যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ‘মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন’ চালাচ্ছে রয়টার্স: ইরান
- আপডেট সময় : ০৩:৩০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘রয়টার্স’-এর প্রকাশিত তথ্যকে ‘মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’। বার্তা সংস্থাটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তাসনিম জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হয়েছে—রয়টার্স যেসব ‘জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র’-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, বাস্তবে সেই সূত্রগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। তাদের ভাষ্য, এসব তথাকথিত সূত্র ব্যবহার করে ইরানের অবস্থান ও কৌশল সম্পর্কে ভুল বার্তা ছড়ানো হচ্ছে, যা ‘মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন’-এরই অংশ হতে পারে।
রয়টার্সের বিভিন্ন প্রতিবেদনে কখনো আলোচনার অগ্রগতি, কখনো ইরানের অবস্থান নিয়ে নানা দাবি করা হলেও তাসনিমের অনুসন্ধানে সেগুলোকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হয়নি। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, আলোচনার প্রথম দফায় ইরানের সম্পদ মুক্তি নিয়ে রয়টার্স একটি ভুল তথ্য প্রকাশ করেছিল, যা পরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের গণমাধ্যমই নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে রয়টার্সও তাদের সেই প্রতিবেদনের অসত্যতা স্বীকার করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে তথ্যযুদ্ধের প্রবণতা বাড়ছে, ফলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে উঠেছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি ইরানভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম, যা দেশটির রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামরিক ইস্যুতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এটি রক্ষণশীল মিডিয়া কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ২০১২ সালে আইআরজিসি-সম্পৃক্ত উদ্যোগে সংস্থাটির যাত্রা শুরু হয়।
এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। টানা ৩৯ দিনের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬ জন নিহত এবং ২৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

























