সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শিশুকে যৌ’ন নি’র্যাতন ও হ’ত্যার ঘটনায় চাচা গ্রে’প্তার মাজারে আসা প্রতিবন্ধী তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩ সিলেট পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৮ সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু সিলেটে ওসমানীতে হাম রোগীদের জন্য নতুন ইউনিট ও আইসিইউ চালু সিলেটে ‘হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ ও দগ্ধ হয়ে এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সকল আসামী খালাস প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি- জনগণ এমন রাষ্ট্র চায়, যেখানে অবিচার অনাচার থাকবে না হবিগঞ্জে ৪ থানার ওসি বদলী নবীগঞ্জে র‌্যাবের অভিযান ৪৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ চুনারুঘাটে বিজিবি’র অভিযান ভারতীয় গাঁজা ও বিয়ার উদ্ধার

ভিটামিন ‘ডি’ পেতে কখন, কীভাবে ও কতটুকু রোদ লাগাতে হবে?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ভিটামিন ‘ডি’ হলো একটি চর্বি-দ্রবণীয় ভিটামিন, যা আপনার শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। হাড়, পেশি ও দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে থাকে। এটি সূর্যালোক থেকে ত্বকের মাধ্যমে, নির্দিষ্ট খাবার থেকে কিংবা সাপ্লিমেন্ট থেকেও পাওয়া যায়। তবে এর অভাবে শিশুদের রিকেটস ও প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগ হতে পারে। 

বাইরে রোদে একটু ঘোরাফেরা করলেই ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায়।— বাড়ির মুরব্বিদের কাছে আমরা এমন কথা প্রায়ই শুনে থাকি। আসলেই কি রোদে ভিটামিন  ‘ডি’ থাকে? আর সারাদিনে যে কোনো সময়ে রোদে গেলেই কি মিলবে ভিটামিন ‘ডি’?  রোদ মানেই ভিটামিন  ‘ডি’ নয়; তবে রোদ ভিটামিন ‘ডি’ তৈরির সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উৎস। 

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ভিটামিন  ‘ডি’ অতিগুরুত্বপূর্ণ। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ‘ডি’ শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করে থাকে এবং স্নায়ুতান্ত্রিক কার্যক্রমকে সমর্থন করে। কারণ ভিটামিন ‘ডি’ দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। এগুলো হাড় শক্ত করা ও দাঁত গঠনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

ভিটামিন ‘ডি’-এর অভাব হলে শিশুর হাড় নরম হতে পারে। ফলে রিকেটস নামের রোগ দেখা যায়। আর ভিটামিন ‘ডি’ শিশুদের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ফলে সংক্রমণ, সর্দি–কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের অসুখের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। কারণ শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি’ না থাকলে তার দুর্বলতা, হাঁটতে দেরি হওয়া কিংবা মোটর ডেভেলপমেন্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সে জন্য ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমাদের ত্বক সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট বি (ইউভিবি) রশ্মি পেলে স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন  ‘ডি’ তৈরি করতে পারে। কিন্তু সব রোদে ইউভিবি থাকে না। খুব ভোরের সকাল ভালো রোদ। কিন্তু বিকালের রোদে ইউভিবি কম থাকে। মেঘলা দিনে, শীতকালে কিংবা দূষণ বেশি হলে ইউভিবি আরও কমে যায়।

তবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে প্রতিদিন/সপ্তাহে কয়েক দিন ১০–২০ মিনিট রোদে থাকা ভিটামিন  ‘ডি’ তৈরিতে সাহায্য করে। এ সময় মুখ, হাত ও বাহুর অংশ খোলা থাকলে খুবই ভালো। আমাদের জীবনযাপন নানাভাবে ভিটামিন ‘ডি’ থেকে সরিয়ে রাখে। শরীর ঢেকে রাখা কাপড় পরলে, সানস্ক্রিন ব্যবহারে, ঘরের জানালার কাঁচের কারণে, গায়ের রঙের ভিন্নতার কারণে ভিটামিন  ‘ডি’ উৎপাদন কমে যেতে থাকে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, শরীর ঠিক রাখতে ভিটামিন ‘ডি’ কতটা গুরুত্বপূর্ণ—

ভিটামিন ‘ডি’-এর কাজ

১. হাড়ের স্বাস্থ্য: হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে ভিটামিন ‘ডি’। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ করে হাড় ও দাঁতকে শক্তিশালী করে।

২. পেশির কার্যকারিতা: পেশি দুর্বলতা প্রতিরোধ করে এবং হাড়ভাঙার ঝুঁকি কমায়।

৩. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা: আপনার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। 

ভিটামিন ডি-এর উৎস

১. সূর্যালোক: সূর্যরশ্মি ত্বকের মাধ্যমে ভিটামিন  ‘ডি’ তৈরি করে।

২. খাদ্য: চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং কিছু ফোর্টিফায়েড খাবার।

৩. সাপ্লিমেন্ট: প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। 

ভিটামিন ‘ডি’-এর অভাব

১. পেশি ও হাড়ে ব্যথা।

২. শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি।

৩. ঘন ঘন হাড় ভেঙে যাওয়া।

৪. শিশুর ক্ষেত্রে রিকেটস (নরম ও দুর্বল হাড়)।

৫. প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওপোরোসিস।

৬. ঘুমের সমস্যা। 

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

তবে অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বকের ক্ষতির কারণ হতে পারে, তাই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো। কারণ অতিরিক্ত ভিটামিন ‘ডি’ আপনার শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভিটামিন ‘ডি’ পেতে কখন, কীভাবে ও কতটুকু রোদ লাগাতে হবে?

আপডেট সময় : ১১:০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ভিটামিন ‘ডি’ হলো একটি চর্বি-দ্রবণীয় ভিটামিন, যা আপনার শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। হাড়, পেশি ও দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে থাকে। এটি সূর্যালোক থেকে ত্বকের মাধ্যমে, নির্দিষ্ট খাবার থেকে কিংবা সাপ্লিমেন্ট থেকেও পাওয়া যায়। তবে এর অভাবে শিশুদের রিকেটস ও প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগ হতে পারে। 

বাইরে রোদে একটু ঘোরাফেরা করলেই ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায়।— বাড়ির মুরব্বিদের কাছে আমরা এমন কথা প্রায়ই শুনে থাকি। আসলেই কি রোদে ভিটামিন  ‘ডি’ থাকে? আর সারাদিনে যে কোনো সময়ে রোদে গেলেই কি মিলবে ভিটামিন ‘ডি’?  রোদ মানেই ভিটামিন  ‘ডি’ নয়; তবে রোদ ভিটামিন ‘ডি’ তৈরির সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উৎস। 

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ভিটামিন  ‘ডি’ অতিগুরুত্বপূর্ণ। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ‘ডি’ শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করে থাকে এবং স্নায়ুতান্ত্রিক কার্যক্রমকে সমর্থন করে। কারণ ভিটামিন ‘ডি’ দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। এগুলো হাড় শক্ত করা ও দাঁত গঠনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

ভিটামিন ‘ডি’-এর অভাব হলে শিশুর হাড় নরম হতে পারে। ফলে রিকেটস নামের রোগ দেখা যায়। আর ভিটামিন ‘ডি’ শিশুদের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ফলে সংক্রমণ, সর্দি–কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের অসুখের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। কারণ শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি’ না থাকলে তার দুর্বলতা, হাঁটতে দেরি হওয়া কিংবা মোটর ডেভেলপমেন্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সে জন্য ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমাদের ত্বক সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট বি (ইউভিবি) রশ্মি পেলে স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন  ‘ডি’ তৈরি করতে পারে। কিন্তু সব রোদে ইউভিবি থাকে না। খুব ভোরের সকাল ভালো রোদ। কিন্তু বিকালের রোদে ইউভিবি কম থাকে। মেঘলা দিনে, শীতকালে কিংবা দূষণ বেশি হলে ইউভিবি আরও কমে যায়।

তবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে প্রতিদিন/সপ্তাহে কয়েক দিন ১০–২০ মিনিট রোদে থাকা ভিটামিন  ‘ডি’ তৈরিতে সাহায্য করে। এ সময় মুখ, হাত ও বাহুর অংশ খোলা থাকলে খুবই ভালো। আমাদের জীবনযাপন নানাভাবে ভিটামিন ‘ডি’ থেকে সরিয়ে রাখে। শরীর ঢেকে রাখা কাপড় পরলে, সানস্ক্রিন ব্যবহারে, ঘরের জানালার কাঁচের কারণে, গায়ের রঙের ভিন্নতার কারণে ভিটামিন  ‘ডি’ উৎপাদন কমে যেতে থাকে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, শরীর ঠিক রাখতে ভিটামিন ‘ডি’ কতটা গুরুত্বপূর্ণ—

ভিটামিন ‘ডি’-এর কাজ

১. হাড়ের স্বাস্থ্য: হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে ভিটামিন ‘ডি’। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ করে হাড় ও দাঁতকে শক্তিশালী করে।

২. পেশির কার্যকারিতা: পেশি দুর্বলতা প্রতিরোধ করে এবং হাড়ভাঙার ঝুঁকি কমায়।

৩. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা: আপনার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। 

ভিটামিন ডি-এর উৎস

১. সূর্যালোক: সূর্যরশ্মি ত্বকের মাধ্যমে ভিটামিন  ‘ডি’ তৈরি করে।

২. খাদ্য: চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং কিছু ফোর্টিফায়েড খাবার।

৩. সাপ্লিমেন্ট: প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। 

ভিটামিন ‘ডি’-এর অভাব

১. পেশি ও হাড়ে ব্যথা।

২. শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি।

৩. ঘন ঘন হাড় ভেঙে যাওয়া।

৪. শিশুর ক্ষেত্রে রিকেটস (নরম ও দুর্বল হাড়)।

৫. প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওপোরোসিস।

৬. ঘুমের সমস্যা। 

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

তবে অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বকের ক্ষতির কারণ হতে পারে, তাই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো। কারণ অতিরিক্ত ভিটামিন ‘ডি’ আপনার শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।