সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান রবিনসনদের তোপে ১১০ রানে অলআউট পাকিস্তান, ইংল্যান্ডের লিড আড়াই শ ছাড়িয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার যানজট, অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু সিলেটে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ৪,২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ সিলেটের বিয়ানীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ সিলেটে গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধে পৃথক অভিযান ঢাকার ‘বার’ থেকে যুবকের সাথে যাওয়া সিলেট সুনামগঞ্জের ছাতকের এই তরুণী সিলেট প্রেসক্লাবের আয়োজনে সাংবাদিক বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সিলেটে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ১ দিনে শিশুর মৃত্যু ৩ সিলেট বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়ন অভিযানে- সীমান্তে অর্ধ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

সিলেটের বিয়ানীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : 

উদ্বেগ-উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে সিলেটের বিয়ানীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীর তৃগাংগারমুখ এলাকায় এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

নৌকাবাইচ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আয়োজনে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগান সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার, বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা এম এ বাতিন, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ রেজা এবং লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গৌছ উদ্দিন।

বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনাই নদীতে অনুষ্ঠিত এ নৌকাবাইচে গোলাপগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলা থেকে তিনটি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলোর নাম ছিল ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ ও ‘পাগলা নাও’। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর কোনো নৌকাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। নৌকাবাইচ দেখতে দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই তীরে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী হাজারো মানুষ নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নেন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দেখতে আসেন।

মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার চালনা আর দ্রুতগতির নৌকার প্রতিযোগিতায় নদীর দুই তীরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নৌকাবাইচে সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।

এর আগে নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে এলাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় তৌহিদী জনতার ব্যানারে কয়েকজন ব্যক্তি নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি ও সভা করেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনকে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বারইগ্রাম বাজারে চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

পরে লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটের বিয়ানীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : 

উদ্বেগ-উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে সিলেটের বিয়ানীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীর তৃগাংগারমুখ এলাকায় এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

নৌকাবাইচ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আয়োজনে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগান সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার, বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা এম এ বাতিন, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ রেজা এবং লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গৌছ উদ্দিন।

বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনাই নদীতে অনুষ্ঠিত এ নৌকাবাইচে গোলাপগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলা থেকে তিনটি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলোর নাম ছিল ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ ও ‘পাগলা নাও’। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর কোনো নৌকাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। নৌকাবাইচ দেখতে দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই তীরে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী হাজারো মানুষ নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নেন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দেখতে আসেন।

মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার চালনা আর দ্রুতগতির নৌকার প্রতিযোগিতায় নদীর দুই তীরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নৌকাবাইচে সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।

এর আগে নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে এলাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় তৌহিদী জনতার ব্যানারে কয়েকজন ব্যক্তি নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি ও সভা করেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনকে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বারইগ্রাম বাজারে চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

পরে লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।