সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

২ শিশুর মরদেহ পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায়, আজমিরীগঞ্জে ৭ মাতব্বরসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি :

আজমিরীগঞ্জে দুই শিশুর মরদেহ বস্তায় ভরে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৭ মাতব্বরের নাম উল্লেখ করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিহত শিশু প্রলয় দাসের বাবা গোবিন্দ দাস বাদি হয়ে আজমিরীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন- দীপেশ চন্দ্র সরকার, নিরঞ্জন তালুকদার, দীনমণি সরকার, অসিত দাস, ভীমলাল দাস, নিখিল দাস ও নিরঞ্জন দাস। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই ফুটবল খেলা শেষে পুকুরে গোসল করতে নেমে মারা যায় পাহারপুর (মাহমুদপুর) গ্রামের দুই শিশু প্রলয় দাস (৭) ও সুর্য দাস (৬)।

সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী মরদেহ দাহ করা হয়। তবে শিশুদের বেলায় তা দাহ না করে সমাধি দেওয়ার রীতি রয়েছে। মারা যাওয়ার পরদিন (৩০ জুন) দুপুরে শিশু প্রলয় দাসের মরদেহ শ্মশানে সমাধি দেয় তার পরিবার। বিষয়টি গ্রামের মাতব্বররা জানার পর শিশুটির বাবা গোবিন্দ দাসকে ডেকে এনে শ্মশানে মরদেহ না রাখার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সমাধি দেওয়া মরদেহ তুলে পানিতে ফেলে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সন্তানের মরদেহ শ্মশানে রাখতে বাবার শত অনুরোধ আর পায়ে ধরে কান্নাও মন গলাতে পারেনি মাতব্বরদের। এক পর্যায়ে মাতব্বরদের চাপের মুখে সন্তানের মরদেহ সমাধি থেকে তুলতে বাধ্য হন হতভাগা বাবা। পরে বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়া হয় কালনী-কুশিয়ারা নদীতে। প্রলয়ের এমন পরিণতি দেখে অপর শিশু সূর্য দাসের পরিবারও তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়। শিশু প্রলয় দাসের বাবা গোবিন্দ দাস মামলায় উল্লেখ করেন, তিনি তার ছেলের মরদেহ শশ্মানে রাখতে পঞ্চায়েত কমিটির পায়ে ধরে কান্নাকাটি করেন। কিন্তু নেতারা মরদেহ নিজেরাই তোলে ফেলে দেবে বলে হুমকি দিলে বাধ্য হয়ে তিনি মরদেহ তুলে নদীতে ভাসিয়ে দেন। এর আগে, বিষয়টি বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গত ৩ জুলাই আজমিরীগঞ্জ চৌকি আদালতের বিচারক সোহেল ভূঁইয়া স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

২ শিশুর মরদেহ পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায়, আজমিরীগঞ্জে ৭ মাতব্বরসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪

হবিগঞ্জ আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি :

আজমিরীগঞ্জে দুই শিশুর মরদেহ বস্তায় ভরে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৭ মাতব্বরের নাম উল্লেখ করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিহত শিশু প্রলয় দাসের বাবা গোবিন্দ দাস বাদি হয়ে আজমিরীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন- দীপেশ চন্দ্র সরকার, নিরঞ্জন তালুকদার, দীনমণি সরকার, অসিত দাস, ভীমলাল দাস, নিখিল দাস ও নিরঞ্জন দাস। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই ফুটবল খেলা শেষে পুকুরে গোসল করতে নেমে মারা যায় পাহারপুর (মাহমুদপুর) গ্রামের দুই শিশু প্রলয় দাস (৭) ও সুর্য দাস (৬)।

সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী মরদেহ দাহ করা হয়। তবে শিশুদের বেলায় তা দাহ না করে সমাধি দেওয়ার রীতি রয়েছে। মারা যাওয়ার পরদিন (৩০ জুন) দুপুরে শিশু প্রলয় দাসের মরদেহ শ্মশানে সমাধি দেয় তার পরিবার। বিষয়টি গ্রামের মাতব্বররা জানার পর শিশুটির বাবা গোবিন্দ দাসকে ডেকে এনে শ্মশানে মরদেহ না রাখার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সমাধি দেওয়া মরদেহ তুলে পানিতে ফেলে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সন্তানের মরদেহ শ্মশানে রাখতে বাবার শত অনুরোধ আর পায়ে ধরে কান্নাও মন গলাতে পারেনি মাতব্বরদের। এক পর্যায়ে মাতব্বরদের চাপের মুখে সন্তানের মরদেহ সমাধি থেকে তুলতে বাধ্য হন হতভাগা বাবা। পরে বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়া হয় কালনী-কুশিয়ারা নদীতে। প্রলয়ের এমন পরিণতি দেখে অপর শিশু সূর্য দাসের পরিবারও তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়। শিশু প্রলয় দাসের বাবা গোবিন্দ দাস মামলায় উল্লেখ করেন, তিনি তার ছেলের মরদেহ শশ্মানে রাখতে পঞ্চায়েত কমিটির পায়ে ধরে কান্নাকাটি করেন। কিন্তু নেতারা মরদেহ নিজেরাই তোলে ফেলে দেবে বলে হুমকি দিলে বাধ্য হয়ে তিনি মরদেহ তুলে নদীতে ভাসিয়ে দেন। এর আগে, বিষয়টি বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গত ৩ জুলাই আজমিরীগঞ্জ চৌকি আদালতের বিচারক সোহেল ভূঁইয়া স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।