সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান প্রেশার লো হলে বুঝবেন যেসব লক্ষণে কৃষককে পাশে বসিয়ে সুখ-দুঃখের কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী তেলের মজুত ৯০ দিন করার উদ্যোগ হবিগঞ্জে শিশু সাংবাদিকতার ফলোআপ কর্মশালা হবিগঞ্জের শাহজিবাজার অবহেলায় রেলস্টেশন , আধুনিকায়নের দাবিতে মানববন্ধন টেকসই আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগকালে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে- মন্ত্রী আরিফুল সিলেট বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ সিলেটে – এস এ পরিবহনে অভিযান,বিপুল পরিমাণ অবৈধ জিরা উদ্ধার সিলেটে এবার ফার্মেসিকে সিলগালা করা হয়েছে শিশুকে যৌ’ন নি’র্যাতন ও হ’ত্যার ঘটনায় চাচা গ্রে’প্তার

কুমিল্লায় সাবেক কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০২৪ ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর শাহ আলম খানের নিজ বাড়িতে গতকাল রাতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় হামলাকারীরা।

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

কুমিল্লা নগরীর অশোকতলায় সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহ আলমের তিনতলা বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ও আজ মঙ্গলবার সকালে বাড়িটি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে পাঁচজনই কিশোর।

নিহতরা হলো নগরীর অশোকতলা এলাকার আশিক (১৪), শাকিল (১৪), শাওন (১২), মাহফুজুর রহমান  (২২), রনি (১৬) ও মহিন (১৭)। আজ বিভিন্ন সময় জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সোমবার আনুমানিক রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা অশোকতলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহ আলমের বাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে কয়েকজন বাড়িটির তিনতলায় উঠে পড়েন। এ সময় অন্যরা বাড়িটির নিচতলায় আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে তিনতলায় অবস্থানকারীরা ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ এবং আগুনে পুড়ে নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত একজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

কুমিল্লায় আরও দুজন নিহত

এদিকে গতকাল বিকেলে কুমিল্লা নগরীর তালপুকুরপাড় এলাকায় নাফিজুল আলম সামি (১৮) ও চৌদ্দগ্রামে জামশেদ (২০) নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। ঘটনার সময় কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট কমিটির সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম রনির বাসায় ছিলেন নাফিজুল আলম। রনি অভিযোগ করেন, গতকাল বিকেলে একদল ব্যক্তি তার বাসায় হামলা চালায়। এ সময় সামিকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তারা। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁর বাড়িতেও লুটপাট করে।

কুমিল্লায় হামলা ও সংঘর্ষের পর গতকাল সোমবার বিকেল থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৫ জন আজ সকাল পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

জেলার সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।

কুমিল্লায় ২ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা, গুলিতে এক যুবকের মৃত্যু

কুমিল্লার তিতাস থানা–পুলিশের দুই সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। আর দাউদকান্দি উপজেলার তুজারভাঙা গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়া (২১) গুলিতে নিহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, স্থানীয় উৎসুক জনতা তিতাস থানা ঘেরাও করতে গেলে থানা–পুলিশ আত্মরক্ষার্থে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে কমপক্ষে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা থানায় পৌঁছে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন।

থানা–পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারের পর কিছু মানুষ তিতাস থানা এবং থানার পাশের মার্কেটে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় থানা পাহারায় থাকা দুই পুলিশ সদস্য জীবন রক্ষার্থে থানার পেছনের ফটক খুলে পালানোর চেষ্টা করেন। লোকজন তাঁদের পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁরা নিহত হন।

আজ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার শত শত নারী-পুরুষ নিহত পুলিশ সদস্যদের লাশ দল দলে দেখতে আসেন এবং মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। থানার ভেতরে ঢুকে করে স্থানীয় লোকজন সব মালামাল নিয়ে যান।

এদিকে দাউদকান্দি উপজেলার সদরের তুজারভাঙা গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়া (২১) গতকাল দাউদকান্দি বাজারে যান। দাউদকান্দি মডেল থানার সামনের সড়কে পৌঁছার পর পুলিশের গুলিতে তিনি মারা যান। উৎসুক জনতা থানা ঘেরাও করার চেষ্টা করলে থানা–পুলিশ আত্মরক্ষার্থে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুমিল্লায় সাবেক কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় : ১০:৩৯:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০২৪

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর শাহ আলম খানের নিজ বাড়িতে গতকাল রাতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় হামলাকারীরা।

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

কুমিল্লা নগরীর অশোকতলায় সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহ আলমের তিনতলা বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ও আজ মঙ্গলবার সকালে বাড়িটি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে পাঁচজনই কিশোর।

নিহতরা হলো নগরীর অশোকতলা এলাকার আশিক (১৪), শাকিল (১৪), শাওন (১২), মাহফুজুর রহমান  (২২), রনি (১৬) ও মহিন (১৭)। আজ বিভিন্ন সময় জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সোমবার আনুমানিক রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা অশোকতলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহ আলমের বাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে কয়েকজন বাড়িটির তিনতলায় উঠে পড়েন। এ সময় অন্যরা বাড়িটির নিচতলায় আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে তিনতলায় অবস্থানকারীরা ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ এবং আগুনে পুড়ে নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত একজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

কুমিল্লায় আরও দুজন নিহত

এদিকে গতকাল বিকেলে কুমিল্লা নগরীর তালপুকুরপাড় এলাকায় নাফিজুল আলম সামি (১৮) ও চৌদ্দগ্রামে জামশেদ (২০) নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। ঘটনার সময় কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট কমিটির সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম রনির বাসায় ছিলেন নাফিজুল আলম। রনি অভিযোগ করেন, গতকাল বিকেলে একদল ব্যক্তি তার বাসায় হামলা চালায়। এ সময় সামিকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তারা। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁর বাড়িতেও লুটপাট করে।

কুমিল্লায় হামলা ও সংঘর্ষের পর গতকাল সোমবার বিকেল থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৫ জন আজ সকাল পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

জেলার সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।

কুমিল্লায় ২ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা, গুলিতে এক যুবকের মৃত্যু

কুমিল্লার তিতাস থানা–পুলিশের দুই সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। আর দাউদকান্দি উপজেলার তুজারভাঙা গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়া (২১) গুলিতে নিহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, স্থানীয় উৎসুক জনতা তিতাস থানা ঘেরাও করতে গেলে থানা–পুলিশ আত্মরক্ষার্থে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে কমপক্ষে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা থানায় পৌঁছে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন।

থানা–পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারের পর কিছু মানুষ তিতাস থানা এবং থানার পাশের মার্কেটে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় থানা পাহারায় থাকা দুই পুলিশ সদস্য জীবন রক্ষার্থে থানার পেছনের ফটক খুলে পালানোর চেষ্টা করেন। লোকজন তাঁদের পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁরা নিহত হন।

আজ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার শত শত নারী-পুরুষ নিহত পুলিশ সদস্যদের লাশ দল দলে দেখতে আসেন এবং মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। থানার ভেতরে ঢুকে করে স্থানীয় লোকজন সব মালামাল নিয়ে যান।

এদিকে দাউদকান্দি উপজেলার সদরের তুজারভাঙা গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়া (২১) গতকাল দাউদকান্দি বাজারে যান। দাউদকান্দি মডেল থানার সামনের সড়কে পৌঁছার পর পুলিশের গুলিতে তিনি মারা যান। উৎসুক জনতা থানা ঘেরাও করার চেষ্টা করলে থানা–পুলিশ আত্মরক্ষার্থে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।