সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট জেলার পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেক পিতা প্রফেসর চৌধুরী বি এ মজহার উদ্দিন ইন্তেকাল করেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫২ দিনেও হদিস মিলেনি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেলিনের কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভারতীয় অবৈধ ছয়টি মোটরসাইকেলসহ সিলেটী ৯ যুবক গ্রেফতার আমি নিজেই মদ খেয়েছি, থানায় এসে বললেন সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতকের সেই তরুণী পরীক্ষার সময় বই খুলে লিখছিলেন, ভিডিও করায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা পিত্তনালিতে পাথরের চিকিৎসা কী কবরী, পূর্ণিমা, মেহজাবীন–পায়েলদের প্রথম পারিশ্রমিক কত রবিনসনদের তোপে ১১০ রানে অলআউট পাকিস্তান, ইংল্যান্ডের লিড আড়াই শ ছাড়িয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার যানজট, অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু সিলেটে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ৪,২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫২ দিনেও হদিস মিলেনি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেলিনের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন প্রায় ৫২ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিষয়টি জানিয়েছেন সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানার (ওসি তদন্ত) আব্দুস সালাম।

তিনি জানান, গত ৮ জুলাই সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজ হন। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। পরে সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এই সাধারণ ডায়রির পর থেকে পুলিশ, সিআইডি, র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরাও তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। 

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত মো. আরিফুল্লাহ জেলিনের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দাবাহিনীর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ জুলাই সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজ হন। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান পায় নি তার পরিবার। পরে এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হলে পুলিশ খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এবং পরবর্তী সময়ে তিনি শনিবার (১ আগস্ট) ছেলের সন্ধানের দাবিতে সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করেন তার মা ফরিদা ইয়াসমীন।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা ইয়াসমীন উল্লেখ্য করেন, জেলিন যেদিন নিখোঁজ হয়, সেদিন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার সঙ্গে তার মায়ের সাথে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। তখন সে তার বিমানবন্দর আবাসিক কোয়ার্টারেই ছিল। কিন্তু জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮ জুলাই বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো এক সময়ে সে নিখোঁজ হয়েছে। আমার সঙ্গে যখন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কথা হয়েছে, তখন বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে নিখোঁজ হওয়ার কথা কীভাবে বলা হলো, এ প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো পাইনি।

তিনি আরও বলেন, এ তথ্যগত অসংগতির কারণে আমার সন্দেহ হচ্ছে, আমার ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কেউ প্রকৃত ঘটনা জানেন। কিন্তু তা গোপন করা হচ্ছে। এ কারণে আমি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে অনুরোধ করছি, ওই সময়ে আমার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিদের, বিশেষ করে যিনি জিডি করেছেন, তার বক্তব্যসহ সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হোক।

জেলিনের পরিবারের দাবি, আরিফুল্লাহ জেলিনের ব্যক্তিগত জীবনে পরিচিত কোনো শত্রু ছিল না। তবে কর্মস্থলে কোনো সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে পরিবারের সন্দেহ রয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।

নিখোঁজ আরিফুল্লাহ জেলিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার শীতলপুর গ্রামে। জেলিন খুলনা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক শিক্ষার্থী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫২ দিনেও হদিস মিলেনি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেলিনের

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন প্রায় ৫২ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিষয়টি জানিয়েছেন সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানার (ওসি তদন্ত) আব্দুস সালাম।

তিনি জানান, গত ৮ জুলাই সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজ হন। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। পরে সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এই সাধারণ ডায়রির পর থেকে পুলিশ, সিআইডি, র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরাও তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। 

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত মো. আরিফুল্লাহ জেলিনের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দাবাহিনীর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ জুলাই সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজ হন। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান পায় নি তার পরিবার। পরে এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হলে পুলিশ খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এবং পরবর্তী সময়ে তিনি শনিবার (১ আগস্ট) ছেলের সন্ধানের দাবিতে সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করেন তার মা ফরিদা ইয়াসমীন।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা ইয়াসমীন উল্লেখ্য করেন, জেলিন যেদিন নিখোঁজ হয়, সেদিন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার সঙ্গে তার মায়ের সাথে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। তখন সে তার বিমানবন্দর আবাসিক কোয়ার্টারেই ছিল। কিন্তু জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮ জুলাই বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো এক সময়ে সে নিখোঁজ হয়েছে। আমার সঙ্গে যখন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কথা হয়েছে, তখন বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে নিখোঁজ হওয়ার কথা কীভাবে বলা হলো, এ প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো পাইনি।

তিনি আরও বলেন, এ তথ্যগত অসংগতির কারণে আমার সন্দেহ হচ্ছে, আমার ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কেউ প্রকৃত ঘটনা জানেন। কিন্তু তা গোপন করা হচ্ছে। এ কারণে আমি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে অনুরোধ করছি, ওই সময়ে আমার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিদের, বিশেষ করে যিনি জিডি করেছেন, তার বক্তব্যসহ সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হোক।

জেলিনের পরিবারের দাবি, আরিফুল্লাহ জেলিনের ব্যক্তিগত জীবনে পরিচিত কোনো শত্রু ছিল না। তবে কর্মস্থলে কোনো সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে পরিবারের সন্দেহ রয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।

নিখোঁজ আরিফুল্লাহ জেলিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার শীতলপুর গ্রামে। জেলিন খুলনা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক শিক্ষার্থী।