ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে নাগরিকদেরসম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি-সিসিক প্রশাসক হামে আক্রান্ত শিশুকে যা খাওয়াবেন পাকিস্তান ছাড়ল ইরানি প্রতিনিধিদল ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’ সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়: প্রধানমন্ত্রী হবিগঞ্জ চুনারুঘাটে বিজিবির অভিযানে সীমান্তে ৮টি ভারতীয় গরু জব্দ হবিগঞ্জ বাহুবলের হরিতলায় অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন , পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা জরিমানা ২১ হাজার টাকা,ভোজ্য তেলের সরবরাহ নিশ্চিতে র‍্যাব-৯ এর অভিযান, সিলেটে আটক যানবাহন ছেড়ে দিবে পুলিশ, মহানগর এলাকায় যানবাহনগুলো চালানো যাবে না সিলেটে সংস্কৃতি-যাত্রার ৩০ বছর উদযাপন করলো ‘চারুবাক’

অন্ধ স্বামী, পাগলী স্ত্রী – ভালোবাসার অনন্য গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ভালোবাসার জন্য ঘর হারিয়েছেন দু’জনই-একজনকে সবাই ডাকতো ‘পাগলী’, আরেকজন জন্মান্ধ। তবু হাত ছাড়েননি কেউ কারও। প্রায় ২৫ বছর ধরে সংগ্রাম আর ভালোবাসার গল্প লিখে চলেছেন বাসমতি রবিদাস ও তাঁর স্বামী রামনারায়ণ রবিদাস।

কুলাউড়া উপজেলার পালকিছড়া চা বাগানে ছোট্ট টিনের ঘরে তাদের বসবাস। পরিবার ও সমাজের বিরোধিতায় দু’জনকেই ঘরছাড়া হতে হয়। কাজ না পেয়ে বাজারে ছাপরি তুলে শুরু হয় তাদের নতুন জীবন-ভিক্ষাই ছিল একমাত্র উপায়।

ভোরে উঠে স্বামীর সব কাজ করে দেন বাসমতি। জন্মান্ধ স্বামীকে স্নান করানো থেকে শুরু করে পোশাক পরানো-সব দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। এরপর হাত ধরে দু’জনে বের হন জীবিকার সন্ধানে।

রামনারায়ণের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি একা হয়ে পড়েন। সেই সময় চা বাগানের পথে পরিচয় বাসমতির সঙ্গে, সেখান থেকেই জন্ম নেয় ভালোবাসা। সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে দুই পরিবারই তাদের ত্যাগ করে। কয়েক মাস গাছতলায় থেকেও হাল ছাড়েননি তারা।

দুঃখের মাঝেও দুই সন্তানের জন্ম তাদের জীবনে এনে দেয় নতুন আশা। সন্তানদের নিয়ে ভিক্ষা করতে গেলে অনেক সময় স্থানীয় মানুষের সহায়তায় দিন কেটেছে।

সম্প্রতি ভিক্ষার জীবন ছাড়তে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে অটোরিকশা কিনেছিলেন তারা। আশা ছিল ছেলে চালাবে, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরবে। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের মাথায় গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে চুরি হয়ে যায় অটোরিকশাটি।

কাঁদতে কাঁদতে রামনারায়ণ বলেন, ‘ভাবছিলাম আর ভিক্ষা করতে হবে না, কিন্তু শেষ ভরসাটাও চলে গেল।’ পাশেই দাঁড়িয়ে বাসমতির কণ্ঠেও হতাশা-‘এই গাড়িটাই আছিল আমাদের বাঁচার আশা।’

প্রতিবেশীরা বলেন, এত অপমান আর অভাবের মধ্যেও শুধু ভালোবাসার জোরেই টিকে আছে এই সংসার। বাসমতির নিষ্ঠা আর দায়িত্ববোধ দেখে অনেকেই বিস্মিত।

সব হারিয়েও তারা আজও পাশাপাশি হাঁটেন- একজনের চোখ আরেকজন, একজনের ভরসা আরেকজন। ভালোবাসার এই গল্পই এখন স্থানীয় মানুষের কাছে আলোচিত এক মানবিক উদাহরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অন্ধ স্বামী, পাগলী স্ত্রী – ভালোবাসার অনন্য গল্প

আপডেট সময় : ১২:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ভালোবাসার জন্য ঘর হারিয়েছেন দু’জনই-একজনকে সবাই ডাকতো ‘পাগলী’, আরেকজন জন্মান্ধ। তবু হাত ছাড়েননি কেউ কারও। প্রায় ২৫ বছর ধরে সংগ্রাম আর ভালোবাসার গল্প লিখে চলেছেন বাসমতি রবিদাস ও তাঁর স্বামী রামনারায়ণ রবিদাস।

কুলাউড়া উপজেলার পালকিছড়া চা বাগানে ছোট্ট টিনের ঘরে তাদের বসবাস। পরিবার ও সমাজের বিরোধিতায় দু’জনকেই ঘরছাড়া হতে হয়। কাজ না পেয়ে বাজারে ছাপরি তুলে শুরু হয় তাদের নতুন জীবন-ভিক্ষাই ছিল একমাত্র উপায়।

ভোরে উঠে স্বামীর সব কাজ করে দেন বাসমতি। জন্মান্ধ স্বামীকে স্নান করানো থেকে শুরু করে পোশাক পরানো-সব দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। এরপর হাত ধরে দু’জনে বের হন জীবিকার সন্ধানে।

রামনারায়ণের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি একা হয়ে পড়েন। সেই সময় চা বাগানের পথে পরিচয় বাসমতির সঙ্গে, সেখান থেকেই জন্ম নেয় ভালোবাসা। সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে দুই পরিবারই তাদের ত্যাগ করে। কয়েক মাস গাছতলায় থেকেও হাল ছাড়েননি তারা।

দুঃখের মাঝেও দুই সন্তানের জন্ম তাদের জীবনে এনে দেয় নতুন আশা। সন্তানদের নিয়ে ভিক্ষা করতে গেলে অনেক সময় স্থানীয় মানুষের সহায়তায় দিন কেটেছে।

সম্প্রতি ভিক্ষার জীবন ছাড়তে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে অটোরিকশা কিনেছিলেন তারা। আশা ছিল ছেলে চালাবে, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরবে। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের মাথায় গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে চুরি হয়ে যায় অটোরিকশাটি।

কাঁদতে কাঁদতে রামনারায়ণ বলেন, ‘ভাবছিলাম আর ভিক্ষা করতে হবে না, কিন্তু শেষ ভরসাটাও চলে গেল।’ পাশেই দাঁড়িয়ে বাসমতির কণ্ঠেও হতাশা-‘এই গাড়িটাই আছিল আমাদের বাঁচার আশা।’

প্রতিবেশীরা বলেন, এত অপমান আর অভাবের মধ্যেও শুধু ভালোবাসার জোরেই টিকে আছে এই সংসার। বাসমতির নিষ্ঠা আর দায়িত্ববোধ দেখে অনেকেই বিস্মিত।

সব হারিয়েও তারা আজও পাশাপাশি হাঁটেন- একজনের চোখ আরেকজন, একজনের ভরসা আরেকজন। ভালোবাসার এই গল্পই এখন স্থানীয় মানুষের কাছে আলোচিত এক মানবিক উদাহরণ।