সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

সিলেট ওসমানীতে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষ, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ৮৯ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : 

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। 

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে তারা বিভিন্ন দাবি নিয়ে কর্মবিরতি পালন করে যাচ্ছেন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল সার্বিক বিষয়ে কথা বলার জন্য মহনগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছের সাথে বৈঠকে বসেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরামের সহ সাধারণ সম্পাদক ডা. রাকিন হান্নান। তিনি বলেন, আমাদের দাবি না মানা হলে কর্মবিরতি চলবে। হামলাকারীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি জরুরী বিভাগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা। সেই সাথে নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশের ব্যবস্থা করা।

জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও এর সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসপিয়ানুল হক ও রেজা নিলয়। অন্যরা হলেন নগরের বালুচর এলাকার আবরার হোসেন ও জাহিদ; মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী এবং রোগীর আরেক স্বজন। তাদের নাম জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক শিশুরোগীকে নিয়ে কয়েকজন স্বজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে তাদের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।

মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি, রোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বাইরে থেকে আরও লোকজন এনে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করেন। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জরুরি বিভাগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত দুই ইন্টার্ন চিকিৎসকের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর জানিয়ে হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসক রাকিন হান্নান বলেন, অন্যজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আহত রোগীর তিন স্বজনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেষ্টা চালালে কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি ও স্টাম্প হাতে অবস্থান করতে দেখা যায়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মাইনুল জাকির বলেন, হামলার বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট ওসমানীতে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষ, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা

আপডেট সময় : ১২:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : 

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। 

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে তারা বিভিন্ন দাবি নিয়ে কর্মবিরতি পালন করে যাচ্ছেন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল সার্বিক বিষয়ে কথা বলার জন্য মহনগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছের সাথে বৈঠকে বসেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরামের সহ সাধারণ সম্পাদক ডা. রাকিন হান্নান। তিনি বলেন, আমাদের দাবি না মানা হলে কর্মবিরতি চলবে। হামলাকারীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি জরুরী বিভাগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা। সেই সাথে নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশের ব্যবস্থা করা।

জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও এর সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসপিয়ানুল হক ও রেজা নিলয়। অন্যরা হলেন নগরের বালুচর এলাকার আবরার হোসেন ও জাহিদ; মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী এবং রোগীর আরেক স্বজন। তাদের নাম জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক শিশুরোগীকে নিয়ে কয়েকজন স্বজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে তাদের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।

মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি, রোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বাইরে থেকে আরও লোকজন এনে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করেন। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জরুরি বিভাগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত দুই ইন্টার্ন চিকিৎসকের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর জানিয়ে হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসক রাকিন হান্নান বলেন, অন্যজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আহত রোগীর তিন স্বজনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেষ্টা চালালে কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি ও স্টাম্প হাতে অবস্থান করতে দেখা যায়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মাইনুল জাকির বলেন, হামলার বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।