সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বার্তা দিল জাতিসংঘ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিন আবার জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এরই মধ্যে দেশজুড়ে বিরাজ করছে নির্বাচনি আমেজ; আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা। বাংলাদেশের এই সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। 

তবে, সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, নির্বাচনের জন্য এমন একটি অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে দেশের সব নাগরিক নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন এবং কোনো বাধা ছাড়াই নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন।

গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তাকে প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ এখন নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। আপনি জানেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এই নির্বাচনে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়ে কোনো পরামর্শ দেবেন কি না?

জবাবে ফারহান হক বলেন, অবশ্যই, আমরা নির্বাচন আয়োজনকে উৎসাহিত করি। জাতিসংঘের পুরো ব্যবস্থায় আমরা এটি স্পষ্ট করে দিয়েছি যে নির্বাচনে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সব ব্যক্তি নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারেন।

এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে কমনওয়েলথ। এই পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ই নানা আকুফো-আদো। তার সঙ্গে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন। পর্যবেক্ষক দলকে সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট -এর একটি  দল, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।

কমনওয়েলথের এই পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না—সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা। দলটি বাংলাদেশের জাতীয় আইনসহ যেসব মানদণ্ডে বাংলাদেশ নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে, তার আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিচালনা সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবে।

মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসম্বলিত একটি প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ, সকল কমনওয়েলথ সরকার এবং সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বার্তা দিল জাতিসংঘ

আপডেট সময় : ০২:১৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিন আবার জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এরই মধ্যে দেশজুড়ে বিরাজ করছে নির্বাচনি আমেজ; আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা। বাংলাদেশের এই সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। 

তবে, সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, নির্বাচনের জন্য এমন একটি অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে দেশের সব নাগরিক নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন এবং কোনো বাধা ছাড়াই নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন।

গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তাকে প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ এখন নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। আপনি জানেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এই নির্বাচনে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়ে কোনো পরামর্শ দেবেন কি না?

জবাবে ফারহান হক বলেন, অবশ্যই, আমরা নির্বাচন আয়োজনকে উৎসাহিত করি। জাতিসংঘের পুরো ব্যবস্থায় আমরা এটি স্পষ্ট করে দিয়েছি যে নির্বাচনে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সব ব্যক্তি নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারেন।

এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে কমনওয়েলথ। এই পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ই নানা আকুফো-আদো। তার সঙ্গে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন। পর্যবেক্ষক দলকে সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট -এর একটি  দল, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।

কমনওয়েলথের এই পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না—সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা। দলটি বাংলাদেশের জাতীয় আইনসহ যেসব মানদণ্ডে বাংলাদেশ নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে, তার আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিচালনা সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবে।

মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসম্বলিত একটি প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ, সকল কমনওয়েলথ সরকার এবং সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।