সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জের মাধবপুরে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ,,প্রচার সংখ্যা ও প্রকাশনাস্থল বিবেচনায় নতুন হার নির্ধারণ, সর্বোচ্চ মূল্যসীমাও নির্ধারিত সুনামগঞ্জ জগন্নাথপুরে সড়ক বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা সিলেটে হাসপাতালে একদিনে ভর্তি ১২৩ ‘৪২টি ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়ককে উন্নয়নের নেটওয়ার্কে আনতে চাই’ হযরত শাহাজালাল (র:) মাজার এলাকা থেকে উদ্ধার নিখোঁজ ৪ শিক্ষার্থী দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে আয়োজনে সিসিকের সর্বাত্মক প্রস্তুতি লতিফিয়া ছাত্র সংসদের অভিষেক অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক লাউয়াই ও তপোবন আবাসিকএলাকায় সিসিক প্রশাসকেরপরিদর্শন সৌদি ফেরত নির্যাতিত রেহেনাকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা দিলেন মাধবপুরের ইউএনও

মাধবপুরে ছড়া-নদী, কৃষি জমি থেকে বালু মাটি লুট – পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি :

মাধবপুর উপজেলা জুড়ে দিন-রাত অবাধে চলছে মাটি, সাধারণ বালু ও সিলিকা বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি যেন এক প্রকার “মহোৎসব”- যেখানে পরিবেশ আইন, বিধি-বিধান এবং প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড়ি ছড়া, খাল, নদী ও ফসলি জমি থেকে নির্বিচারে সম্পদ লুট করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ও এসকেভেটর ব্যবহার করে রাতের আঁধারে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। পরে ট্রাক্টর ও ট্রাকে করে তা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছাতিয়াইন, বাঘাসুরা, নোয়াপাড়া, জগদীশপুর, বুল্লা, আন্দিউড়া, বহরা ও চৌমুহনী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম চোখে পড়ছে। বুল্লা ইউনিয়নের গাগড়াবাড়ি শত শত বিঘা ফসলি জমি খনন করে বালু তোলা হয়েছে।

আইনজীবী মনোহার আলী বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি উত্তোলন করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬ ধারায় প্রাকৃতিক টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উর্বর কৃষিজমির টপসয়েল কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করা এবং পরিবেশের ক্ষতি করা দন্ডনীয় অপরাধ। অথচ বাস্তবে এসব আইনের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনাই নদী-এর পাড়জুড়ে চৌমুহনী ইউনিয়নের আলাবক্সপুর, মঙ্গলপুর, অলিপুর, মহব্বতপুর ও হরিণখোলা এলাকায় অন্তত ১৫টি বিশাল বালুর স্তুপ গড়ে তোলা হয়েছে। বহরা ইউনিয়নের রাবার ড্যাম এলাকাসহ বিভিন্ন স্পট থেকে সিলিকা ও সাধারণ বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় নদীর বাঁধ কেটে নেওয়ায় রাবার ড্যাম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা।

বুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, কৃষিজমির টপসয়েল কেটে নেওয়ার ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে গ্রামীণ অবকাঠামো ভেঙে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। বাঘাসুরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিন আহমেদ বলেন, এভাবে অবৈধ উত্তোলন চলতে থাকায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ নষ্ট হচ্ছে, পাহাড়ে ভাঙন দেখা দিচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে মাধবপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম জানান, মাধবপুরে সরকারিভাবে কোনো সিলিকা বা সাধারণ বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। অবৈধ উত্তোলনের খবর পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা ও গাড়ি জব্দ করা হচ্ছে। জড়িতদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাধবপুরে ছড়া-নদী, কৃষি জমি থেকে বালু মাটি লুট – পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০১:৩২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মাধবপুর প্রতিনিধি :

মাধবপুর উপজেলা জুড়ে দিন-রাত অবাধে চলছে মাটি, সাধারণ বালু ও সিলিকা বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি যেন এক প্রকার “মহোৎসব”- যেখানে পরিবেশ আইন, বিধি-বিধান এবং প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড়ি ছড়া, খাল, নদী ও ফসলি জমি থেকে নির্বিচারে সম্পদ লুট করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ও এসকেভেটর ব্যবহার করে রাতের আঁধারে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। পরে ট্রাক্টর ও ট্রাকে করে তা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছাতিয়াইন, বাঘাসুরা, নোয়াপাড়া, জগদীশপুর, বুল্লা, আন্দিউড়া, বহরা ও চৌমুহনী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম চোখে পড়ছে। বুল্লা ইউনিয়নের গাগড়াবাড়ি শত শত বিঘা ফসলি জমি খনন করে বালু তোলা হয়েছে।

আইনজীবী মনোহার আলী বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি উত্তোলন করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬ ধারায় প্রাকৃতিক টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উর্বর কৃষিজমির টপসয়েল কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করা এবং পরিবেশের ক্ষতি করা দন্ডনীয় অপরাধ। অথচ বাস্তবে এসব আইনের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনাই নদী-এর পাড়জুড়ে চৌমুহনী ইউনিয়নের আলাবক্সপুর, মঙ্গলপুর, অলিপুর, মহব্বতপুর ও হরিণখোলা এলাকায় অন্তত ১৫টি বিশাল বালুর স্তুপ গড়ে তোলা হয়েছে। বহরা ইউনিয়নের রাবার ড্যাম এলাকাসহ বিভিন্ন স্পট থেকে সিলিকা ও সাধারণ বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় নদীর বাঁধ কেটে নেওয়ায় রাবার ড্যাম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা।

বুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, কৃষিজমির টপসয়েল কেটে নেওয়ার ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে গ্রামীণ অবকাঠামো ভেঙে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। বাঘাসুরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিন আহমেদ বলেন, এভাবে অবৈধ উত্তোলন চলতে থাকায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ নষ্ট হচ্ছে, পাহাড়ে ভাঙন দেখা দিচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে মাধবপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম জানান, মাধবপুরে সরকারিভাবে কোনো সিলিকা বা সাধারণ বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। অবৈধ উত্তোলনের খবর পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা ও গাড়ি জব্দ করা হচ্ছে। জড়িতদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।