তেলের মজুত ৯০ দিন করার উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০২:৪২:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :
সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের মজুত ৯০ দিন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই ৪৩ দিনের তেল মজুত করে রাখা সম্ভব এরকম ট্যাংক চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। আরও ৮-১০ দিনের মজুত বাড়াতে ট্যাংক বসানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। তবে ৯০ দিনের তেলের মজুতের সক্ষমতা কবে নাগাদ হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানা যায়নি। বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেছেন, ৯০ দিনের তেল মজুতের সব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ এবং বিপিসি জানিয়েছে, ৯০ দিনের তেল মজুত করতে হলে ৩০ লাখ টন তেল রাখতে হবে দেশের বিভিন্ন ট্যাংকে। এ জন্য এখনকার আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে সরকারের দরকার হবে কমপক্ষে ৩০০ কোটি ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে মজুতের সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৪৩ দিন। সে অনুযায়ী ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল রাখা যাবে। সেখানে এখন তেল আছে চার লাখ টনের বেশি।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ৭ মার্চের মধ্যে বিপিসির আওতাধীন তিন বিতরণ কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা এবং যমুনা কোনো রকম বাছবিচার না করে ইচ্ছামতো তেল বিক্রি করে। দেশে তেলের মজুত নেমে আসে ৮ দিনে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং শুরু করে। এতে শুরু হয় জনদুর্ভোগ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন যুগান্তরকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ আরও একবার শিখিয়ে দিয়ে গেছে, তেলের মজুত কমপক্ষে তিন মাস থাকা দরকার। না হলে দেশের অর্থনীতি হুমকিতে পরে যাবে।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, সরকার তিনভাগে তেলের মজুত বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথমত, দেশের ২৭টি ডিপো আছে। সেখানকার অয়েল ট্যাংকারের সক্ষমতা বাড়াতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এগুলোতে এত দিন সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩ টন জ্বালানি তেল রাখা হতো। বিপিসি বলছে, এই ২৭টি ডিপোর মধ্যে অনেক ট্যাংকে প্রয়োজন ছাড়া তেমন একটা তেল সারা বছর রাখা হয় না। এই ধরনের ডিপোগুলোর মধ্যে রয়েছে-ভৈরব, আশুগঞ্জ, সাচনা বাজার, চিলমারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এসআইএ, ওসমানী, সিলেট, কক্সবাজার, ভেড়ামারা। এরমধ্যে অনেক ট্যাংক ব্যবহার না করার কারণে অনুপোযোগী হয়ে গেছে। এখন এগুলোকে মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। এছাড়া ভৌগোলিক কারণে শাহজাতপুর, বাঘাবাড়ির মতো এলাকায় এত দিন ১ লাখ টন তেল রাখার সক্ষমতা থাকলেও রাখা হতো ৩০ হাজার টন। এখন সেখানে আরও ২২ হাজার টন রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে তিন বিতরণ কোম্পানিকে। সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্পের আওতায় মহেশখালীতে সরকারের ২ লাখ টন তেল রাখার সক্ষমতা আছে। এ ছাড়া ভারতের নুমালিগড় এলাকা থেকে পাইপ লাইনে তেল এনে মজুত করতে সেখানে ২৪ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার ট্যাংক বসানো আছে। যেটি ব্যবহার হয় না বলতে গেলে।
জানা গেছে, সরকার তেল মজুতের ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চল, বগুড়া এবং ময়মনসিংহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারের সরবরাহ ছক অনুযায়ী মংলা এলাকায় সক্ষমতা গড়ে ওঠলে খুলনা ও বরিশাল এলাকায় তেল সরবরাহ করতে সুবিধা হবে। অন্যদিকে বগুড়া উত্তরবঙ্গের কেন্দ্র বিন্দু। সুতরাং উত্তরবঙ্গের নাটোর, রংপুর, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকায় তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বগুড়ায় মজুতের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। ময়মনসিংহ এলাকায় বেশি করে ট্যাংক বসিয়ে মজুত বাড়ালে জামালপুরসহ আশপাশে তেল দেওয়া যাবে ডিলারদের। যাতে করে সাধারণ মানুষকে কোনো সংকটে পরতে না হয়।
জানা গেছে, বর্তমানের মজুত ক্ষমতা অনুযায়ী অকটেন ৪২ দিন, পেট্রল ২৬ দিন, জেট ফুয়েল ৩৮ দিন, কেরোসিন ১৬৬ দিন, ডিজেল ৫০ দিন, ফার্নেস অয়েল ৫৫ দিন এবং মেরিন ফুয়েল ৭৭ দিন মজুত করা যায়। এখন কেরোসিন দেশে তেমন ব্যবহার হয় না। এই কেরোসিনের ট্যাংকে ডিজেল বা অকটেন রাখার চিন্তা করছে সরকার। বর্তমানে ডিপো বা বিপিসির ট্যাংক ছাড়াও প্রয়োজনে রেলওয়ে, সেনাবাহিনী এবং চট্টগ্রাম বন্দর, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র-আইপিপির ট্যাংক ব্যবহারের চিন্তা করছে বিপিসি। এর বাইরে ২০২৮ সাল পর্যন্ত আরও ১ লাখ ২৮ হাজার টন তেল রাখার ট্যাংক বসাতে স্থান নির্বাচন করেছে তিন বিতরণ কোম্পানি। সেখানে নির্মাণ কাজ শিগগির শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে পুরো ৯০ দিনের মজুতের সক্ষমতা কবে বিপিসি বা দেশ অর্জন করবে সে ব্যাপারে এখনো কোনো রোড ম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এভাবে নয়, আরও পরিকল্পিত এবং দ্রুততার সঙ্গে তেল মজুতের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নতুবা বাংলাদেশের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশকে বড় বিপদে পরতে হতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। এই যুদ্ধের গতি প্রকৃতি এখনো কেউ বলতে পারছে না। প্রসঙ্গত, যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে ইরানের প্রস্তাব নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৫ ডলারের বেশি বেড়েছে।


























