সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসকনগরীর কোনো রাস্তা কাঁচা থাকবে না বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমন্বয় সভায় সিসিক প্রশাসক দ্বিতীয় পদ্মা সেতুসহ তিন মেগা প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সব অবৈধ ক্লিনিক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চালু করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলেটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবৈধ রাসায়নিক ব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠানের মালিককে অর্থদণ্ড ও এক বছরের কারাদণ্ড আইন কমিশনের সেমিনারে অংশ নিলেন এমইউ’র প্রফেসর আশরাফুর রহমান সিলেটে গ্যাস বন্ধের খবর, যা বলছে পেট্রোবাংলা ট্রাফিক আইন মানবো, নিরাপদ সিলেট গড়বো সিলেটে মতবিনিময় সভায় রুহুল কবির রিজভী সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে: সিলেটে রুহুল কবির রিজভী

নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ এলাকাবাসীরদিরাইয়ে সেতু নির্মাণের আগেই ভেঙ্গে পড়লো গার্ডার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪ ২৩৫ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ দিরাই প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জগদল কলেজের পাশে হেরা চেপটা (মরা) নদীর উপর নির্মাণাধীন ব্রিজের ৩২ মিটারের দুইটি গার্ডার (বেষ্টক) ভেঙ্গে পড়েছে। গার্ডার দুটি ভেঙ্গে পড়ার সময় বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। গত বুধবার গার্ডার ভাঙ্গার ঘটনা ঘটে।

দিরাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে, ৯৬ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজটি এপ্রোচসহ সাড়ে ৮ কোটি কোটি ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। ২০২২ সালের ১ জুন ব্রিজের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ২৫ জুন ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু, এখনো শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের নিচের অংশের কাজ শেষে এখন দুই পাশের গার্ডারের কাজ চলছিল। কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম জানান, গার্ডার নির্মাণের পর জগ দিয়ে গার্ডার দুটি প্রতিস্থাপনের সময় দুর্ঘটনা বশত গার্ডার দুইটি নিচে পড়ে গেছে। তবে, এতে কোন শ্রমিক হতাহত হয়নি। এ কারণে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার।

উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, গার্ডারটি বসানোর সময় দুর্ঘটনা বসত নিচে পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে গেছে। এর দায়ভার অবশ্যই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।

জানা গেছে, ব্রিজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম সালেহ কামার জানি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সালেহ আহমদ মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। রাজনীতির সাথেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। সারাদেশে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ২শ’ কোটি টাকার এবং সুনামগঞ্জে ১২৫ কোটি টাকার কাজ রয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ঠিকাদারের ভাগ্নে ও প্রতিষ্ঠানটির সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর ও টাঙ্গাইলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ইসমাইল জানিয়েছেন, এ কাজের জন্য ১ কোটি টাকা বিল তোলা হয়েছে।

সূত্র মতে, সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বাড়িও একই এলাকায়। তারা একে অপরের নিকটাত্মীয়। যে কারণে জেলার কেউই তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন ঠিকাদার বলেন, এ কাজে অবশ্যই অনিয়ম হয়েছে।

আলাপকালে স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদেরকে জানান, গার্ডার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের বালু, পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ কাজে স্থানীয় প্রকৌশলীদের তদারকির অভাব রয়েছে। যে কারণে গার্ডারটি লুজ হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। অন্য একটি সূত্র জানায়, উপজেলা প্রকৌশলীও ১৪ বছর ধরে দিরাইয়ে দায়িত্বে রয়েছে। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ এলাকাবাসীরদিরাইয়ে সেতু নির্মাণের আগেই ভেঙ্গে পড়লো গার্ডার

আপডেট সময় : ০২:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

সুনামগঞ্জ দিরাই প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জগদল কলেজের পাশে হেরা চেপটা (মরা) নদীর উপর নির্মাণাধীন ব্রিজের ৩২ মিটারের দুইটি গার্ডার (বেষ্টক) ভেঙ্গে পড়েছে। গার্ডার দুটি ভেঙ্গে পড়ার সময় বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। গত বুধবার গার্ডার ভাঙ্গার ঘটনা ঘটে।

দিরাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে, ৯৬ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজটি এপ্রোচসহ সাড়ে ৮ কোটি কোটি ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। ২০২২ সালের ১ জুন ব্রিজের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ২৫ জুন ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু, এখনো শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের নিচের অংশের কাজ শেষে এখন দুই পাশের গার্ডারের কাজ চলছিল। কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম জানান, গার্ডার নির্মাণের পর জগ দিয়ে গার্ডার দুটি প্রতিস্থাপনের সময় দুর্ঘটনা বশত গার্ডার দুইটি নিচে পড়ে গেছে। তবে, এতে কোন শ্রমিক হতাহত হয়নি। এ কারণে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার।

উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, গার্ডারটি বসানোর সময় দুর্ঘটনা বসত নিচে পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে গেছে। এর দায়ভার অবশ্যই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।

জানা গেছে, ব্রিজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম সালেহ কামার জানি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সালেহ আহমদ মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। রাজনীতির সাথেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। সারাদেশে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ২শ’ কোটি টাকার এবং সুনামগঞ্জে ১২৫ কোটি টাকার কাজ রয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ঠিকাদারের ভাগ্নে ও প্রতিষ্ঠানটির সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর ও টাঙ্গাইলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ইসমাইল জানিয়েছেন, এ কাজের জন্য ১ কোটি টাকা বিল তোলা হয়েছে।

সূত্র মতে, সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বাড়িও একই এলাকায়। তারা একে অপরের নিকটাত্মীয়। যে কারণে জেলার কেউই তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন ঠিকাদার বলেন, এ কাজে অবশ্যই অনিয়ম হয়েছে।

আলাপকালে স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদেরকে জানান, গার্ডার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের বালু, পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ কাজে স্থানীয় প্রকৌশলীদের তদারকির অভাব রয়েছে। যে কারণে গার্ডারটি লুজ হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। অন্য একটি সূত্র জানায়, উপজেলা প্রকৌশলীও ১৪ বছর ধরে দিরাইয়ে দায়িত্বে রয়েছে। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।