সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে এসএসসিতে শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ফেল ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ সিলেট দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ সিলেটে স্বামী উপপরিচালক ক্ষমতার কেন্দ্রে স্ত্রী! জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর দেশে প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মাধবপুর ডিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার সিলেটে হামের উপসর্গে মৃত্যু ৩ সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেপ্তার হবিগঞ্জ মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২ সিলেটে কাজ করতে সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মচারী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, আহত ২

চলন্ত বাসে ফের ডাকাতি নারীর শ্লীলতাহানি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫ ৩৭৪ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ‘আল ইমরান’ পরিবহণের একটি চলন্ত বাসে যাত্রীদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ডাকাতি হয়েছে। এ সময় নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত ওই বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতদল যাত্রীদের সবকিছু লুটে নেয়। রাতভর যাত্রীদের নিয়ে চার-পাঁচবার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়া যাওয়া-আসা করে ডাকাতরা। ভোরে ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর চালক ও যাত্রীরা টাঙ্গাইল সদর থানায় যান।

বাসের চালক, সুপারভাইজার ও যাত্রীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে যাত্রীবাহী বাসটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। বাসের সহকারী আতিকুর রহমান জানান, পথে সাভারের নরসিংহপুর, বাইপাইল, আশুলিয়া থেকে কিছু যাত্রী ওঠেন। প্রায় ১০ নারীসহ ৪৫ যাত্রী নিয়ে বাসটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা অতিক্রম করে।

যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সংযোগ সড়কের কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর যাত্রীবেশী ৮-১০ জন ডাকাত ছুরি, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্রের মুখে চালকের কাছ থেকে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে তারা যাত্রী, বাসের চালকসহ সবার চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে বাসটি ঘুরিয়ে আবার ঢাকার দিকে চলতে থাকে। এ সময় প্রত্যেক যাত্রীকে তল্লাশি করে মুঠোফোন, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্য মালামাল লুটে নেয়। তারা বাসটি নিয়ে সাভারের চন্দ্রা-আশুলিয়া পর্যন্ত যায়। পরে রাতভর কয়েকবার বাসটি নিয়ে ওই এলাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত চক্কর দেয়।

বাসের চালক আবেদ আলী জানান, সারা রাতে বাসটি নিয়ে ডাকাতরা চার-পাঁচবার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়া যাওয়া-আসা করে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের বাইপাস সড়কের শিবপুরে বাসটি রেখে ডাকাতদল চলে যায়। পরে যাত্রীদের নিয়ে সকালে টাঙ্গাইল সদর থানায় যান। সকালে সদর থানায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বাসের স্টাফ ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছেন।

বাসযাত্রী বগুড়ার আদমদীঘির জুয়েল মিয়া জানান, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য নারী যাত্রীদের তল্লাশির সময় শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। তার চোখ-মুখ বাঁধা ছিল। তবে তিনি নারী যাত্রীদের কান্নাকাটি ও কাকুতি-মিনতি শুনতে পান।

অপর যাত্রী রংপুরের কাউনিয়া এলাকার আকাশ মিয়া জানান, হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে ডাকাতরা প্রত্যেক যাত্রীর দেহ কয়েকবার তল্লাশি করে। যার যা কিছু ছিল সব নিয়ে যায়।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহম্মেদ বলেন, ডাকাতদলকে চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, বাসের এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দুপুরে মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ ও ডিবির একাধিক টিম ডাকাতদের গ্রেফতারের জন্য মাঠে নেমেছে।

এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি একই মহাসড়কে ইউনিক রয়েলসের একটি বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। ২০২২ সালের ২ আগস্ট একই কায়দায় কুষ্টিয়াগামী একটি বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চলন্ত বাসে ফের ডাকাতি নারীর শ্লীলতাহানি

আপডেট সময় : ০৯:২০:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ‘আল ইমরান’ পরিবহণের একটি চলন্ত বাসে যাত্রীদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ডাকাতি হয়েছে। এ সময় নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত ওই বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতদল যাত্রীদের সবকিছু লুটে নেয়। রাতভর যাত্রীদের নিয়ে চার-পাঁচবার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়া যাওয়া-আসা করে ডাকাতরা। ভোরে ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর চালক ও যাত্রীরা টাঙ্গাইল সদর থানায় যান।

বাসের চালক, সুপারভাইজার ও যাত্রীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে যাত্রীবাহী বাসটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। বাসের সহকারী আতিকুর রহমান জানান, পথে সাভারের নরসিংহপুর, বাইপাইল, আশুলিয়া থেকে কিছু যাত্রী ওঠেন। প্রায় ১০ নারীসহ ৪৫ যাত্রী নিয়ে বাসটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা অতিক্রম করে।

যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সংযোগ সড়কের কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর যাত্রীবেশী ৮-১০ জন ডাকাত ছুরি, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্রের মুখে চালকের কাছ থেকে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে তারা যাত্রী, বাসের চালকসহ সবার চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে বাসটি ঘুরিয়ে আবার ঢাকার দিকে চলতে থাকে। এ সময় প্রত্যেক যাত্রীকে তল্লাশি করে মুঠোফোন, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্য মালামাল লুটে নেয়। তারা বাসটি নিয়ে সাভারের চন্দ্রা-আশুলিয়া পর্যন্ত যায়। পরে রাতভর কয়েকবার বাসটি নিয়ে ওই এলাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত চক্কর দেয়।

বাসের চালক আবেদ আলী জানান, সারা রাতে বাসটি নিয়ে ডাকাতরা চার-পাঁচবার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়া যাওয়া-আসা করে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের বাইপাস সড়কের শিবপুরে বাসটি রেখে ডাকাতদল চলে যায়। পরে যাত্রীদের নিয়ে সকালে টাঙ্গাইল সদর থানায় যান। সকালে সদর থানায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বাসের স্টাফ ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছেন।

বাসযাত্রী বগুড়ার আদমদীঘির জুয়েল মিয়া জানান, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য নারী যাত্রীদের তল্লাশির সময় শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। তার চোখ-মুখ বাঁধা ছিল। তবে তিনি নারী যাত্রীদের কান্নাকাটি ও কাকুতি-মিনতি শুনতে পান।

অপর যাত্রী রংপুরের কাউনিয়া এলাকার আকাশ মিয়া জানান, হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে ডাকাতরা প্রত্যেক যাত্রীর দেহ কয়েকবার তল্লাশি করে। যার যা কিছু ছিল সব নিয়ে যায়।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহম্মেদ বলেন, ডাকাতদলকে চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, বাসের এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দুপুরে মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ ও ডিবির একাধিক টিম ডাকাতদের গ্রেফতারের জন্য মাঠে নেমেছে।

এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি একই মহাসড়কে ইউনিক রয়েলসের একটি বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। ২০২২ সালের ২ আগস্ট একই কায়দায় কুষ্টিয়াগামী একটি বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।