সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন গ্যাসের তীব্র সংকট : লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সিলেটের সাবেক দুই ওসি বাধ্যতামূলক অবসরে সিলেটে ময়লার স্তুপে পাওয়া খণ্ডিত পায়ের পাতা নিয়ে আতঙ্ক সিলেট চেম্বার অবকমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ও মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাসহ নিজ বাসায় তিন খুন ‎শিশু ফাহিমা হত্যা ‎ঘাতক জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবিতে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সিলেট বিভাগের মানববন্ধন দৈনিক ঘোষণার ২০২৬ বর্ষেসেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদক শ্রেষ্ঠ ও সংগঠক সাদিক হোসেন এপলু। যেসব অভ্যাস মেনে চললে কিডনি নিয়ে কখনোই ভাবতে হবে না হবিগঞ্জে ডিজিটাল জামিননামা কার্যক্রম নিয়ে আইনজীবী সহকারীদের প্রশিক্ষণ

অবৈধ পথে ইউরোপ প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশ-

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫১ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

২০২৫ সালে অবৈধ পথে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সর্বশেষ অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইউরোপের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া জাতীয়তার মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষে রয়েছেন।

আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের পর মিসরীয় এবং আফগানদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলেও জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

ফ্রন্টেক্সে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনিয়মিত সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে। 

সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা সত্ত্বেও বাংলাদেশিরা ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসনে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছেন।

একই সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগরীয় বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল জাতীয়তাগুলোর একটি। বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আফ্রিকার দেশ মিসর ও এশিয়ার আরেক দেশ আফগানিস্তান।

ফ্রন্টেক্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকেরা বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া জাতীয়তার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। সীমান্ত নজরদারি ও মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রম জোরদার হলেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

ইউরোপে পৌঁছাতে বাংলাদেশিরা মূলত সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগর রুট ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ইতালির উপকূল এবং গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে পৌঁছানোর প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়াভিত্তিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করছেন।

সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশিদের ইউরোপমুখী অভিবাসনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট এবং বিদেশে ভালো আয়ের প্রত্যাশা। মানবপাচার চক্রগুলো এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশিদের ইউরোপে পৌঁছানোর আশ্বাস দিয়ে বিপজ্জনক যাত্রায় প্রলুব্ধ করছে।

ফ্রন্টেক্স বলছে, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতা একটি বড় চালিকা শক্তি। কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগের অভাব অনেককে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে।

ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপমুখী এই প্রবণতা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানো শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর মধ্যে রয়েছেন। তবে ২০২৫ সালে এসে এই সংখ্যা আরো বেড়েছে।

বাংলাদেশিদের পাশাপাশি মিসর ও আফগান নাগরিকরাও ইউরোপে অনিয়মিতভাবে পৌঁছানোদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। মিসরীয়রা মূলত ইতালি ও গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে পৌঁছাচ্ছেন, আর আফগানরা বিভিন্ন স্থল ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করছেন।

সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় সীমান্তে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সীমিত বলেই মনে করছে ফ্রন্টেক্স। ইনফোমাইগ্রেন্টস।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অবৈধ পথে ইউরোপ প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশ-

আপডেট সময় : ০২:০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

২০২৫ সালে অবৈধ পথে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সর্বশেষ অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইউরোপের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া জাতীয়তার মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষে রয়েছেন।

আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের পর মিসরীয় এবং আফগানদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলেও জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

ফ্রন্টেক্সে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনিয়মিত সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে। 

সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা সত্ত্বেও বাংলাদেশিরা ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসনে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছেন।

একই সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগরীয় বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল জাতীয়তাগুলোর একটি। বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আফ্রিকার দেশ মিসর ও এশিয়ার আরেক দেশ আফগানিস্তান।

ফ্রন্টেক্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকেরা বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া জাতীয়তার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। সীমান্ত নজরদারি ও মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রম জোরদার হলেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

ইউরোপে পৌঁছাতে বাংলাদেশিরা মূলত সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগর রুট ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ইতালির উপকূল এবং গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে পৌঁছানোর প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়াভিত্তিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করছেন।

সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশিদের ইউরোপমুখী অভিবাসনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট এবং বিদেশে ভালো আয়ের প্রত্যাশা। মানবপাচার চক্রগুলো এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশিদের ইউরোপে পৌঁছানোর আশ্বাস দিয়ে বিপজ্জনক যাত্রায় প্রলুব্ধ করছে।

ফ্রন্টেক্স বলছে, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতা একটি বড় চালিকা শক্তি। কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগের অভাব অনেককে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে।

ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপমুখী এই প্রবণতা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানো শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর মধ্যে রয়েছেন। তবে ২০২৫ সালে এসে এই সংখ্যা আরো বেড়েছে।

বাংলাদেশিদের পাশাপাশি মিসর ও আফগান নাগরিকরাও ইউরোপে অনিয়মিতভাবে পৌঁছানোদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। মিসরীয়রা মূলত ইতালি ও গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে পৌঁছাচ্ছেন, আর আফগানরা বিভিন্ন স্থল ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করছেন।

সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় সীমান্তে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সীমিত বলেই মনে করছে ফ্রন্টেক্স। ইনফোমাইগ্রেন্টস।