সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান প্রেশার লো হলে বুঝবেন যেসব লক্ষণে কৃষককে পাশে বসিয়ে সুখ-দুঃখের কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী তেলের মজুত ৯০ দিন করার উদ্যোগ হবিগঞ্জে শিশু সাংবাদিকতার ফলোআপ কর্মশালা হবিগঞ্জের শাহজিবাজার অবহেলায় রেলস্টেশন , আধুনিকায়নের দাবিতে মানববন্ধন টেকসই আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগকালে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে- মন্ত্রী আরিফুল সিলেট বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ সিলেটে – এস এ পরিবহনে অভিযান,বিপুল পরিমাণ অবৈধ জিরা উদ্ধার সিলেটে এবার ফার্মেসিকে সিলগালা করা হয়েছে শিশুকে যৌ’ন নি’র্যাতন ও হ’ত্যার ঘটনায় চাচা গ্রে’প্তার

৭ বছরে শতকোটি টাকার মালিক মোজাম্মেল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৪ ২১৭ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক ; প্রিন্ট সংস্করণ

চার বছর আগেও বান্দরবান কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির ভবনে ভাড়ায় থাকতেন তিনি। ২০১৭ সালে জেলা পরিষদ সদস্য হয়ে যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেলেন। ৭ বছরে হয়ে গেলেন শতকোটিরও বেশি টাকার মালিক। গড়েছেন গাড়ি-বাড়ি। বনে যান শত একর জায়গার মালিক। তিনি বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর।

বাহাদুর ও তার ভাইয়েরা মিলে টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে এমন কোনো অনিয়ম নেই, যা তারা করেননি। জায়গা দখলেরও অভিযোগ রয়েছে বাহাদুর ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে। বাহাদুর ৭ বছরে শূন্য থেকে শতকোটি টাকার মালিক বনে যান। তার আগে বাড়ি ছিল চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ইউনিয়নে। বাবার দরজির কাজের সুবাদে বান্দরবানে তাদের আগমন। পরে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে ঠিকাদারি শুরু করেন তিনি। কিন্তু ঠিকাধারিতে কোনো সুবিধা করতে পারেননি বাহাদুর। জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর হয়ে গেলেন আঙুল ফুলে কলাগাছ।

বিগত ৭ বছরে তিনি যা অর্জন করেছেন : বান্দরবান পৌরশহরে ৬ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা কিনে আরও ১০ কোটি টাকা খরচ করে ৬ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছেন বছর দুই আগে। সূত্র জানায়, তার ৬ তলা ভবনের ষষ্ঠ ফ্লোরের কোনো অনুমোদনও নেই। বান্দরবান সদর ইউনিয়নের টঙ্কাবতী সড়কে প্রতি একর ২০ লাখ টাকা করে ৩শ একর জায়গা কিনেছেন তার নামে এবং ভাইদের নামে যে জায়গাগুলোর মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের ওয়াসার মোড়ে ১০ কোটি টাকায় ২ হাজার স্কয়ার ফুটের ফ্লোর কিনে গড়েছেন ‘বাহাদুর টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিক্স’। তাছাড়া মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের শেয়ার কিনে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হয়েছেন বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বাহাদুর জায়গা দখল করেন যেভাবে : রাঙামাটি তথ্য অফিসের কর্মচারী জামাল উদ্দিন। তার বাড়ি বান্দরবানে। জামাল জানান, বান্দরবান পৌর শহরে ব্রিটিশ আমল থেকে দখলীয় তাদের পৈতৃক সম্পত্তিও কেড়ে নিয়েছে বাহাদুর। পরে জায়গাটা তার মেয়ের জামাই কাউছার সোহাগ ও তার ভাই রুবেলকে ভাগ করে দেন। এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, বাহাদুর জেলা পরিষদ সদস্য হওয়ার পর তার গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়া থেকে তার সব আত্মীয়স্বজনকে বান্দরবানে নিয়ে আসেন। তার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সবাই তারা আজ শতকোটির মালিক।

জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর বলেন, ৬ তলা ভবনটি আমার। বাহাদুর টেইলার্সে আমিসহ চারজন শেয়ার রয়েছে। অল্পদিনে শতকোটি টাকার মালিক কীভাবে হলেন জিজ্ঞাসা করা হলে এত কথা বলার সময় নেই বলে কল কেটে দেন।

চলতি বছরের ১১ মে যুগান্তরে ‘বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যেন পারিবারিক সম্পত্তি’ শিরোনামে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনে প্রায় শতকোটি টাকার দুর্নীতির বিষয় উঠে আসে। পরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সমন্বয়কের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৭ বছরে শতকোটি টাকার মালিক মোজাম্মেল

আপডেট সময় : ০৫:১৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক ; প্রিন্ট সংস্করণ

চার বছর আগেও বান্দরবান কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির ভবনে ভাড়ায় থাকতেন তিনি। ২০১৭ সালে জেলা পরিষদ সদস্য হয়ে যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেলেন। ৭ বছরে হয়ে গেলেন শতকোটিরও বেশি টাকার মালিক। গড়েছেন গাড়ি-বাড়ি। বনে যান শত একর জায়গার মালিক। তিনি বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর।

বাহাদুর ও তার ভাইয়েরা মিলে টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে এমন কোনো অনিয়ম নেই, যা তারা করেননি। জায়গা দখলেরও অভিযোগ রয়েছে বাহাদুর ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে। বাহাদুর ৭ বছরে শূন্য থেকে শতকোটি টাকার মালিক বনে যান। তার আগে বাড়ি ছিল চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ইউনিয়নে। বাবার দরজির কাজের সুবাদে বান্দরবানে তাদের আগমন। পরে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে ঠিকাদারি শুরু করেন তিনি। কিন্তু ঠিকাধারিতে কোনো সুবিধা করতে পারেননি বাহাদুর। জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর হয়ে গেলেন আঙুল ফুলে কলাগাছ।

বিগত ৭ বছরে তিনি যা অর্জন করেছেন : বান্দরবান পৌরশহরে ৬ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা কিনে আরও ১০ কোটি টাকা খরচ করে ৬ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছেন বছর দুই আগে। সূত্র জানায়, তার ৬ তলা ভবনের ষষ্ঠ ফ্লোরের কোনো অনুমোদনও নেই। বান্দরবান সদর ইউনিয়নের টঙ্কাবতী সড়কে প্রতি একর ২০ লাখ টাকা করে ৩শ একর জায়গা কিনেছেন তার নামে এবং ভাইদের নামে যে জায়গাগুলোর মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের ওয়াসার মোড়ে ১০ কোটি টাকায় ২ হাজার স্কয়ার ফুটের ফ্লোর কিনে গড়েছেন ‘বাহাদুর টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিক্স’। তাছাড়া মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের শেয়ার কিনে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হয়েছেন বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বাহাদুর জায়গা দখল করেন যেভাবে : রাঙামাটি তথ্য অফিসের কর্মচারী জামাল উদ্দিন। তার বাড়ি বান্দরবানে। জামাল জানান, বান্দরবান পৌর শহরে ব্রিটিশ আমল থেকে দখলীয় তাদের পৈতৃক সম্পত্তিও কেড়ে নিয়েছে বাহাদুর। পরে জায়গাটা তার মেয়ের জামাই কাউছার সোহাগ ও তার ভাই রুবেলকে ভাগ করে দেন। এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, বাহাদুর জেলা পরিষদ সদস্য হওয়ার পর তার গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়া থেকে তার সব আত্মীয়স্বজনকে বান্দরবানে নিয়ে আসেন। তার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সবাই তারা আজ শতকোটির মালিক।

জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর বলেন, ৬ তলা ভবনটি আমার। বাহাদুর টেইলার্সে আমিসহ চারজন শেয়ার রয়েছে। অল্পদিনে শতকোটি টাকার মালিক কীভাবে হলেন জিজ্ঞাসা করা হলে এত কথা বলার সময় নেই বলে কল কেটে দেন।

চলতি বছরের ১১ মে যুগান্তরে ‘বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যেন পারিবারিক সম্পত্তি’ শিরোনামে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনে প্রায় শতকোটি টাকার দুর্নীতির বিষয় উঠে আসে। পরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সমন্বয়কের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।