সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান নগর উন্নয়নে জনগণের চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে- এলাকা পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক সিলেট মেট্রোপলিটন নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি সঙ্গে নবনিযুক্ত এসএমপি পুলিশ কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হবিগঞ্জ মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে অধ্যাপক কামরুল হাসান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট জসিম সম্পাদক নির্বাচিত রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিক্রির উদ্যোগ বা/তিলের দাবি বাসদের সিলেট সীমান্তে ৭৮ লক্ষ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ সিলেটে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে প্রিয় মানুষকে বিয়ে করলেন এক চীনা যুবক সিলেট গোলাপগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক।

রোববার ২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত Kyaw Soe Moe বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগসংক্রান্ত যেসব বিষয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও অর্থবহ ও গতিশীল করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা গেলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও জনগণ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ ও Business-to-Business (B2B) কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ পক্ষ দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক।

রোববার ২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত Kyaw Soe Moe বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগসংক্রান্ত যেসব বিষয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও অর্থবহ ও গতিশীল করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা গেলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও জনগণ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ ও Business-to-Business (B2B) কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ পক্ষ দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।