সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় জাল জন্মনিবন্ধন স্বাক্ষর করাতে গিয়ে যুবক আটক সিলেটে হামে আক্রান্ত একজনের মৃত্যু, হামে আক্রান্ত ৩০৭ সিলেট নগরের রায়নগরে চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় ৩ জনকে খুন করেন বাবুল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ড. ইউনূসের অভিনন্দন জা*মা*য়া*ত শি*বি*র নিষিদ্ধের দাবি জানালেন নুরুল হক নুর সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়ে জমজমাট সিলেট শনিবার আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী, অংশ নিবেন যেসব কর্মসূচিতে সিলেট চোরাই পণ্য জব্দ ৩৭ লাখ ২৪ হাজার টাকার সিলেটের গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক খালেদকে হেনস্তা ও হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন সিলেট পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, বিপিএম!র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস।

সিলেট নগরের রায়নগরে চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় ৩ জনকে খুন করেন বাবুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেট নগরের রায়নগরে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আসামি বাবুল মিয়া। গ্রেফতারের পরপরই পুলিশের কাছে গৃহপরিচারিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা বললেও আদালতে বলেছে বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড়ে চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় প্রথমে গৃহপরিচারিকা, তারপর গৃহকর্ত্রী ও গৃহকর্তাকে সাথে নিয়ে যাওয়া ছুরি দিয়ে একাই খুন করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় বাবুল মিয়া। জবানবন্দি শেষে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে সে এই জবানবন্দি দেয়। সিলেটের কোর্ট ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছে। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, চার দিনের রিমান্ড শেষে বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে তোলা হয়।

এ সময় বাবুল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

তবে এসএমপি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জবানবন্দি দেওয়ার সময় বাবুল মিয়া শান্ত ছিল। এই পুলিশ কর্মকর্তার মতে বাবুল মিয়া এই তিন খুনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে তার জবানবন্দিতে বলে, আগের দিন রাতে তার বাসা ভাড়ার জন্য বাসার মালিক চাপ দেয় এবং বাসা ছেড়ে যেতে বলে।

সে সিদ্ধান্ত নেয় পূর্বপরিচিত রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় সব সময় টাকা-পয়সা থাকে, সেখানেই সে চুরি করবে। ১২ আগস্ট সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে সে সেই বাসায় যায়। বাসার সিঁড়িতে সিসি ক্যামেরা আছে তা আগেই সে জানত, তাই সে বেলকনিতে উঠে যে কক্ষ খোলা পায় সেখানে ঢুকে পড়ে।

এ সময় তার সাথে একটি ছুরি থাকার কথাও স্বীকার করে সে। সেই কক্ষে ঢোকার সাথে সাথেই গৃহপরিচারিকা তাহমিনার মুখোমুখি হয় সে। তাহমিনা তাকে দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পেছন দিক থেকে ধরে ফেলে তাকে উপুড়্যপরি ছুরি দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে মেঝেতে পড়ে গেলে সেখানেই তাকে আরও আঘাত করে। তার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম সেই কক্ষে এসে তাহমিনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে দেখে বাবুলের পিঠে চড়াও হতে থাকেন সুরাইয়া বেগম।

বাবুল সে সময় পেছনে না তাকিয়েই ছুরি চালিয়ে দেয়, এতে সুরাইয়া বেগমের গলায় লেগে তিনিও পড়ে যান মেঝেতে। তাকে আরও কয়েকটি আঘাত করে বাবুল। একপর্যায়ে অন্য কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার। খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় তাকেও খুন করে বাবুল মিয়া। বাবুল মিয়া তার জবানবন্দিতে বলে, তিনজনকে খুনের পর সে তার শরীরে লেগে থাকা রক্ত পরিষ্কার করার জন্য বাথরুমে যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে একটি কক্ষে টাকা-পয়সা খুঁজতে থাকে।

একপর্যায়ে কিছু ৫০০ টাকার নোট পায় যা পরে গুনে দেখে ১৫ হাজার টাকা। বাসার আরও কিছু নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাসার মোবাইল ফোন বেজে ওঠা ও মূল দরজার পাশে কেউ কথা বলার কারণে দ্রুত সেই বারান্দা দিয়েই নিচে নেমে যায় বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবুল মিয়া উল্লেখ করেছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বর্ণনা করেন।

তিনি জানান, বাবুল মিয়া আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, সেই বাসা থেকে বেরিয়ে সে মেলার মাঠে গিয়ে বসে থাকে। বিকেলে বাসায় ফিরলেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট নগরের রায়নগরে চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় ৩ জনকে খুন করেন বাবুল

আপডেট সময় : ০১:২৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেট নগরের রায়নগরে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আসামি বাবুল মিয়া। গ্রেফতারের পরপরই পুলিশের কাছে গৃহপরিচারিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা বললেও আদালতে বলেছে বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড়ে চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় প্রথমে গৃহপরিচারিকা, তারপর গৃহকর্ত্রী ও গৃহকর্তাকে সাথে নিয়ে যাওয়া ছুরি দিয়ে একাই খুন করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় বাবুল মিয়া। জবানবন্দি শেষে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে সে এই জবানবন্দি দেয়। সিলেটের কোর্ট ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছে। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, চার দিনের রিমান্ড শেষে বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে তোলা হয়।

এ সময় বাবুল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

তবে এসএমপি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জবানবন্দি দেওয়ার সময় বাবুল মিয়া শান্ত ছিল। এই পুলিশ কর্মকর্তার মতে বাবুল মিয়া এই তিন খুনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে তার জবানবন্দিতে বলে, আগের দিন রাতে তার বাসা ভাড়ার জন্য বাসার মালিক চাপ দেয় এবং বাসা ছেড়ে যেতে বলে।

সে সিদ্ধান্ত নেয় পূর্বপরিচিত রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় সব সময় টাকা-পয়সা থাকে, সেখানেই সে চুরি করবে। ১২ আগস্ট সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে সে সেই বাসায় যায়। বাসার সিঁড়িতে সিসি ক্যামেরা আছে তা আগেই সে জানত, তাই সে বেলকনিতে উঠে যে কক্ষ খোলা পায় সেখানে ঢুকে পড়ে।

এ সময় তার সাথে একটি ছুরি থাকার কথাও স্বীকার করে সে। সেই কক্ষে ঢোকার সাথে সাথেই গৃহপরিচারিকা তাহমিনার মুখোমুখি হয় সে। তাহমিনা তাকে দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পেছন দিক থেকে ধরে ফেলে তাকে উপুড়্যপরি ছুরি দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে মেঝেতে পড়ে গেলে সেখানেই তাকে আরও আঘাত করে। তার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম সেই কক্ষে এসে তাহমিনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে দেখে বাবুলের পিঠে চড়াও হতে থাকেন সুরাইয়া বেগম।

বাবুল সে সময় পেছনে না তাকিয়েই ছুরি চালিয়ে দেয়, এতে সুরাইয়া বেগমের গলায় লেগে তিনিও পড়ে যান মেঝেতে। তাকে আরও কয়েকটি আঘাত করে বাবুল। একপর্যায়ে অন্য কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার। খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় তাকেও খুন করে বাবুল মিয়া। বাবুল মিয়া তার জবানবন্দিতে বলে, তিনজনকে খুনের পর সে তার শরীরে লেগে থাকা রক্ত পরিষ্কার করার জন্য বাথরুমে যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে একটি কক্ষে টাকা-পয়সা খুঁজতে থাকে।

একপর্যায়ে কিছু ৫০০ টাকার নোট পায় যা পরে গুনে দেখে ১৫ হাজার টাকা। বাসার আরও কিছু নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাসার মোবাইল ফোন বেজে ওঠা ও মূল দরজার পাশে কেউ কথা বলার কারণে দ্রুত সেই বারান্দা দিয়েই নিচে নেমে যায় বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবুল মিয়া উল্লেখ করেছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বর্ণনা করেন।

তিনি জানান, বাবুল মিয়া আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, সেই বাসা থেকে বেরিয়ে সে মেলার মাঠে গিয়ে বসে থাকে। বিকেলে বাসায় ফিরলেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।