জিপিএস বাধ্যতামূলক ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক হয়েছে কিনা, যা জানা গেল এমএসএফের প্রতিবেদন জুলাইয়ে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা সিলেটে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ ফোরামের আলোচনা সভা সম্পন্ন ‘ইউথহাব সিলেট’র উদ্যোগে অসহায়দের মধ্যে খাবার বিতরণ এসপিএসের তৃতীয় জাতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আত্ম প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন ‘‌জাতীয় অতিথি ও প্রশাসনের অংশগ্রহণে রথযাত্রা মহামিলনমেলায় পরিণত’ সরকারে ৫ মাসেই তারেক রহমান, দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন- সিলেটে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

নৌ চলাচল ও সেচ কাজ ব্যাহত, হবিগঞ্জের বিভিন্ন নদীতে চর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি প্রবাহ হ্রাস এবং অব্যাহত চর পড়ায় স্বাভাবিক নৌ-চলাচল ও সেচ কার্য ব্যাহত হচ্ছে। খোয়াই, করাঙ্গী, সুতাং, সোনাই, ভেড়ামোহনা, সুটকী, রত্না, বিজনা ও কুশিয়ারা নদীতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় মালবাহী বড় বড় নৌকা ও লঞ্চ চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ত্রিপুরা থেকে বয়ে আসা খরশ্রোতা খোয়াই নদীর পানির সাথে প্রচুর পলিমাটি আসায় নদীর গভীরতা পূর্বের ২০ ফুটের স্থলে বর্তমানে ১১ থেকে ১৪ ফুটে দাঁড়িয়েছে। ১৫০ ফুট প্রশস্ত এই নদীতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার কিউসেক। বর্ষাকালে তা দ্বিগুণ এবং শীতকালে ১০০ কিউসেকে বা আরো কমে দাঁড়ায়।

চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্ত থেকে ২৫ কিলোমিটার উজানে ভারতের চাকমাঘাট নামকস্থানে নির্মিত বাঁধের মাধ্যমে খোয়াই নদীর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার ফলে নদীতে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এছাড়া, অপরাপর নদীগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে নানা কারণে পানির প্রবাহ মারাত্মক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে জেলার ভাটি অঞ্চলে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়া ছাড়াও বোরো ধান চাষাবাদে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বানিয়াচং উপজেলার মার্কুলী বাজারের পূর্ব দিকে কুশিয়ারা ও বিবিয়ানা নদীর সংযোগ স্থলে চর পড়ায় বর্ষাকালেও স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যাহত হয়। মার্কুলী থেকে হিলাল নগর পর্যন্ত স্থানে নদীতে চর পড়ে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। আজমিরীগঞ্জ থেকে শেরপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নদী পথের বিভিন্ন স্থানে চর পড়ায় যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

জেলার ভাটি অঞ্চলে বিশেষ করে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার ব্যবসা বাণিজ্য অনেকটাই স্বাভাবিক নৌ-চলাচলের উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। নদীগুলোতে পানি প্রবাহ হ্রাস পেয়ে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ জানান, জেলার নদীগুলোর নাব্যতা ও পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সেচ সুবিধা ও নৌ যোগাযোগ অব্যাহত রাখার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ড্রেজিং সহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে সোনাই, করাঙ্গী, খাসটি এবং বিজনা নদী আংশিকভাবে এক্সকেভেটর ও ড্রেজার দিয়ে পুনঃ খনন করা হয়েছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, ড্রেজিং এবং বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ সহ একটি বড় পরিকল্পনার প্রস্তাবনা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল কর্তৃক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নৌ চলাচল ও সেচ কাজ ব্যাহত, হবিগঞ্জের বিভিন্ন নদীতে চর

আপডেট সময় : ০৪:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি প্রবাহ হ্রাস এবং অব্যাহত চর পড়ায় স্বাভাবিক নৌ-চলাচল ও সেচ কার্য ব্যাহত হচ্ছে। খোয়াই, করাঙ্গী, সুতাং, সোনাই, ভেড়ামোহনা, সুটকী, রত্না, বিজনা ও কুশিয়ারা নদীতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় মালবাহী বড় বড় নৌকা ও লঞ্চ চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ত্রিপুরা থেকে বয়ে আসা খরশ্রোতা খোয়াই নদীর পানির সাথে প্রচুর পলিমাটি আসায় নদীর গভীরতা পূর্বের ২০ ফুটের স্থলে বর্তমানে ১১ থেকে ১৪ ফুটে দাঁড়িয়েছে। ১৫০ ফুট প্রশস্ত এই নদীতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার কিউসেক। বর্ষাকালে তা দ্বিগুণ এবং শীতকালে ১০০ কিউসেকে বা আরো কমে দাঁড়ায়।

চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্ত থেকে ২৫ কিলোমিটার উজানে ভারতের চাকমাঘাট নামকস্থানে নির্মিত বাঁধের মাধ্যমে খোয়াই নদীর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার ফলে নদীতে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এছাড়া, অপরাপর নদীগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে নানা কারণে পানির প্রবাহ মারাত্মক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে জেলার ভাটি অঞ্চলে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়া ছাড়াও বোরো ধান চাষাবাদে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বানিয়াচং উপজেলার মার্কুলী বাজারের পূর্ব দিকে কুশিয়ারা ও বিবিয়ানা নদীর সংযোগ স্থলে চর পড়ায় বর্ষাকালেও স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যাহত হয়। মার্কুলী থেকে হিলাল নগর পর্যন্ত স্থানে নদীতে চর পড়ে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। আজমিরীগঞ্জ থেকে শেরপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নদী পথের বিভিন্ন স্থানে চর পড়ায় যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

জেলার ভাটি অঞ্চলে বিশেষ করে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার ব্যবসা বাণিজ্য অনেকটাই স্বাভাবিক নৌ-চলাচলের উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। নদীগুলোতে পানি প্রবাহ হ্রাস পেয়ে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ জানান, জেলার নদীগুলোর নাব্যতা ও পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সেচ সুবিধা ও নৌ যোগাযোগ অব্যাহত রাখার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ড্রেজিং সহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে সোনাই, করাঙ্গী, খাসটি এবং বিজনা নদী আংশিকভাবে এক্সকেভেটর ও ড্রেজার দিয়ে পুনঃ খনন করা হয়েছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, ড্রেজিং এবং বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ সহ একটি বড় পরিকল্পনার প্রস্তাবনা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল কর্তৃক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।