সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান ২২ বাংলাদেশি বন্দিকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া কোম্পানীগঞ্জ অপরাধীদের পুলিশের কঠোর বার্তা সিলেটে খুললো সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনের শরীরে হাম রোগ শনাক্ত সিলেট ডিসি সারওয়ারের ‘পাথরকাণ্ডে’ শুরু, ‘ডেগকাণ্ডে’ সমাপ্তি সিলেট শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ৪ দিনে সাড়ে ১৭ লাখ টাকাসহ সোনা জমা ট্রাফিক সপ্তাহ-২০২৬ এর সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সিলেট মহানগরীর সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ডিসি সারওয়ারকে পদায়ন করল সরকার সিলেটে ভারী বর্ষণ, সুরমা ও কুশিয়ারার ১২ দশমিক ০২ মিটার উচ্চতায় পানি বাড়ছে সিলেটের দুই মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নতুন দানবাক্স স্থাপন ও পূর্বের ডেগ ও দানবাক্স সিলগালা

ক্যামেরা বেঁচে শিশুদের রুটির ব্যবস্থা করছেন গাজার সাংবাদিকরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইলের হামলায় নিহত সাংবাদিক আনাস আল-শরীফ। ছবি: আল-জাজিরা

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

গাজার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক বশির আবু আলশায়ের। ৪২ বছর বয়সি এই ব্যক্তি নিজের ক্যামেরা দিয়ে গাজার ভয়াবহ চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। সাংবাদিকতা করেই চলে তার রুটিরুজি। কিন্তু ইসরাইলের অমানবিকতায় তার সন্তানরা ঠিকমতো খেতে পারছে না। চরম দারিদ্রতায় দিন পাড় করছেন বশির। এবার উপায় না পেয়ে নিজের ক্যামেরা বেঁচে শিশুদের রুটির ব্যবস্থা করছেন অবরুদ্ধ গাজার এই সাংবাদিক।

নিজের অতিপ্রিয় ক্যামেরাটি বিক্রির পোস্ট দিয়েছিলেন বশির। তিনি বলেন, ‘আমার পোস্টটি কোনো প্রচারণা ছিল না; এটি ছিল একজন ডুবে যাওয়া মানুষের খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকার আশা। এক টুকরো রুটি এখন স্বপ্নের মতো। আমি আমার বাচ্চাদের অনাহারে থাকতে দেখেছি, এবং আমার বাড়িতে একেবারেই খাবার অবশিষ্ট ছিল না। আমার ক্যামেরা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার তৃতীয় নয়নের বিনিময়ে হলেও আমার বাচ্চাদের বাঁচান।’ গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস ঘোষণা করেছে, গাজাজুড়ে দুর্ভিক্ষ আরও খারাপ হচ্ছে। এই বিপর্যয় এড়াতে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ লাখ ব্যাগ আটার প্রয়োজন। এছাড়াও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে দুর্ভিক্ষ এখন পর্যন্ত ১৮৮ জনের মৃত্যু ঘটিয়েছে। তাদের বেশির ভাগই শিশু এবং বয়স্ক।

এদিকে, অপুষ্টি এবং ক্ষুধাজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন এমন মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এই সংকটে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক আহমেদ আবদেল আজিজ বলেন, ‘গাজার পরিস্থিতি অবিশ্বাস্য। ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ রাস্তায় পড়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সহায়তা কেন্দ্রগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।’ আহমেদকে নিজের পরিবারের খাওয়ানোর জন্য তার একটি মাইক্রোফোন বিক্রি করতে হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে তার পরিবার মাত্র দুদিন খেতে পেরেছিল। সাংবাদিক বশিরের মতো তিনিও এখন নিজের ক্যামেরা বিক্রি করার কথা ভাবছেন। আবদেল বলেন, ‘আমরা কেবল যুদ্ধের নথিভুক্ত করি না – আমরা বেঁচে থাকার জন্য আমাদের সরঞ্জাম বিক্রি করি’। এক কেজি আটার দাম ১০০ শেকেলে পৌঁছেছে যা প্রায় ২৯ ডলার। আয়ের কোনো উৎস না থাকার কারণে একটি অসহনীয় খরচ। ফটোসাংবাদিক ফাদি থাবেতও একই রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

গাজার জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ফাদির ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। কিন্তু এখন তিনি আর তার সন্তানদের খাওয়াতে পারছেন না। শেষ পর্যন্ত এক বস্তা আটার বিনিময়ে তার পুরো সাংবাদিকতা সংরক্ষণাগার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

সাংবাদিক ফাদি বলেন, ‘আমরা কেবল আমাদের পেটের ক্ষুধায় ভুগছি না বরং আমাদের মর্যাদার অবমাননাতেও ভুগছি। এটি জনগণকে অনাহারে রাখা এবং তাদের ইচ্ছা ভঙ্গ করার একটি ইচ্ছাকৃত নীতি।’ যন্ত্রণায় ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মৃত্যুকে নথিভুক্ত করি, তারপর নিজেরাই বেঁচে থাকি।

শেষ বার্তায় যা লেখেন নিহত আল জাজিরার সাংবাদিক

আনাস আল-শরীফ। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ৫ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদক আনাস আল-শরীফ। 

দখলদার বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার আগে গাজা নিয়ে  সর্বশেষ বার্তা দিয়ে গেছেন আনাস আল-শরীফ। আবেগঘন ওই বার্তায় তিনি গাজাকে ভুলে না যেতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

রোববার (১০ আগস্ট) তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ওই ইচ্ছাপত্রে আল-শরীফ লিখেছেন, তিনি নিজের সর্বশক্তি ও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়েছেন ‘নিজের জনগণের কণ্ঠস্বর ও সহায়তায় নিযুক্ত মানুষ হতে। 

তিনি লেখেন, ‘আমার আশা ছিল আল্লাহ আমাকে দীর্ঘ জীবন দেবেন, যাতে আমি পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে আমাদের দখলকৃত আসকালান (আল-মাজদাল) শহরে ফিরে যেতে পারি। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষণে বেদনা অনুভব করেছি, বহুবার কষ্টের স্বাদ পেয়েছি, তবুও সত্যকে বিকৃত না করে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কখনো দ্বিধা করিনি।’

নিজের মৃত্যুর পর সন্তানদের, বিশেষ করে কন্যা ও ছেলের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘তাদের পাশে থাকুন, আল্লাহর পর আপনি-ই হোন তাদের ভরসা। আমি যদি মৃত্যুবরণ করি, তবে নিজের নীতিতে অটল থেকেই করব।

বার্তায় তিনি বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানান, ফিলিস্তিন ও এর জনগণের পাশে থাকার জন্য, বিশেষ করে নিরপরাধ শিশুদের জন্য। নীরব না থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন ফিলিস্তিনের মুক্তির সেতুবন্ধন হয়ে ওঠেন।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি তোমাদের হাতে অর্পণ করছি ফিলিস্তিনকে— এটা মুসলিম বিশ্বের মুকুটমণি, বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীন মানুষের হৃদস্পন্দন। আমি তোমাদের হাতে অর্পণ করছি এর জনগণকে, নিরপরাধ সেই শিশুদের, যারা কখনো স্বপ্ন দেখার বা নিরাপদে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিকল যেন তোমাদের নীরব না করে, সীমান্ত যেন আটকে না রাখে। ভূমি ও মানুষের মুক্তির পথে সেতু হয়ে ওঠো, যতক্ষণ না আমাদের চুরি যাওয়া মাতৃভূমিতে মর্যাদা ও স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়। ’

নিজের এই উইলে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করা হয় এবং গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়। শেষ লাইনে তিনি লিখেন, ‘গাজাকে ভুলে যেও না… আর তোমাদের আন্তরিক দোয়ার মধ্যে আমাকে ভুলে যেও না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ক্যামেরা বেঁচে শিশুদের রুটির ব্যবস্থা করছেন গাজার সাংবাদিকরা

আপডেট সময় : ০১:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

ইসরাইলের হামলায় নিহত সাংবাদিক আনাস আল-শরীফ। ছবি: আল-জাজিরা

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

গাজার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক বশির আবু আলশায়ের। ৪২ বছর বয়সি এই ব্যক্তি নিজের ক্যামেরা দিয়ে গাজার ভয়াবহ চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। সাংবাদিকতা করেই চলে তার রুটিরুজি। কিন্তু ইসরাইলের অমানবিকতায় তার সন্তানরা ঠিকমতো খেতে পারছে না। চরম দারিদ্রতায় দিন পাড় করছেন বশির। এবার উপায় না পেয়ে নিজের ক্যামেরা বেঁচে শিশুদের রুটির ব্যবস্থা করছেন অবরুদ্ধ গাজার এই সাংবাদিক।

নিজের অতিপ্রিয় ক্যামেরাটি বিক্রির পোস্ট দিয়েছিলেন বশির। তিনি বলেন, ‘আমার পোস্টটি কোনো প্রচারণা ছিল না; এটি ছিল একজন ডুবে যাওয়া মানুষের খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকার আশা। এক টুকরো রুটি এখন স্বপ্নের মতো। আমি আমার বাচ্চাদের অনাহারে থাকতে দেখেছি, এবং আমার বাড়িতে একেবারেই খাবার অবশিষ্ট ছিল না। আমার ক্যামেরা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার তৃতীয় নয়নের বিনিময়ে হলেও আমার বাচ্চাদের বাঁচান।’ গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস ঘোষণা করেছে, গাজাজুড়ে দুর্ভিক্ষ আরও খারাপ হচ্ছে। এই বিপর্যয় এড়াতে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ লাখ ব্যাগ আটার প্রয়োজন। এছাড়াও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে দুর্ভিক্ষ এখন পর্যন্ত ১৮৮ জনের মৃত্যু ঘটিয়েছে। তাদের বেশির ভাগই শিশু এবং বয়স্ক।

এদিকে, অপুষ্টি এবং ক্ষুধাজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন এমন মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এই সংকটে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক আহমেদ আবদেল আজিজ বলেন, ‘গাজার পরিস্থিতি অবিশ্বাস্য। ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ রাস্তায় পড়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সহায়তা কেন্দ্রগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।’ আহমেদকে নিজের পরিবারের খাওয়ানোর জন্য তার একটি মাইক্রোফোন বিক্রি করতে হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে তার পরিবার মাত্র দুদিন খেতে পেরেছিল। সাংবাদিক বশিরের মতো তিনিও এখন নিজের ক্যামেরা বিক্রি করার কথা ভাবছেন। আবদেল বলেন, ‘আমরা কেবল যুদ্ধের নথিভুক্ত করি না – আমরা বেঁচে থাকার জন্য আমাদের সরঞ্জাম বিক্রি করি’। এক কেজি আটার দাম ১০০ শেকেলে পৌঁছেছে যা প্রায় ২৯ ডলার। আয়ের কোনো উৎস না থাকার কারণে একটি অসহনীয় খরচ। ফটোসাংবাদিক ফাদি থাবেতও একই রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

গাজার জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ফাদির ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। কিন্তু এখন তিনি আর তার সন্তানদের খাওয়াতে পারছেন না। শেষ পর্যন্ত এক বস্তা আটার বিনিময়ে তার পুরো সাংবাদিকতা সংরক্ষণাগার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

সাংবাদিক ফাদি বলেন, ‘আমরা কেবল আমাদের পেটের ক্ষুধায় ভুগছি না বরং আমাদের মর্যাদার অবমাননাতেও ভুগছি। এটি জনগণকে অনাহারে রাখা এবং তাদের ইচ্ছা ভঙ্গ করার একটি ইচ্ছাকৃত নীতি।’ যন্ত্রণায় ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মৃত্যুকে নথিভুক্ত করি, তারপর নিজেরাই বেঁচে থাকি।

শেষ বার্তায় যা লেখেন নিহত আল জাজিরার সাংবাদিক

আনাস আল-শরীফ। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ৫ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদক আনাস আল-শরীফ। 

দখলদার বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার আগে গাজা নিয়ে  সর্বশেষ বার্তা দিয়ে গেছেন আনাস আল-শরীফ। আবেগঘন ওই বার্তায় তিনি গাজাকে ভুলে না যেতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

রোববার (১০ আগস্ট) তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ওই ইচ্ছাপত্রে আল-শরীফ লিখেছেন, তিনি নিজের সর্বশক্তি ও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়েছেন ‘নিজের জনগণের কণ্ঠস্বর ও সহায়তায় নিযুক্ত মানুষ হতে। 

তিনি লেখেন, ‘আমার আশা ছিল আল্লাহ আমাকে দীর্ঘ জীবন দেবেন, যাতে আমি পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে আমাদের দখলকৃত আসকালান (আল-মাজদাল) শহরে ফিরে যেতে পারি। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষণে বেদনা অনুভব করেছি, বহুবার কষ্টের স্বাদ পেয়েছি, তবুও সত্যকে বিকৃত না করে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কখনো দ্বিধা করিনি।’

নিজের মৃত্যুর পর সন্তানদের, বিশেষ করে কন্যা ও ছেলের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘তাদের পাশে থাকুন, আল্লাহর পর আপনি-ই হোন তাদের ভরসা। আমি যদি মৃত্যুবরণ করি, তবে নিজের নীতিতে অটল থেকেই করব।

বার্তায় তিনি বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানান, ফিলিস্তিন ও এর জনগণের পাশে থাকার জন্য, বিশেষ করে নিরপরাধ শিশুদের জন্য। নীরব না থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন ফিলিস্তিনের মুক্তির সেতুবন্ধন হয়ে ওঠেন।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি তোমাদের হাতে অর্পণ করছি ফিলিস্তিনকে— এটা মুসলিম বিশ্বের মুকুটমণি, বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীন মানুষের হৃদস্পন্দন। আমি তোমাদের হাতে অর্পণ করছি এর জনগণকে, নিরপরাধ সেই শিশুদের, যারা কখনো স্বপ্ন দেখার বা নিরাপদে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিকল যেন তোমাদের নীরব না করে, সীমান্ত যেন আটকে না রাখে। ভূমি ও মানুষের মুক্তির পথে সেতু হয়ে ওঠো, যতক্ষণ না আমাদের চুরি যাওয়া মাতৃভূমিতে মর্যাদা ও স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়। ’

নিজের এই উইলে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করা হয় এবং গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়। শেষ লাইনে তিনি লিখেন, ‘গাজাকে ভুলে যেও না… আর তোমাদের আন্তরিক দোয়ার মধ্যে আমাকে ভুলে যেও না।