সিলেটের বিশ্বনাথে মাদ্রাসার নামের সঙ্গে ‘মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা’ যুক্ত হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ০২:৫৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৯৯ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারি ইউনিয়নের পনাউল্লাহ বাজারের পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হযরত শাহজালাল (র.) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা। এলাকাবাসীর উদ্যোগ, শ্রম ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠান থেকে গত কয়েক দশকে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী হিফজ সম্পন্ন করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
তবে ২০১৬ সালের পর মাদ্রাসার নামের সঙ্গে ‘মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা’ যুক্ত হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ও প্রবাসী মহলেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার সময় বড়তলা গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মরহুম নূরুল হোসেন চার শতক জমি দান করেন। পরে একই গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মোজাম্মেল মুকতাদির আরও পাঁচ শতক জমি দেন। এছাড়া বড়তলা গ্রামের মরহুম আব্দুল গণীর পরিবার দলিল ছাড়াই মৌখিকভাবে আরও সাত শতক জমি দান করেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে এসব জমির বর্তমান মালিকানা, দলিল ও রেকর্ড নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
২০১৬ সালের শুরুতে মাদ্রাসার উন্নয়নে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। বড় খুরমা গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মাওলানা রফিক আহমদের আহ্বানে লন্ডনের ব্রিক লেনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মাদ্রাসার জন্য অর্থ সংগ্রহ ও উন্নয়ন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বৈঠকে মাওলানা রফিক আহমদ, মিরন মিয়া, দিলাল আহমদ, আলী আশরাফ, খাবুল মিয়া, কবির মিয়া, এনামুল হক, আনহার মিয়া, মফচ্ছির মিয়া, মজম্মিল মিয়া, রাজু মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, রেদওয়ান হোসেন শামীম, এমরান হোসেন, সাবরান হোসেন, জুনেদ মিয়া, সুহেল মিয়া ও ডা. মাসুক আহমদসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। উপস্থিতদের সম্মতিক্রমে মিরন মিয়াকে সভাপতি এবং মাওলানা রফিক আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরে মাওলানা রফিক আহমদ মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য যুক্তরাজ্যে সংগৃহীত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ নিয়ে দেশে আসেন। এরপর মাদ্রাসার সঙ্গে ‘মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা’ নামটি যুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ নাম সংযোজনের ক্ষেত্রে মাদ্রাসার জেনারেল কমিটি, এলাকাবাসী ও যুক্তরাজ্যের বৈঠকের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন কমিটির অধিকাংশ সদস্য দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান বলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানিয়েছেন। ২০১৯ সালে মাদ্রাসার সাবেক ৪৬ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানের নাম ও কার্যক্রম নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়।
সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, মূল নাম ‘হযরত শাহজালাল (র.) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ হলেও বর্তমানে ‘হযরত শাহজালাল (র.) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা’ নামে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ‘এবং’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে কি দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের ধারণা দেওয়া হচ্ছে? যদি বোর্ডিং ও এতিমখানা মাদ্রাসারই অংশ হয়, তাহলে নামের কাঠামো এমন কেন—এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা। এ
দিকে ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যে মাদ্রাসার উন্নয়নের নামে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ, সংগ্রহের পদ্ধতি, কোন তহবিলে জমা হয়েছে এবং কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও প্রবাসীদের একাংশ। সংশ্লিষ্টদের আরও দাবি, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন নথিপত্র, দানকৃত জমির দলিল ও রেকর্ড, ২০১৬ সালের যুক্তরাজ্যের বৈঠকের সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কমিটির কার্যক্রম, প্রবাসীদের সংগৃহীত অর্থের হিসাব এবং ‘মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা’ নাম যুক্ত করার প্রক্রিয়া—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে তা দ্রুত দূর করা উচিত। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রবাসী ও স্থানীয়দের সহযোগিতাও আরও বাড়বে। এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

























