সিলেট রেঞ্জের সেপ্টেম্বর ২০২৬খ্রি. মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা ও শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
সিলেট রেঞ্জের সেপ্টেম্বর ২০২৬খ্রি. মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা ও শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত সভা অদ্য সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি’র কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট রেঞ্জের সম্মানিত ডিআইজি জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন জনাব মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, অতিরিক্ত ডিআইজি, রেঞ্জ ডিআইজি’র কার্যালয়, সিলেট। শুরুতেই ডিআইজি মহোদয় উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সভার কার্যক্রম আরম্ভ করেন।
সভায় সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ মামলাসমূহ পর্যালোচনার পাশাপাশি ডিআইজি মহোদয় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সকল পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও টহল কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পূজাকে কেন্দ্র করে গুজব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রদান করেন।
পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন। আসন্ন শীত মৌসুমে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ প্রদান করেন। এ ছাড়া শীত মৌসুমে দেশে আগত প্রবাসীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাত্রিকালীন টহল জোরদার এবং থানা-এলাকাগুলোর সংযোগস্থলে সমন্বিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তদন্ত ও অভিযান পরিচালনাকালে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অপরাধের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিতকরণ এবং অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস অনুসন্ধানসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধের সংবাদ পাওয়ামাত্র সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারসহ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সড়ক ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও দস্যুতা প্রতিরোধে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ প্রদান করেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দল-মত নির্বিশেষে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ এবং কোনো ধরনের প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।
পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে তাদের আড্ডাস্থল ও অপরাধের ধরন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণপূর্বক পেশাদারিত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সর্বোপরি, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় পেশাদারিত্ব, সততা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি’র কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সিলেট রেঞ্জের অধীন চার জেলার পুলিশ সুপারগণ, আরআরএফ, সিলেটের কমান্ড্যান্ট, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারসমূহের কমান্ড্যান্টগণ এবং রেঞ্জ ডিআইজি’র কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ। এ ছাড়া জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সিলেট রেঞ্জের সকল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক, ডিআইও-১, সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার/সহকারী পুলিশ সুপার, থানার অফিসার ইনচার্জ এবং ফাঁড়ি, ক্যাম্প ও তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।




















