সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ এলাকাবাসীরদিরাইয়ে সেতু নির্মাণের আগেই ভেঙ্গে পড়লো গার্ডার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪ ২২৭ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ দিরাই প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জগদল কলেজের পাশে হেরা চেপটা (মরা) নদীর উপর নির্মাণাধীন ব্রিজের ৩২ মিটারের দুইটি গার্ডার (বেষ্টক) ভেঙ্গে পড়েছে। গার্ডার দুটি ভেঙ্গে পড়ার সময় বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। গত বুধবার গার্ডার ভাঙ্গার ঘটনা ঘটে।

দিরাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে, ৯৬ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজটি এপ্রোচসহ সাড়ে ৮ কোটি কোটি ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। ২০২২ সালের ১ জুন ব্রিজের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ২৫ জুন ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু, এখনো শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের নিচের অংশের কাজ শেষে এখন দুই পাশের গার্ডারের কাজ চলছিল। কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম জানান, গার্ডার নির্মাণের পর জগ দিয়ে গার্ডার দুটি প্রতিস্থাপনের সময় দুর্ঘটনা বশত গার্ডার দুইটি নিচে পড়ে গেছে। তবে, এতে কোন শ্রমিক হতাহত হয়নি। এ কারণে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার।

উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, গার্ডারটি বসানোর সময় দুর্ঘটনা বসত নিচে পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে গেছে। এর দায়ভার অবশ্যই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।

জানা গেছে, ব্রিজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম সালেহ কামার জানি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সালেহ আহমদ মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। রাজনীতির সাথেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। সারাদেশে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ২শ’ কোটি টাকার এবং সুনামগঞ্জে ১২৫ কোটি টাকার কাজ রয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ঠিকাদারের ভাগ্নে ও প্রতিষ্ঠানটির সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর ও টাঙ্গাইলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ইসমাইল জানিয়েছেন, এ কাজের জন্য ১ কোটি টাকা বিল তোলা হয়েছে।

সূত্র মতে, সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বাড়িও একই এলাকায়। তারা একে অপরের নিকটাত্মীয়। যে কারণে জেলার কেউই তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন ঠিকাদার বলেন, এ কাজে অবশ্যই অনিয়ম হয়েছে।

আলাপকালে স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদেরকে জানান, গার্ডার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের বালু, পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ কাজে স্থানীয় প্রকৌশলীদের তদারকির অভাব রয়েছে। যে কারণে গার্ডারটি লুজ হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। অন্য একটি সূত্র জানায়, উপজেলা প্রকৌশলীও ১৪ বছর ধরে দিরাইয়ে দায়িত্বে রয়েছে। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ এলাকাবাসীরদিরাইয়ে সেতু নির্মাণের আগেই ভেঙ্গে পড়লো গার্ডার

আপডেট সময় : ০২:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

সুনামগঞ্জ দিরাই প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জগদল কলেজের পাশে হেরা চেপটা (মরা) নদীর উপর নির্মাণাধীন ব্রিজের ৩২ মিটারের দুইটি গার্ডার (বেষ্টক) ভেঙ্গে পড়েছে। গার্ডার দুটি ভেঙ্গে পড়ার সময় বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। গত বুধবার গার্ডার ভাঙ্গার ঘটনা ঘটে।

দিরাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে, ৯৬ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজটি এপ্রোচসহ সাড়ে ৮ কোটি কোটি ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। ২০২২ সালের ১ জুন ব্রিজের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ২৫ জুন ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু, এখনো শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের নিচের অংশের কাজ শেষে এখন দুই পাশের গার্ডারের কাজ চলছিল। কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম জানান, গার্ডার নির্মাণের পর জগ দিয়ে গার্ডার দুটি প্রতিস্থাপনের সময় দুর্ঘটনা বশত গার্ডার দুইটি নিচে পড়ে গেছে। তবে, এতে কোন শ্রমিক হতাহত হয়নি। এ কারণে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার।

উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, গার্ডারটি বসানোর সময় দুর্ঘটনা বসত নিচে পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে গেছে। এর দায়ভার অবশ্যই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।

জানা গেছে, ব্রিজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম সালেহ কামার জানি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সালেহ আহমদ মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। রাজনীতির সাথেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। সারাদেশে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ২শ’ কোটি টাকার এবং সুনামগঞ্জে ১২৫ কোটি টাকার কাজ রয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ঠিকাদারের ভাগ্নে ও প্রতিষ্ঠানটির সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর ও টাঙ্গাইলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ইসমাইল জানিয়েছেন, এ কাজের জন্য ১ কোটি টাকা বিল তোলা হয়েছে।

সূত্র মতে, সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বাড়িও একই এলাকায়। তারা একে অপরের নিকটাত্মীয়। যে কারণে জেলার কেউই তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন ঠিকাদার বলেন, এ কাজে অবশ্যই অনিয়ম হয়েছে।

আলাপকালে স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদেরকে জানান, গার্ডার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের বালু, পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ কাজে স্থানীয় প্রকৌশলীদের তদারকির অভাব রয়েছে। যে কারণে গার্ডারটি লুজ হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। অন্য একটি সূত্র জানায়, উপজেলা প্রকৌশলীও ১৪ বছর ধরে দিরাইয়ে দায়িত্বে রয়েছে। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।