সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ডিসির দেয়া ৫ লাখ টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন কারবালার যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (রাঃ) ও মাওলা আবুল ফজল আব্বাস আলামদার (আঃ)-এর শাহাদাত হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স বিতর্ক আর এক রহস্যময় বার্তা দিলেন সাবেক সিটি মেয়র ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বিত্তান্ত তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগর শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন,আরিফ সামাদ সভাপতি, মাহমুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে,পরিকল্পনা সভায় সিসিক প্রশাসক মার্কিন আধিপত্যের অবসান,বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার এখন চীনের হাতে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাধবপুরে অপহরণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ

দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল সড়কে অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড, যানজটে ভোগান্তি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫ ৯১ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কের দুপাশ দখল করে একাধিক অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড বসিয়ে এক শ্রেণির অসাধু চক্র চাঁদা আদায় করছে। ফলে ব্যস্ত সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে যানজটের তৈরি হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, চালক ও পথচারীরা।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ব্যস্ততম চন্ডিপুল এলাকায় ত্রিমুখী রাস্তার দুপাশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার একাধিক অবৈধ স্ট্যান্ড। সড়কের দুই পাশের এসব স্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন উপজেলার উদ্দেশে ছেড়ে যায় অটোরিকশা। সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করাসহ পার্কিং করে রাখা হয় যত্রতত্র। ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শহরমুখী মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই এলাকার কৃষকদলের এক নেতার শেল্টারে শ্রমিকদলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা চলাচলের রাস্তা দখল করে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো বসিয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। প্রতিটি স্ট্যান্ডে পার্কিং করা যানবাহনগুলো থেকে নেওয়া হচ্ছে দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা।

সরেজমিন দেখা যায়, সিলেট শহরের প্রবেশ পথ চন্ডিপুলে ত্রিমুখী রাস্তার দুপাশে গড়ে উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার একাধিক অবৈধ স্ট্যান্ড। কুশিয়ারা কনভেনশন হলের সম্মুখের সড়ক থেকে দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রী কলেজ পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। সড়কের ঠিক বিপরীতে সিএনজিপাম্পের সামনের সড়ক থেকে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত চলাচলের রাস্তা দখল করে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো যাত্রী উঠানামা করছেন চালকেরা। এতে ব্যস্ততম ওই সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রী কলেজের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। অটোরিকশা ও অন্যান্য গাড়ির কারণে রাস্তার দুই পাশে মনে হয় এখানে গাড়ির হাট বসেছে। এসব স্ট্যান্ডে প্রতিটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ২০ থেকে ৪০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। 

জানা গেছে, শহর থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে ৬-৭ হাজারের অধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। এসব অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। কোনো চালক চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার সিরিয়াল বাতিল করা হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করাসহ ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়। চাঁদা আদায়কারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। 

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকেরা জানান, প্রতিবার যাত্রী নিয়ে যাওয়া-আসার সময় শ্রমিক সংগঠনের নির্দেশে তাদের নিয়োজিত লোকজন ২০ টাকা শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা নিয়ে যায়। 

কাসেম নামে এক চালক বলেন, ‘প্রতিটি স্টান্ডে দুজন করে দায়িত্বে থেকে চাঁদা আদায়সহ গাড়ির সিরিয়াল ঠিক করে। চাঁদা না দিলে হয়রানি করা হয়।

এ বিষয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মো. জাকারিয়া আহমেদ বলেন, ‘সিলেটে ৪০-৫০ বছর ধরে অটোরিকশার ২৭টি স্ট্যান্ড রয়েছে। এগুলো অনুমোদিত না হলেও অনেকটা অনুমোদিতই বলা যায়। এখানে আগে স্ট্যান্ডের আলাদা সাইনবোর্ড ছিল, সেটা দুই বছর আগে ট্রাফিক বিভাগ তুলে নিয়েছে স্থায়ীভাবে করে দেওয়ার জন্য। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগে বারবার আবেদন করেও কোনো সুরাহা মিলছে না। স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা করে দিলে যত্রতত্র এ রকম স্ট্যান্ড থাকবে না।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিউর রহমান খান বলেন, ‘অটোরিকশার স্ট্যান্ড করার বিষয়ে সিটি করপোরেশন থেকে এখনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা শিগগিরই অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে অভিযানে নামব।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-ট্রাফিক) মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সিলেট নগরে কোনো বৈধ স্ট্যান্ড নেই। তবে অনেক আগে থেকেই অবৈধভাবে কিছু স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। যত্রতত্র অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় শহরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব স্ট্যান্ড উচ্ছেদে সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিলে আমরা সহযোগিতা করব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল সড়কে অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড, যানজটে ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৯:১৪:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কের দুপাশ দখল করে একাধিক অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড বসিয়ে এক শ্রেণির অসাধু চক্র চাঁদা আদায় করছে। ফলে ব্যস্ত সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে যানজটের তৈরি হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, চালক ও পথচারীরা।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ব্যস্ততম চন্ডিপুল এলাকায় ত্রিমুখী রাস্তার দুপাশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার একাধিক অবৈধ স্ট্যান্ড। সড়কের দুই পাশের এসব স্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন উপজেলার উদ্দেশে ছেড়ে যায় অটোরিকশা। সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করাসহ পার্কিং করে রাখা হয় যত্রতত্র। ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শহরমুখী মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই এলাকার কৃষকদলের এক নেতার শেল্টারে শ্রমিকদলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা চলাচলের রাস্তা দখল করে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো বসিয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। প্রতিটি স্ট্যান্ডে পার্কিং করা যানবাহনগুলো থেকে নেওয়া হচ্ছে দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা।

সরেজমিন দেখা যায়, সিলেট শহরের প্রবেশ পথ চন্ডিপুলে ত্রিমুখী রাস্তার দুপাশে গড়ে উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার একাধিক অবৈধ স্ট্যান্ড। কুশিয়ারা কনভেনশন হলের সম্মুখের সড়ক থেকে দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রী কলেজ পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। সড়কের ঠিক বিপরীতে সিএনজিপাম্পের সামনের সড়ক থেকে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত চলাচলের রাস্তা দখল করে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো যাত্রী উঠানামা করছেন চালকেরা। এতে ব্যস্ততম ওই সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রী কলেজের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। অটোরিকশা ও অন্যান্য গাড়ির কারণে রাস্তার দুই পাশে মনে হয় এখানে গাড়ির হাট বসেছে। এসব স্ট্যান্ডে প্রতিটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ২০ থেকে ৪০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। 

জানা গেছে, শহর থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে ৬-৭ হাজারের অধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। এসব অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। কোনো চালক চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার সিরিয়াল বাতিল করা হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করাসহ ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়। চাঁদা আদায়কারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। 

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকেরা জানান, প্রতিবার যাত্রী নিয়ে যাওয়া-আসার সময় শ্রমিক সংগঠনের নির্দেশে তাদের নিয়োজিত লোকজন ২০ টাকা শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা নিয়ে যায়। 

কাসেম নামে এক চালক বলেন, ‘প্রতিটি স্টান্ডে দুজন করে দায়িত্বে থেকে চাঁদা আদায়সহ গাড়ির সিরিয়াল ঠিক করে। চাঁদা না দিলে হয়রানি করা হয়।

এ বিষয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মো. জাকারিয়া আহমেদ বলেন, ‘সিলেটে ৪০-৫০ বছর ধরে অটোরিকশার ২৭টি স্ট্যান্ড রয়েছে। এগুলো অনুমোদিত না হলেও অনেকটা অনুমোদিতই বলা যায়। এখানে আগে স্ট্যান্ডের আলাদা সাইনবোর্ড ছিল, সেটা দুই বছর আগে ট্রাফিক বিভাগ তুলে নিয়েছে স্থায়ীভাবে করে দেওয়ার জন্য। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগে বারবার আবেদন করেও কোনো সুরাহা মিলছে না। স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা করে দিলে যত্রতত্র এ রকম স্ট্যান্ড থাকবে না।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিউর রহমান খান বলেন, ‘অটোরিকশার স্ট্যান্ড করার বিষয়ে সিটি করপোরেশন থেকে এখনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা শিগগিরই অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে অভিযানে নামব।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-ট্রাফিক) মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সিলেট নগরে কোনো বৈধ স্ট্যান্ড নেই। তবে অনেক আগে থেকেই অবৈধভাবে কিছু স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। যত্রতত্র অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় শহরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব স্ট্যান্ড উচ্ছেদে সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিলে আমরা সহযোগিতা করব।